বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সংগীত তারকা এড শিরান বর্তমানে তার ২০২৬ সালের ‘লুপ ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া সফর করছেন। সাধারণত তাঁর মতো বিশ্ববরেণ্য তারকাদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত জেট বিমান বা প্রথম শ্রেণীর বিমান টিকিটই দস্তুর। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে শিরান সিডনি থেকে মেলবোর্ন পৌঁছাতে বেছে নিলেন এক দীর্ঘ ও সাদামাটা ট্রেনযাত্রা। মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে আয়োজিত কনসার্টে যোগ দিতে তিনি প্রায় ১১ ঘণ্টা সাধারণ ট্রেনের বগিতে কাটিয়েছেন।
Table of Contents
সাধারণের বেশে অসাধারণ এক যাত্রা
বৃহস্পতিবার সকালে মেলবোর্নের সাউদার্ন ক্রস স্টেশনে যখন ট্রেনটি থামে, তখন যাত্রীদের ভিড়ে এক অতি সাধারণ মানুষকে ব্যাগ ঠেলতে দেখা যায়। মাথায় টুপি এবং তার ওপর সবুজ হুডি টেনে মুখ আড়াল করে রাখা ব্যক্তিটিই ছিলেন স্বয়ং এড শিরান। কাঁধে কালো ব্যাগ আর সিডনির বিখ্যাত ‘টোরোঙ্গা চিড়িয়াখানা’র লোগো যুক্ত একটি ব্যাগ বহনকারী ট্রলি ঠেলে তিনি স্টেশনের বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি দেখে ভক্তরা অভিভূত। প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদের মালিক হয়েও কেন তিনি মাত্র ১৬৪ ডলারের ট্রেনের টিকিটে ভ্রমণ করলেন, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
মাটির কাছাকাছি থাকার দর্শন
এড শিরান বরাবরই তাঁর বিনয়ী স্বভাবের জন্য পরিচিত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী তাঁকে প্রায়ই গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এর পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে— প্রথমত, ব্যক্তিগত জেটের বদলে ট্রেন ব্যবহার করে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা। দ্বিতীয়ত, তারকা খ্যাতির আড়ালে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে থাকা। তাঁর এই সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন ভ্যান্স জয়, মিয়া রে এবং অ্যারন রো। শিরানের এই ভ্রমণের সপ্তাহেই অস্ট্রেলীয় সরকার পূর্ব উপকূলে দ্রুতগতির রেল প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে, যা সফল হলে ভবিষ্যতে এই ১১ ঘণ্টার পথ মাত্র চার ঘণ্টায় পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে।
এড শিরানের অস্ট্রেলিয়া সফর ২০২৬: একনজরে
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
| সফরের নাম | লুপ ট্যুর (Loop Tour) ২০২৬ |
| ভ্রমণ পথ | সিডনি থেকে মেলবোর্ন (ট্রেনযোগে) |
| যাত্রার সময় | ১১ ঘণ্টা |
| টিকিটের মূল্য | মাত্র ১৬৪ অস্ট্রেলীয় ডলার |
| পরবর্তী গন্তব্য | অ্যাডিলেড ওভাল (৫ মার্চ) |
| সফরের বিশেষ অতিথি | ভ্যান্স জয়, মিয়া রে এবং অ্যারন রো |
প্রবাসী ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া
শিরানের এমন সাদামাটা জীবনযাপন কেবল অস্ট্রেলীয়দের নয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও মুগ্ধ করেছে। সিডনি প্রবাসী ও সমাজবিজ্ঞান গবেষক সজল রায় বলেন, “এড শিরানের মতো বিশ্বসেরা একজন তারকা যখন বিলাসিতা ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের কাতারে এসে দাঁড়ান, তখন তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানুষের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তার বিনয়ে। পরিবেশ সম্পর্কে তাঁর এই সচেতনতা এবং মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতা সত্যিই অনুসরণীয়।”
মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে যখন শিরান মঞ্চে ওঠেন, তখন হাজার হাজার ভক্তের মুহুর্মুহু করতালিতে মুখরিত হয় চারপাশ। সাধারণ ট্রেনের যাত্রী থেকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মঞ্চের মহাতারকা হয়ে ওঠার এই বৈপরীত্যই শিরানকে অনন্য করে তুলেছে। মেলবোর্নে আরও দুটি সফল কনসার্ট শেষে আগামী ৫ মার্চ অ্যাডিলেড ওভালে বড় পরিসরে এই সফরের সমাপ্তি ঘটবে।
