ভোটার বেছে নিচ্ছে রাজনীতিবিদ!” নচিকেতার বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়

ভারতে চলতে থাকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (Special Intensive Revision – SIR) নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা তুঙ্গে। ভোটার তালিকার তথ্য হালনাগাদ করার জন্য ‘এনুমারেশন ফর্ম’ হাতে নিয়ে বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়া এখন সর্বত্রই চলছে। শুধু এই রাজ্য নয়—দেশের আরও ১১টি রাজ্য ও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একইসঙ্গে শুরু হয়েছে এই কাজ।

এই প্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক একটি অনুষ্ঠানে সরাসরি এসআইআর-এর নাম ব্যবহার না করলেও, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন জনপ্রিয় গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী। বহু বছর ধরেই তিনি তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ শিল্পী হিসেবে পরিচিত, এবং দলের ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চেও নিয়মিত দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু এবার তাঁর মন্তব্যে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গায়ক বলেন,

“একটা সময় জনগণ রাজনীতিবিদদের বেছে নিত। এখন সময় উল্টো দিকে ঘুরে গেছে—রাজনীতিবিদরাই ঠিক করছে কোন মানুষ ভোট দেবে আর কে দেবে না। এখন পলিটিশিয়ানরাই ভোটার চুজ করছে। মানুষ হাসছে না, দাঁত কেলাচ্ছে—এই অবস্থায় পৌঁছে গেছি আমরা।”

নচিকেতা যখন প্রতিবাদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন শুনলেন, তখনই স্পষ্ট দেখা গেল তাঁর বিরক্তি। অনেকেই স্মরণ করিয়ে দেন ২০২৫ সালের ২১ জুলাই-এর সেই মঞ্চের কথা, যেখানে মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন তাঁকে ‘প্রতিবাদের গান’ গাইতে ডাকেন, আর নচিকেতা গান ধরেন— “যখন সময় থমকে দাঁড়ায়…”।

কিন্তু এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট সেকশনে শুরু হয় ঝড়। কেউ লেখেন, “সেই জন্য এখন উনি চটি চাটছেন…”, কেউ কটাক্ষ করেন, “২১ জুলাইয়ের মঞ্চে গেলে এই কথা মনে থাকে?”। আরেকজন লিখেছেন,

“বামেদের সময়ে নরম মাটিতে প্রতিবাদ করেছিলেন। এখন করলে কোমর ভেঙে দেবে—তাই ডায়লগে লাভ নেই।”

আরও একজন তীব্র ব্যঙ্গ করে লেখেন,

“প্রতিবাদ করলে কি আর গান গেয়ে মহানায়ক হওয়া যায়!”

এসব মন্তব্যে স্পষ্ট যে নচিকেতার বক্তব্য ঘিরে জনমত বিভক্ত। কারও মতে তিনি সাহস করে সত্য তুলে ধরছেন, আবার অনেকের মতে এটা নিছক রাজনৈতিক সুবিধাবাদী ‘ডায়লগ’। কিন্তু তাঁর ভিডিও যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে—তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।