পাকিস্তানে টানা পাঁচ বছর স্পটিফাই শীর্ষে তালহা আনজুম

পাকিস্তানের জনপ্রিয় মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাইয়ের সাম্প্রতিক প্রকাশিত পাঁচ বছরের ‘রিওয়াইন্ড’ পর্যালোচনায় টানা পঞ্চমবারের মতো সর্বাধিক স্ট্রিম হওয়া শিল্পী হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন হিপ-হপ সংগীতশিল্পী তালহা আনজুম। এ তথ্য স্পটিফাই পাকিস্তানের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে প্রকাশ করা হয়। এই ধারাবাহিক সাফল্য পাকিস্তানের সংগীত অঙ্গনে স্বাধীন হিপ-হপ ধারার ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তালহা আনজুম দীর্ঘদিন ধরে ‘ইয়াং স্টানার্স’ নামের সংগীতদলের আরেক সদস্য তালহা ইউনুসের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। তাদের গানের ধরণে সামাজিক বাস্তবতা, পরিচয়বোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং সমকালীন তরুণ সমাজের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন পাওয়া যায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘গুমান’, ‘আফসানায়’, ‘বাজ’, ‘ডাউনার্স অ্যাট ডাস্ক’ এবং ‘লাম’। চলতি বছরে তিনি ‘২এএম ইন লন্ডন’ শিরোনামে নতুন একটি সিঙ্গেল প্রকাশ করেন।

স্পটিফাইয়ের এই পাঁচ বছরের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক বছরে ১৪০ জনের বেশি পাকিস্তানি শিল্পীর গান ব্যাপকভাবে স্ট্রিম হয়েছে। এটি দেশটির ডিজিটাল মিউজিক ইকোসিস্টেমে শ্রোতাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রতিফলন।

শীর্ষ শিল্পীদের তালিকায় তালহা আনজুমের পরবর্তী অবস্থানে রয়েছেন আতিফ আসলাম, উমাইর, হাসান রহিম, নুসরাত ফতেহ আলি খান, তালহা ইউনুস, রাহাত ফতেহ আলি খান, আবদুল হান্নান, মানু এবং আসিম আজহার।

স্পটিফাই পাকিস্তানের শীর্ষ শিল্পী (পাঁচ বছরের রিওয়াইন্ড তালিকা)

ক্রমশিল্পীর নাম
তালহা আনজুম
আতিফ আসলাম
উমাইর
হাসান রহিম
নুসরাত ফতেহ আলি খান
তালহা ইউনুস
রাহাত ফতেহ আলি খান
আবদুল হান্নান
মানু
১০আসিম আজহার

এই তালিকায় মূলধারার পপ সংগীতশিল্পীদের পাশাপাশি সুফি ও ক্লাসিকাল ধারার শিল্পীরাও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে আতিফ আসলাম এবং নুসরাত ফতেহ আলি খান ও রাহাত ফতেহ আলি খান দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছেন।

স্পটিফাইয়ের প্রকাশিত পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সংগীতপ্রবাহে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা বিশেষ করে হিপ-হপ ও ফিউশন ঘরানায় দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন, যেখানে তালহা আনজুম সেই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে অবস্থান করছেন।

এছাড়া পাঁচ বছরের জনপ্রিয় গানের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ‘ঝোল’, ‘পাল পাল’, ‘উইশেস’, ‘বিখরা’, ‘মান্দ’, ‘তু হ্যায় কাহাঁ’, ‘ইরাদায়’, ‘কাহানি শুনো’, ‘নাহি মিলতা’ এবং ‘পাসুরি’ উল্লেখযোগ্য স্থান পেয়েছে। এসব গান পাকিস্তানের সমসাময়িক সংগীতধারাকে আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আরও বিস্তৃত করেছে।

সব মিলিয়ে স্পটিফাইয়ের এই বিশ্লেষণ পাকিস্তানের সংগীত শিল্পে ধারাবাহিক পরিবর্তন, ডিজিটাল গ্রহণযোগ্যতা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উত্থানের একটি চিত্র তুলে ধরছে।