ফুল আনবে না জানলে… কেন স্বামীকে এত বড় চিঠি লিখলেন কনকচাঁপা?

প্রেম, বিবাহ, স্বপ্ন—সব মিলিয়ে একটি পরিবারের গল্প তৈরি হয়। কিন্তু সেই গল্পও সময়ের সঙ্গে পাল্টে যায় অভিজ্ঞতা ও বোঝাপড়ার ভেলায়। জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা তাঁর ৪১তম বিবাহবার্ষিকীতে স্বামী মইনুল ইসলাম খানের উদ্দেশে যে খোলা চিঠি লিখেছেন, তা শুধু ভালোবাসার বার্তা নয়; বরং এক যুগল জীবনের সারসংক্ষেপ।

চিঠির প্রথমেই তিনি স্মৃতি তুলে ধরে প্রশ্ন করেন—“আমরা প্রথম কখন কাছাকাছি এসেছিলাম?” কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে জানান—এই প্রশ্নের উত্তর ভুলে গেলেও তাতে সম্পর্কের কোনো ঘাটতি নেই।

কনকচাঁপা বলেন, বিবাহবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা প্রত্যাশার দিন শেষ। “একটা ফুল কিংবা চমকে দেওয়া উপহার দিয়ে যে সম্পর্ক শক্ত হয় না—এই উপলব্ধি আজ আমার খুব পরিষ্কার।” তিনি স্বামীর প্রতি তাঁর আস্থা ও নির্ভরতার কথা স্পষ্ট করে লিখেছেন—“তোমার ভালোবাসা আর দোয়া-ই আমার আসল সম্পদ।”

তিনি অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন—যৌথ জীবনে সব সময় সমান সুখ ছিল না। কখনও অভিমান, কখনও ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে দিনের শেষে তাঁরা দু’জনই ফিরে এসেছেন একই ঘরে, একই টেবিলে, একই জীবনের পূর্ণতায়।

চিঠির গুরুত্বপূর্ণ অংশে তিনি উল্লেখ করেন—মধ্যবয়স পেরিয়ে গেলে সম্পর্কের প্রকৃতি বদলে যায়। তখন বাহ্যিক উদযাপন নয়, বরং মানসিক নিরাপত্তা সবচেয়ে জরুরি। তিনি লিখেছেন—“আমি শুধু চাই তুমি আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকো। মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছে বলবে—আমার স্ত্রী ভালো মানুষ ছিলেন। সেটাই আমার শান্তি।”

চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে মন্তব্য করেছেন—এটি শুধু একজন স্ত্রীর অনুভূতি নয়, এটি দাম্পত্য জীবন শেখার একটি ‘গাইডলাইন’।

অনেকে লিখছেন—বর্তমান সময়ে যেখানে সম্পর্ককে প্রমাণ করতে সাজানো আয়োজন ও ছবি পোস্টই বড় বিষয়, সেখানে কনকচাঁপার সরল চিঠি হয়ে উঠেছে সম্পর্ক বোঝার নতুন দৃষ্টান্ত।