বলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক, সুরকার ও সংগীতশিল্পী প্রীতম চক্রবর্তীকে ঘিরে বিনোদন জগতে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ভেরিফাইড হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া তাঁর একটি রহস্যময় পোস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত হিন্দি গানের শ্রোতা ও ভক্তদের মধ্যে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রীতমের এই বার্তার পর সংগীত অঙ্গনের অনেকেরই ধারণা, তিনি হয়তো দীর্ঘদিনের চেনা প্লেব্যাক ও বাণিজ্যিক ধারার সংগীতজগত থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ানোর অথবা দীর্ঘমেয়াদি কোনো বিরতি নেওয়ার ইঙ্গিত প্রদান করেছেন।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও প্রীতমের আকস্মিক ফেসবুক পোস্ট
গত ১৪ জুন দেশ-বিদেশের কোটি কোটি ভক্ত, সংগীতজগতের সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক শুভেচ্ছায় সিক্ত হন প্রীতম। দিনভর জন্মদিনের আনন্দ উদযাপনের পর, গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন। বিশেষ এই পোস্টটি দেখার পর তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাধারণ ভক্তরা পুরোপুরি বিস্মিত হয়ে পড়েন।
পোস্টে প্রীতম নিজের জীবনের আগামী দিনগুলোর পরিকল্পনা নিয়ে লিখেছেন, ‘আজ আমি নিজেকে কয়েক বছর উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার থেকে জীবনটাকে একেবারে অন্যভাবে বাঁচব। যেসব বিষয় এতদিন মিস করেছি, সেগুলোর স্বাদ নেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। এখন নতুন সফরে পা রাখার সময় এসেছে, যে কাজগুলোকে এতদিন অপেক্ষা করিয়ে রেখেছিলাম, সেটাই করব।’
সুরকার প্রীতমের এমন আবেগহীন অথচ স্পষ্ট বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বলিউড বা চলচ্চিত্র জগত থেকে অবসর গ্রহণ করা সংক্রান্ত তীব্র গুঞ্জন ও আলোচনা শুরু হয়। যদিও প্রীতম তাঁর পুরো পোস্টের কোথাও সরাসরি বা স্পষ্টভাবে হিন্দি চলচ্চিত্র জগত, সংগীত পরিচালনা কিংবা প্লেব্যাক থেকে একেবারে চিরতরে সরে যাওয়ার বা অবসর নেওয়ার কথাটি পরিষ্কার করে উল্লেখ করেননি।
অজানা পথের প্রতি কৌতূহল ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া
পোস্টটির পরবর্তী অংশে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনার কথা জানিয়ে প্রীতম আরও যোগ করেন, ‘বাণিজ্যিক কাজের অভিজ্ঞতা আমার দারুণ। তবে বরাবরই অজানা-অচেনা পথের প্রতি আমার কৌতূহল বেশি। আপনাদের সবার ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সবসময় ধন্যবাদ।’
জনপ্রিয় এই সংগীত পরিচালকের পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরপরই মন্তব্যের ঘরে ভক্তরা নানামুখী প্রতিক্রিয়া ও দুঃখ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। প্রীতমের একনিষ্ঠ একজন ভক্ত মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘আপনিও যদি শেষ পর্যন্ত বলিউড থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন, তবে প্রীতমের তৈরি করা নতুন মেলোডিয়াস গানগুলো আমরা খুব মিস করব। বিশেষ করে ভারতীয় সংগীতের বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা অরিজিৎ সিং ও প্রীতমের সেই চেনা জাদুকরী জুটিটাকে হয়তো আর কখনোই নতুন কোনো প্লেব্যাকে একসাথে দেখা যাবে না।’
অন্য একজন সংগীতপ্রেমী মন্তব্য করেছেন, ‘প্রীতমের এই সিদ্ধান্তের কারণে সাময়িকভাবে বলিউডের বাণিজ্যিক ধারার সিনেমার গানের অপূরণীয় ক্ষতি হলেও, প্রকৃত স্বাধীন সংগীতপ্রেমীদের জন্য এটি হয়তো এক বড় আশীর্বাদ হয়ে সামনে আসবে। হয়তো আমরা ওঁর কাছ থেকে নতুন কোনো ধারার বা ঘরানার মৌলিক কাজ পেতে যাচ্ছি।’ তবে ভক্তদের এমন শত শত আবেগঘন ও কৌতুহলী মন্তব্যের বিপরীতে প্রীতমের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে আর নতুন কোনো স্পষ্ট জবাব বা প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। ফলে তিনি আসলেই বলিউড থেকে সম্পূর্ণ অবসরের পথে হাঁটছেন, নাকি ব্যক্তিগত জীবনের নতুন কোনো ভিন্ন অধ্যায়ের সূচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন—সে বিষয়টি তাঁর অনুরাগীদের কাছে এখনো ধোঁয়াশাপূর্ণ রয়ে গেছে।
অরিজিৎ সিংয়ের ঘোষণা ও পূর্ববর্তী প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রীতমের খুব ঘনিষ্ঠ এবং বলিউডের শীর্ষস্থানীয় গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের সংগীত থেকে সাময়িক অবসরসংক্রান্ত একটি আকস্মিক ঘোষণাও ভারতীয় বিনোদন মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই সময় অরিজিৎ সিংয়ের সেই বক্তব্য নিয়ে দীর্ঘসময় জল্পনা চলেছিল। এবার বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে প্রায় একই ধরনের এক রহস্যময় ও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তার মাধ্যমে বলিউডের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে এলেন প্রীতম নিজে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, প্রীতমের সুর করা গান মানেই চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্য নিশ্চিত হওয়া। অসংখ্য কালজয়ী গানের এই কারিগর যদি সত্যিই বাণিজ্যিক কাজ কমিয়ে দেন বা বন্ধ করে দেন, তবে তা হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক বড় ধাক্কা হবে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ভক্ত ও শ্রোতারা এখন প্রীতমের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, যাতে এই রহস্যের জট পুরোপুরি খোলে।
