জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলন দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের বিরুদ্ধে এক ব্যাপক প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশের ৮০ জন বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিল্পী, নাট্যব্যক্তিত্ব, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং ছাত্রনেতারা এই আন্দোলনের পক্ষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবাদটি শুরু হয় ১৯ নভেম্বর, সংগঠনের আহ্বায়ক মাহমুদ সেলিমের পাঠানো বিবৃতির মাধ্যমে। তাতে বলা হয়, ২৮ আগস্ট ২০২৩ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। কিন্তু ২ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। আন্দোলনকারীরা এই সিদ্ধান্তকে শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছেন, কারণ এটি শিক্ষাবিদ এবং মনস্তত্ত্ববিদদের গবেষণার পরিপন্থি।
জাতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষা আন্দোলনকারীরা একে শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ জাতি গঠনের পথে বাধা এবং সৃজনশীল প্রজন্ম গড়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আন্দোলনের আহ্বায়ক মাহমুদ সেলিম জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করার বিষয় নয়। এটি শিশুর নৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং মানসিক বিকাশের মূল ভিত্তি। সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা শিশুদের সৌন্দর্যবোধ, সহনশীলতা, শৃঙ্খলা এবং দলগত সহযোগিতার শিক্ষা দেয়।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে, যেখানে শিশুদের অধিকাংশ সময় স্ক্রিনে কাটছে, সংগীত ও শরীরচর্চা তাদের সৃজনশীলতা এবং মনোযোগ বাড়ানোর এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে। এসব বিষয় শিক্ষার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলে, শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে এবং সমাজের জন্যও তা হবে এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
এই আন্দোলনের আওতায় বাংলাদেশের প্রধান সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষাসংগঠনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন—বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থা, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, বাংলাদেশ বাউল ও লোক শিল্পী সংস্থা, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, প্রাচ্যনাট, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।
তারা দাবি করেছেন, বাতিল প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে পুনর্বহাল করা হোক এবং দেশের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সংগীত, চারুকলা এবং শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এসব বিষয়গুলোকে বাধ্যতামূলক পাঠ্যক্রম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
