ফাল্গুনী পাঠক একজন ভারতীয় গায়িকা।তিনি গুজরাটের বাসিন্দা এবং বোম্বেতে থাকেন।ফাল্গুনী গুজরাটি লোক সঙ্গীত গেয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৮৭ সালে আত্মপ্রকাশ করেন এবং তারপরে একজন শিল্পী হয়ে ওঠেন।
ফাল্গুনী পাঠক । ভারতীয় গায়িকা
প্রাথমিক জীবন
গুজরাতের ভদোদরায় তাঁর জন্ম ১৯৬৪ সালের ১২ মার্চ। ফাল্গুন মাসে জন্ম বলে নাম রাখা হয়েছিল ফাল্গুনী। তাঁর কণ্ঠেও যেন চিরবসন্ত। সুরেলা গলায় হিন্দি ও গুজরাতি ভাষার মিষ্টি প্রেমের গানই তাঁর জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি।
গান গাওয়ার শখ ছিল ছোট থেকেই। প্রাথমিক ভাবে রেডিয়োয় গান শুনে শুনে তৈরি করেছেন নিজেকে। এমএমকে কলেজ অব কমার্স অ্যান্ড ইকনমিক্স থেকে স্নাতক ফাল্গুনী তালিম নিয়েছেন দিওয়ালিবেন ভীল এবং ভবদীপ জয়পুরওয়ালের কাছে।
তিনি অবশ্য বলিউডেও বেশ কয়েকটা গান গেয়েছেন।কলেজের প্রেম, প্রেমিক-প্রেমিকার খুনসুটি কিংবা মুখ ফোলানো মান-অভিমান, তাঁর গানে ছোট ছোট অভিব্যক্তিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
কর্মজীবন
মাত্র ন’বছর বয়সে লায়লা ও লায়লা গানে মঞ্চে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। সেই শুরু। গান গাওয়া, সুর দেওয়া, মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় থেকে শুরু করে নানা অবতারে বার বার দর্শকদের মন জিতে নিয়েছেন তিনি। গুজরাতের ভদোদরার মেয়ে নিজের গানের মধ্য দিয়ে গুজরাতের লোকসঙ্গীতকে এক নতুন অবয়বে ফিরিয়ে এনেছিলেন। ডান্ডিয়া হোক বা নবরাত্রি, আজও ফাল্গুনী পাঠকের গানের জুড়ি মেলা ভার।
প্রথম রেকর্ডিং ১০ বছর বয়সে। অলকা যাজ্ঞিকের সঙ্গে তিনি গুজরাতি ছবিতে প্লেব্যাক করেন। বলিউডে তাঁর প্রথম প্লে ব্যাক ১৯৯০ সালে, ‘আঁধিয়া’ ছবিতে। এরপর তিনি প্লেব্যাক থেকে সরে যান ইন্ডিপপে।নয়ের দশকের গোড়ায় জনপ্রিয় হয় ইন্ডিপপ। প্লেব্যাকের বাইরে এই ধারার গানে ফাল্গুনী ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তাঁর সঙ্গে অনেকেই ইন্ডিপপের অ্যালবাম এনেছিলেন।
১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয় ফাল্গুনীর প্রথম মিউজিক অ্যালবাম, ‘ইয়াদ পিয়া কি আনে লাগি’। শুরুতেই পৌঁছন সাফল্যের শীর্ষে। এই অ্যালবামে রিয়া সেন ছিলেন নায়িকা। তিনি-ও বিনোদন দুনিয়ার নজরে আসেন এই অ্যালবামেই।
এর পরের কয়েক বছর ফাল্গুনীর গান বা অ্যালবাম মানেই বেস্ট সেলার-এর তালিকায়। ‘ম্যায়নে পায়েল হ্যায় ছনকাই’, ‘মেরি চুনর উড় উড় যায়’, ‘সাওয়ারিয়া তেরি ইয়াদ মেঁ’, ‘ইয়ে কিসনে জাদু কিয়া’, ‘হাওয়া মেঁ উড়তি যায়’-এর মতো অ্যালবামগুলিতে নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখেন ফাল্গুনী পাঠক।
ইন্ডিপপের পাশাপাশি ফাল্গুনী পরবর্তী কালেও প্লেব্যাক করেছিলেন। ‘কোয়েলা’, ‘প্যায়ার কোই খেল নেহি’, ‘দিওয়ানাপন’, ‘না তুম জানো না হম’-সহ বেশ কিছু ছবিতে গান করেছেন ফাল্গুনী। কিন্তু ইন্ডিপপের মতো সাফল্য পাননি প্লেব্যাক-এ।
ধীরে ধীরে কমে আসে ইন্ডিপপের জনপ্রয়িতা। এরপর ফাল্গুনীর একমাত্র বিচরণক্ষেত্র হয়ে ওঠে নবরাত্রি পার্বণই। ১৯৯৪ সালে তৈরি হয় তাঁর দল ‘তা থইয়া’। মূলত গুজরাতের গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা হয় লোকগীতি। তারপর সেই আঙ্গিকে তৈরি করা হয় নতুন গান। নবরাত্রির অনুষ্ঠানে ফাল্গুনীর গান তুমুল জনপ্রিয়। তিনি একচ্ছত্র ডান্ডিয়া-রানি।

স্কুলের বাইরে মেয়েদের পোশাক বিশেষ পরেননি ফাল্গুনী। তাঁর পছন্দের পোশাক ঢোলা টি শার্ট, চিনোজ এবং ওয়েস্ট কোট। মেক-আপ করেন শুধু অনুষ্ঠান থাকলে।
