পা মা গা রে সা – সলিল চৌধুরী (গানের ইতিহাস ও লিরিক)

একবার সুরকার ও সংগীত পরিচালক সলিল চৌধুরী এক জনাকীর্ণ রেস্তোরাঁয় বন্ধুর সঙ্গে খেতে গিয়েছিলেন।
বন্ধু তাঁর জিনিয়াস সম্পর্কে জানতেন, তবু মজা করেই একবার তাঁকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। ভিড় ও চারপাশের চিৎকারের মধ্যেই বসে একটি গান লেখার জন্য সলিলকে চ্যালেঞ্জ করলেন তিনি।

সলিল চৌধুরী তখন মেনু কার্ডটি হাতে তুলে নিলেন। সেখানে থাকা বিভিন্ন খাবারের নামের আদ্যক্ষর থেকেই বেছে নিলেন সঙ্গীতের সুর। সেই আদ্যক্ষরগুলোকে ভিত্তি করে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি রচনা করে ফেললেন একেবারে নতুন ধারার গান— “পা মা গা রে সা”

পরবর্তীতে সেই গানটি লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে গাওয়ানো হয়। গানটি যে কত বড় হিট হয়েছিল, তা সংগীতজগতের মানুষের কাছে সুবিদিত।

 পা মা গা রে সা

পা মা গা রে সা,
তার চোখের জটিল ভাষা।
ধা, ধা পা মা গা রে,
পড়ে পড়ে বোঝার আশা।
সা, মা পা ধা নি সা—
সা, জানি শুধুই দুরাশা।

পা, পা মা গা রে সা,
তার চোখের জটিল ভাষা।
ধা, ধা পা মা গা রে,
পড়ে পড়ে বোঝার আশা।
সা, মা পা ধা নি সা—
সা, জানি শুধুই দুরাশা।

রে সা নি ধা নি মা পা ধা,
জানি মিছেই তারে সাধা।
রে সা নি ধা নি মা পা ধা,
জানি মিছেই তারে সাধা।
কি চলন চলে, কী বলন বলে—
সব যে তারই কুয়াশা।

পা, পা মা গা রে সা,
তার চোখের জটিল ভাষা।
ধা, ধা পা মা গা রে,
পড়ে পড়ে বোঝার আশা।
সা, মা পা ধা নি সা—
সা, জানি শুধুই দুরাশা।

ধা নি সা নি সা রে সা রে গা,
বলে জীবন ভরে শুধু গা।
ধা নি সা নি সা রে সা রে গা,
বলে জীবন ভরে শুধু গা।
কি যে গাহি—হায়, শুধু বেদনার
সুর-সাধনার এ কী যাতনা!

তাই ভাবি—
সা রে গা মা পা সা,
পা গা সা তান তুলে।
মা পা ধা নি সা মা,
সা ধা মা—গান ভুলে।
তার চোখেতে আর চাবো না,
আর গাবো না।

সা সা ধা মা নি নি পা গা,
মা মা গা রে সা।

তাই ভাবি—
সা রে গা মা পা সা,
পা গা সা তান তুলে।
মা পা ধা নি সা মা,
সা ধা মা—গান ভুলে।
তার চোখেতে আর চাবো না,
আর গাবো না।

সা সা ধা মা নি নি পা গা,
মা মা গা রে সা।

পা মা গা রে সা,
তার চোখের জটিল ভাষা।
ধা, ধা পা মা গা রে,
পড়ে পড়ে বোঝার আশা।
সা, মা পা ধা নি সা—
সা, জানি শুধুই দুরাশা।

পা, পা মা গা রে সা,
তার চোখের জটিল ভাষা।
ধা, ধা পা মা গা রে,
পড়ে পড়ে বোঝার আশা।
সা, মা পা ধা নি সা—
সা, জানি শুধুই দুরাশা।