ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সোমবার সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরকে বিদেশি মদ নিজের দখলে রাখার অভিযোগে দায়মুক্তি প্রদান করেছে। আট বছর ধরে চলা এই মামলার অবসান ঘটিয়ে আদালত আজ খালাসের রায় ঘোষণার পর আসিফ নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। খালাসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ কুমার দেবনাথ।
রায় ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসিফ আকবর বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর ভিত্তিক অভিযোগ। রোজার মাসেই মামলার শুরু, আবার রোজার মাসেই রায়। দীর্ঘ আট বছর নিয়মিত আদালতে হাজির হয়ে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আমি কখনো প্রভাব বিস্তার করতে চাইনি বা রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে চাইনি। শুধু ন্যায়বিচার চেয়েছি। আমার আগের আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে আজ খালাস এনে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন আইনজীবীর সন্তান। জন্ম থেকেই আদালতের নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। তাই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে খুব বেশি কথা বলিনি। এই দীর্ঘ সময়ে আমার পরিবার, ভক্ত এবং দেশের মানুষ যারা আমাকে ভালোবাসে—তারা অনিশ্চয়তায় ছিল। আজ আদালতের রায়ে আমি মুক্তি পেলাম। এটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য এক বিশাল আনন্দ।”
মামলার পটভূমি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৬ জুন রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় আসিফ আকবরের অফিস থেকে চার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে, ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই সিআইডির সাইবার তদন্ত শাখার উপপরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার লাইসেন্সবিহীন মদ নিজের দখলে রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হয়।
নিচের টেবিলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| ঘটনা | তারিখ | বিবরণ |
|---|---|---|
| মদ উদ্ধার | ৬ জুন ২০১৮ | আসিফের অফিস থেকে চার বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার |
| মামলা দায়ের | ২৩ জুলাই ২০১৯ | সিআইডি, সাইবার তদন্ত শাখা দায়ের করে |
| অভিযোগপত্র দাখিল | ১৩ অক্টোবর ২০১৯ | মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয় |
| অভিযোগ গঠন | ২৫ নভেম্বর ২০২৪ | আদালত বিচার শুরুর নির্দেশ দেন |
| রায় ঘোষণা | ৯ মার্চ ২০২৬ | আসিফকে খালাস প্রদান করা হয় |
আসিফ আকবরের খালাসের পর তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ন্যায়বিচার পাওয়া একটি “মধ্যাহ্নকালীন মুক্তির মুহূর্ত” এবং এটি তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট।
সংগীতজ্ঞ ও আইনানুগ এই লড়াইয়ে প্রতিটি ধাপেই নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন আসিফ। তার এই খালাস শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বস্তি নয়, বরং আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি লড়াইয়ে ন্যায়বিচারের গুরুত্বকেও উদ্দীপিত করেছে।
