দেশের খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি শুধু তার মধুর কণ্ঠের জন্যই নয়, বরং জীবনের প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তার অদম্য মনোবলের জন্যও সমানভাবে প্রশংসিত। সম্প্রতি ন্যান্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, মাতৃত্ব, ওজন ও মানসিক সংগ্রামের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এই গল্প বহু মা এবং সঙ্গীতপ্রেমীর কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ন্যান্সি খুব কম বয়সে সঙ্গীত জগতে পরিচিতি পান। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে হয় এবং ১৯ বছর বয়সে তার কন্যা রোদেলা জন্মগ্রহণ করেন। ন্যান্সি লিখেছেন, “কন্যার জন্মের পরে ব্যস্ততা বেড়ে গেলেও স্বাস্থ্যের দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। সাড়ে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে সিঙ্গেল মাদার হিসেবে আমি আলাদা হয়ে গেলাম। ছয় মাসের মধ্যে আমার ওজন বেড়ে ৫৪ কেজি থেকে ৬২ কেজি হয়ে গেল।”
তার পরবর্তী জীবনচক্রও সহজ ছিল না। পরিকল্পনা ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে, পুলিশি হয়রানি এবং দ্বিতীয় সন্তান নায়লার জন্মের সময় ন্যান্সির ওজন ৮৩ কেজি পর্যন্ত পৌঁছায়। তিনি জানান, “হাঁটতে কষ্ট হত, দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না, শুয়ে থাকলেও নিজে একপাশ থেকে অন্যপাশ যেতে পারতাম না।”
দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর ন্যান্সি জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন। ক্যারিয়ার তখন স্থবির, বিতর্ক তুঙ্গে। মানসিক চাপ এবং সন্তানদের যত্নের কারণে তিনি ধীরে ধীরে ওজন কমিয়ে ৭২ কেজি-তে পৌঁছান। এরপর ২৭ বছর ৫ মাস বয়সে তৃতীয় কন্যা আলিনা জন্ম নেন, কিন্তু জন্মের ১৭ দিন পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরবর্তীতে ন্যান্সির দ্বিতীয় সংসারও ভেঙে যায়। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। নিজেকে পুনর্গঠন করে স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার দিকে মনোযোগ দেন। ২০২১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেন এবং বিয়ের এক বছরের মাথায় জন্ম হয় চতুর্থ সন্তান গুনগুন।
ন্যান্সি ওজন ও সুস্থতার বিষয়ে শিক্ষণীয় বক্তব্য দিয়েছেন:
“ওজন কমানো কোনো জাদু নয়। নিজেকে সময় দিন, ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অন্যের রুটিন অন্ধের মতো অনুসরণ করবেন না। মানসিক সুস্থতা মায়েদের ভীষণ প্রয়োজন। ঘরে সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করুন। সব মায়েদের জন্য ভালোবাসা।”
নিচের টেবিলে ন্যান্সির জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ওজন পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা দেখানো হলো:
| সময়কাল/ঘটনা | বয়স (বছর) | ওজন (কেজি) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| প্রথম সন্তান রোদেলা জন্ম | ১৯ | ৫৪ → ৬২ | সিঙ্গেল মাদার হিসেবে ব্যস্ততা বৃদ্ধি |
| দ্বিতীয় সন্তান নায়লা জন্ম | ২৫ | ৬২ → ৮৩ | পুলিশি হয়রানি ও শারীরিক কষ্টের সময় |
| নায়লার পর | ২৬ | ৭২ | স্বাভাবিক ওজন কমানো, সন্তানদের যত্নে মনোযোগ |
| তৃতীয় সন্তান আলিনা জন্ম | ২৭.৫ | – | সন্তান মৃত্যুর কারণে মানসিক কষ্ট |
| তৃতীয় বিয়ে ও গুনগুন জন্ম | ৩৩.৫ | ৬৬ → ৭২ | জীবন নতুন করে উপভোগ, পরিবারের সুখে ওজন বৃদ্ধি |
ন্যান্সির জীবনসংগ্রামের গল্প প্রমাণ করে, ব্যক্তিগত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিজের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার দিকে মনোযোগ রাখা কতটা অপরিহার্য। তার সংগ্রামী মনোভাব ও ইতিবাচক জীবনধারা অনুপ্রাণিত করে সকল নারী ও মা’দের জন্য।
