বাংলার লোকজ সংস্কৃতির শেকড় সন্ধানে এবং ঐতিহ্যবাহী নাট্যরীতিকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ভৈরবী গীতরঙ্গ দল আয়োজন করেছে তিন দিনব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক উৎসব ‘গীতরঙ্গ উৎসব’। আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন ভেন্যুতে এই বর্ণাঢ্য উৎসব উদযাপিত হবে। গীতিনাট্য, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং সংগীতের মূর্ছনায় সাজানো এই আয়োজনটি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
উৎসবের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
বাঙালির হাজার বছরের সমৃদ্ধ নাট্য ঐতিহ্য ও লোকজ সুরের ধারাকে বর্তমান সময়ের উপযোগী করে উপস্থাপন করাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য। ভৈরবী গীতরঙ্গ দল বিশ্বাস করে, পাশ্চাত্য নাট্যরীতির প্রভাবের মাঝেও বাংলার নিজস্ব ‘গীতরঙ্গ’ বা গীতিনাট্য শৈলী তার স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। এই উৎসব কেবল একটি প্রদর্শনীর আয়োজন নয়, বরং এটি বাংলার মাটির শিল্প ও শৈল্পিক ভাষার এক মেলবন্ধন।
উৎসবের প্রধান সমন্বয়ক ও নির্দেশক ইলিয়াস নবী ফয়সাল বলেন:
“গীতরঙ্গ আমাদের কাছে শুধু একটি পরিবেশনা নয়, এটি বাংলার মাটির গভীর থেকে উঠে আসা এক শৈল্পিক অভিব্যক্তি। আমরা চাই আধুনিক দর্শক, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম যেন আমাদের শিকড়কে চিনতে পারে এবং এই লোকজ নাট্যধারার মাধ্যমে শিল্পীর সাথে এক জীবন্ত সংযোগ অনুভব করে।”
উৎসবের সময়সূচী ও বিস্তারিত তথ্য
উৎসবের প্রতিটি দিন সাজানো হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আমেজ ও বৈচিত্র্যে। পাঠকদের সুবিধার্থে বিস্তারিত সূচী নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ | সময় | ভেন্যু | অনুষ্ঠানের বিবরণ |
| ৩১ জানুয়ারি | সন্ধ্যা ৬:০০ টা | ভৈরবী অফিস, ধানমন্ডি | চলচ্চিত্র প্রদর্শনী: ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী সিনেমা ‘হীরক রাজার দেশে’ |
| ০১ ফেব্রুয়ারি | সন্ধ্যা ৭:০০ টা | মঞ্চ-২ (চিলেকোঠা), শিল্পকলা একাডেমি | গীতল সন্ধ্যা: লোকজ ও মরমি গানের সংগীত আয়োজন |
| ০২ ফেব্রুয়ারি | সন্ধ্যা ৬:০০ টা | স্টুডিও থিয়েটার হল, শিল্পকলা একাডেমি | গীতরঙ্গ প্রযোজনা: ‘সোনাই’ (রচনা ও নির্দেশনা: ইলিয়াস নবী ফয়সাল) |
আয়োজনের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ
উৎসবের প্রথম দিনে প্রদর্শিত হবে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী সৃষ্টি। এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সুস্থ ধারার সিনেমার সাথে দর্শকদের সংযোগ স্থাপন করা হবে। দ্বিতীয় দিনের আকর্ষণ ‘গীতল সন্ধ্যা’, যেখানে বাংলার লোকজ ও মরমি সুরের মূর্ছনায় ভেসে যাবে দর্শক। উৎসবের সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হবে গীতরঙ্গ প্রযোজনা ‘সোনাই’। এটি মূলত একটি ঐতিহ্যবাহী আখ্যান, যা নতুন আঙিকে ও সংলাপে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হবে।
ভৈরবী গীতরঙ্গ দলের পরিচয়
ভৈরবী গীতরঙ্গ দল একটি অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ অলাভজনক সাংস্কৃতিক সংগঠন। দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনটি এদেশের নিজস্ব নাট্যরীতি, গীতরঙ্গ এবং হারিয়ে যাওয়া লোকজ উপাদানগুলো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কার্যক্রম কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক নয়, বরং দেশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণে সারা দেশে বিকল্প নাট্যচর্চাকে উৎসাহিত করাই তাদের ব্রত।
অংশগ্রহণ ও প্রবেশাধিকার
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই উৎসবে যোগদানের জন্য কোনো প্রবেশমূল্য বা নিবন্ধন ফি রাখা হয়নি। তবে মিলনায়তনের আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় দর্শকদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১৫ মিনিট আগে ভেন্যুতে উপস্থিত হতে অনুরোধ করা হয়েছে। যদিও পূর্ব নিবন্ধনের একটি সুযোগ রয়েছে, তবে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে যে কেউ সরাসরি উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন।
বাঙালি সংস্কৃতির এই মহোৎসবে যোগ দিয়ে দেশীয় ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে শিল্পপ্রেমীদের প্রতি বিনীত আহ্বান জানানো হয়েছে। এই উৎসব কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার এক ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
