পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না [ Pagol Chara Duniya Chole Na ]

“পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না” গানটি খুবই জনপ্রিয় একটি লালন গীতি। গানটির গীতিকার লালন শাহ্‌ । লালন ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালি যিনি ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ, মহাত্মা লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত।

পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না [ Pagol Chara Duniya Chole Na ]

গীতিকারঃ লালন শাহ্‌

পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না [ Pagol Chara Duniya Chole Na ]

খাজার নামে পাগল হইয়া
ঘুরি আমি আজমীর গিয়া রে।
খাজার নামে পাগল হইয়া
ঘুরি আমি আজমীর গিয়া রে।
এত করে ডাকলাম তারে,
এত করে ডাকলাম তারে,
তবু দেখা পাইলাম না।
পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না,
পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না।

তুই পাগল, তোর মনও পাগল

তুই পাগল, তোর মনও পাগল
পাগল, পাগল, করিস না
পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না,
পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না।

মুর্শিদ আছে দেশে দেশে,
এই জগতে কত বেশে রে,
ধরতে পারলে পাবিরে তুই,
ধরতে পারলে পাবিরে তুই,
বেহেশতেরি নাজরানা,
পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না,
পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না।
পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না,
পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না।

লালন শাহঃ

পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না গানের গীতিকার লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক। যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক এই মনোভাব থেকেই তিনি তার গান রচনা করেছেন। তার গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ও অ্যালেন গিন্সবার্গের  মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে। তার গানগুলো মূলত বাউল গান হলেও বাউল সম্প্রদায় ছাড়াও যুগে যুগে বহু সঙ্গীতশিল্পীর কণ্ঠে লালনের এই গানসমূহ উচ্চারিত হয়েছে।

লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার ছেউড়িয়াতে একটি আখড়া তৈরি করেন, যেখানে তিনি তার শিষ্যদের নীতি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। তার শিষ্যরা তাকে “সাঁই” বলে সম্বোধন করতেন। তিনি প্রতি শীতকালে আখড়ায় একটি ভান্ডারা (মহোৎসব) আয়োজন করতেন। যেখানে সহস্রাধিক শিষ্য ও সম্প্রদায়ের লোক একত্রিত হতেন এবং সেখানে সংগীত ও আলোচনা হত।

১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর লালন ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন। 

 

 

 

Leave a Comment