পাহাড়ের কান্না দেখে [ Paharer Kanna Dekhe ]

“পাহাড়ের কান্না দেখে” গানটি গেয়েছেন সুবীর নন্দী । গানটি লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান এবং  খন্দকার নুরুল আলম । 

পাহাড়ের কান্না দেখে [ Paharer Kanna Dekhe ]

গীতিকারঃ মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান

সুরকারঃ খন্দকার নুরুল আলম

প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ সুবীর নন্দী 

পাহাড়ের কান্না দেখে [ Paharer Kanna Dekhe ]

পাহাড়ের কান্না দেখে।।
তোমরা তাকে ঝর্না বলো
ঐ পাহাড়টা বোবা বলে কিছু বলে না
তোমরা কেন বোঝনা যে ?
কারো বুকের দুঃখ নিয়ে কাব্য চলেনা।
পাহাড়ের কান্না দেখে
তোমরা তাকে ঝর্না বলো।
ধরতে বুকে এক ফোটা জল
কেউ জানেনা কত ব্যথায়
মেঘের হৃদয় হল কাজল
তোমরা দেখো বৃষ্টি নূপুর।।
দেখনা,আঘাত ছাড়া মেঘ তো গলেনা
ঐ কালো মেঘ বোবা বলে কিছু বলেনা
তোমরা কেন বোঝনা যে ?
কারো বুকের দুঃখ নিয়ে কাব্য চলেনা।
পাহাড়ের কান্না দেখে
তোমরা তাকে ঝর্না বলো।
ফুটতে বনে এক গোছা ফুল
কেউ জানেনা কি আগুনে
রঙ্গের নেশা হলো আকুল
তোমরা দেখ মিষ্টি বরণ।।
দেখনা,দহন ছাড়া অগ্নি জ্বলেনা
ঐ ফোটা ফুল বোবা বলে কিছুই বলেনা
তোমরা কেন বোঝনা যে?
কারো বুকের দুঃখ নিয়ে কাব্য চলেনা।
পাহাড়ের কান্না দেখে

মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানঃ

পাহাড়ের কান্না দেখে গানের গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান বাংলাদেশের একজন গীতিকবি ও লেখক। তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনী-চিত্রনাট্য-সংলাপ রচয়িতা। তিনি ১৯৮৪ ও ১৯৮৬ সালে শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে এবং ২০০৮ সালে শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

১৯৪৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান ঝিনাইদহ জেলার লক্ষ্নীপুরের ফুরসুন্দিতে মামাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি যশোর জেলার সদর উপজেলার খড়কীতে। তার বাবার নাম শাহাদাত আলী এবং মায়ের নাম সাজেদা খাতুন। ১৯৬৫ সাল থেকে বাংলাদেশে বেতারে নিয়মিত গীতিকার হিসেবে কাজ করছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। ইতিমধ্যে তার প্রকাশিত গানের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। ১৯৭৩ সাল থেকে তিনি নিয়মিত ভাবে চলচ্চিত্রের জন্য গান লিখছেন ।

খন্দকার নুরুল আলমঃ

পাহাড়ের কান্না দেখে গানের সুরকার খন্দকার নুরুল আলম একজন স্বনামধন্য বাংলাদেশী সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার। তিনি কণ্ঠশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশ করলেও জনপ্রিয়তা লাভ করেন সঙ্গীত পরিচালনায়। দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে পরিচালনা করেছেন ছয়শতাধিক গান। খন্দকার নুরুল আলম ১৯৩৯ সালের ১৭ আগস্ট ভারতের আসামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা নেসারউদ্দিন খন্দকার ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও মা ফাতেমা খাতুন।পড়াকালীন তার সুর ও সঙ্গীতে আগ্রহ জন্মে এবং তার সঙ্গীত প্রতিভার কথা ছড়িয়ে পড়ে।চলচ্চিত্রের গান ছাড়াও নুরুল আলম আধুনিক গান, ফোক গান, দেশের গান, ও বিখ্যাত কিছু কবিতায় সুরারোপ করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় ক্রীড়া সঙ্গীত, স্কাউট মার্চ সঙ্গীত, আনসার-ভিডিপি দলের সঙ্গীত, রোটারি ক্লাবের বাংলা ও ইংরেজি উভয় গানের সুর করেন।

তিনি ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি পরলোক গমন করেন।

সুবীর নন্দীঃ

পাহাড়ের কান্না দেখে গানের গায়ক সুবীর নন্দী একজন বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী। তিনি মূলত চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। চলচ্চিত্রের সংগীতে তাঁর অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করেন ।

। চলচ্চিত্রে নন্দীর গাওয়া উল্লেখযোগ্য গান হল ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘তুমি এমনই জাল পেতেছ’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, ‘একটা ছিল সোনার কন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’। তাঁর প্রকাশিত প্রথম গানের অ্যালবাম সুবীর নন্দীর গান (১৯৮১) ।

সুবীর নন্দীর ডাক নাম বাচ্চু। সুবীর নন্দী হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় নন্দী পাড়া নামক মহল্লায় এক কায়স্থ সম্ভ্রান্ত সংগীত পরিবারে ১৯ নভেম্বর ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মামার বাড়ি শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাদেআলিশা গ্রামে। তাঁর পিতা সুধাংশু নন্দী ছিলেন একজন চিকিৎসক ও সংগীতপ্রেমী। তাঁর মা পুতুল রানীও গান গাইতেন কিন্তু রেডিও বা পেশদারিত্বে আসেন নি। ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাই-বোনদের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নিতে শুরু করেন ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে। তবে সংগীতে তাঁর হাতেখড়ি মায়ের কাছেই। বাবার চাকরি সূত্রে তাঁর শৈশবকাল চা বাগানেই কেটেছে। পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত বাগানেই ছিলেন। চা বাগানে খ্রিস্টান মিশনারিদের একটি বিদ্যালয় ছিল, সেখানেই পড়াশোনা করেন।

১৪ই এপ্রিল তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে।  তিনি ২০১৯ সালের ৭ই মে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Comment