মনিরুজ্জামান মনির হলেন একজন বাংলাদেশী গীতিকার। ১৯৭০ সালে তিনি বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার হন। পরে তিনি চলচ্চিত্রের জন্যেও গীত রচনা করেন। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গানসমূহ হল “প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ”, “সূর্যোদয়েও তুমি সূর্যাস্তেও তুমি”, “যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়”, “কি জাদু করিলা পিরিতি শিখাইলা”। বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের গীত রচনায় অবদানের জন্য তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। সঙ্গীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৪ সালে একুশে পদক এ ভূষিত করে।
প্রাথমিক জীবন
মনিরুজ্জামান মনির ১৯৫২ সালের ২৮ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার তেঘরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মনিরুজ্জামান তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি দৈনিক পয়গাম, দৈনিক পাকিস্তান, সবুজপাতায় নিয়মিত ছড়া লিখতেন। তার মামা উজির মিয়া ছিলেন সিলেট বেতারের কণ্ঠশিল্পী। তার সহযোগিতায় কিশোর বয়সেই তিনি বেতারের জন্য গান লেখার সুযোগ লাভ করেন। ১৯৭০ সালে তিনি বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার হয়ে যান।
কর্মজীবন
বাংলা সিনেমার গানে মনিরুজ্জামান মনির চিরস্মরণীয় এক নাম। পাঁচ শতাধিক সিনেমায় গান লিখেছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো- ‘প্রাণসজনী’, ‘নীতিবান’, ‘দুই জীবন’, ‘ভেজা চোখ’, ‘চেতনা’, ‘সত্য মিথ্যা’, ‘পিতা মাতা সন্তান’, ‘প্রথম প্রেম’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘প্রেমের অহংকার’, ‘লাল বাদশা’, ‘জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘মাটির ফুল’, ‘বউ শাশুড়ির যুদ্ধ’, ‘হীরা আমার নাম’, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘দোলনা’, ‘মনে প্রাণে আছো তুমি’, ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’ ইত্যাদি।সিনেমায় তার লেখা সর্বশেষ জনপ্রিয় গান ‘এক বিন্দু ভালোবাসা দাও, আমি এক সিন্ধু হৃদয় দেবো’।
‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘কি জাদু করিলা পিরিতি শিখাইলা’-এর মতো কালজয়ী শ্রোতাপ্রিয় গানগুলো মনিরুজ্জামান মনিরেরই রচিত।সিনেমায় তার লেখা সর্বশেষ জনপ্রিয় গান ‘এক বিন্দু ভালোবাসা দাও, আমি এক সিন্ধু হৃদয় দেবো’।
পুরস্কার
গানের ভুবনে মনিরুজ্জামান মনিরের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০০৪ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া ১৯৮৮, ১৯৮৯ এবং ১৯৯০ টানা তিন বছর শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
