বিটিএস প্রকাশ করলো নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’

দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের একটি অমূল্য গান ‘আরিরাং’-এর নামেই সম্প্রতি তাদের নতুন অ্যালবামের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বখ্যাত কেপপ গ্রুপ বিটিএস। প্রায় চার বছরের বিরতির পর, আরএম, জাংকুক, জিমিন, ভি ও শুগা ২০ মার্চ এই পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামের মাধ্যমে ফ্যানদের সামনে ফিরে আসবেন।

বিগ হিট মিউজিকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অ্যালবামে বিটিএস তাদের সাংস্কৃতিক শেকড়ের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। পাশাপাশি, হৃদয়ের গভীর আকুলতা, ভালোবাসা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতির সুরও এতে মিশ্রিত হয়েছে। অ্যালবামের নামকরণে ব্যবহৃত ‘আরি’ শব্দের অর্থ ‘সুন্দর’, আর ‘রাং’ অর্থ ‘প্রিয়জন’। ‘আরিরাং’ গানটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোরিয়ানদের জীবনের নানা মুহূর্তে প্রতিধ্বনিত হয়ে এসেছে—ধানক্ষেতে কাজ করার সময়, প্রতিবাদে, পারিবারিক সমাবেশে কিংবা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও।

বিগ হিট জানিয়েছে, অ্যালবামে মোট ১৪টি গান থাকবে, যার রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে ২০২৫ সালের শেষ ভাগে। এর আগে ২০২২ সালে অ্যান্থোলজি অ্যালবাম ‘প্রুফ’ প্রকাশ করেছিলো আরএম ও জিমিন। সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘ম্যাপ অব দ্য সোল: সেভেন’ প্রকাশিত হয়েছিল ২০২০ সালে।

অ্যালবামের মূল তথ্য

বিষয়বিবরণ
অ্যালবামের নামআরিরাং
প্রকাশের তারিখ২০ মার্চ ২০২৬
গান সংখ্যা১৪ টি
রেকর্ডিং সময়২০২৫ সালের শেষ ভাগ
পূর্ববর্তী পূর্ণাঙ্গ অ্যালবামম্যাপ অব দ্য সোল: সেভেন (২০২০)
পূর্ববর্তী অ্যান্থোলজিপ্রুফ (২০২২)

বিটিএস ইতিমধ্যেই তাদের বিশ্বব্যাপী ট্যুরের ঘোষণা দিয়েছে। ৯ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংগি প্রদেশের গোইয়াং স্পোর্টস কমপ্লেক্স থেকে এই ওয়ার্ল্ড ট্যুর শুরু হবে। ফ্যানডম প্ল্যাটফর্ম উইভার্সে সম্প্রতি ট্যুরের পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে।

এই ট্যুরে এখন পর্যন্ত উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার ৩৪টি শহরে মোট ৭৯টি কনসার্ট নিশ্চিত হয়েছে, যা একক কেপপ গ্রুপের ট্যুরের ইতিহাসে সর্বাধিক।

ওয়ার্ল্ড ট্যুর সূচি (সংক্ষিপ্ত)

ভৌগোলিক এলাকাশহর সংখ্যাকনসার্ট সংখ্যা
দক্ষিণ কোরিয়া
উত্তর আমেরিকা১২২৮
ইউরোপ১০
দক্ষিণ আমেরিকা১০
এশিয়া১১৩০

২০২২ সালে লাস ভেগাসে শেষ ‘পারমিশন টু ড্যান্স অন স্টেজ’ শো উপস্থাপন করেছিল বিটিএস। এবার ২৫ এপ্রিল ফ্লোরিডা থেকে উত্তর আমেরিকা পর্যায়ের কনসার্ট শুরু হবে। জুন থেকে জুলাইয়ে গ্রুপটি ইউরোপে এবং দক্ষিণ আমেরিকায় তাদের পারফর্ম করবে।

এই অ্যালবাম এবং ট্যুরের মাধ্যমে বিটিএস কেবল তাদের সঙ্গীতকর্মী সৃষ্টিশীলতাই প্রদর্শন করছে না, বরং কোরিয়ান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত করছে।