বিশ্বখ্যাত পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক নতুন চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বাণিজ্যিক দিক থেকে ছবিটি উল্লেখযোগ্য আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করলেও সমালোচকদের দৃষ্টিতে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিতর্কিত জীবনীচিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচনার একটি বহুল ব্যবহৃত গ্রহণযোগ্যতা সূচকে ছবিটির অবস্থান শুরুতে ছিল মাত্র সাতাশ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে সামান্য উন্নতি হয়ে তা চৌত্রিশ শতাংশে পৌঁছালেও এটি এখনও অন্যান্য সমসাময়িক সফল জীবনীচিত্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই ঘরানার একাধিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকে অনেক বেশি ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছে। যেমন, ওপেনহাইমার পেয়েছে তিরানব্বই শতাংশ গ্রহণযোগ্যতা, বেটার ম্যান ঊনআশি শতাংশ, প্রিসিলা চুরাশি শতাংশ এবং এক কমপ্লিট অ্যাননোন বিয়াশি শতাংশ। অন্যদিকে দ্য অ্যাপ্রেন্টিস একইভাবে বিয়াশি শতাংশ এবং ফেরারি তিয়াত্তর শতাংশ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। এর বিপরীতে মাইকেল-এর অবস্থান তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
সাম্প্রতিক জীবনীচিত্রগুলোর গ্রহণযোগ্যতার তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো—
| চলচ্চিত্রের নাম | গ্রহণযোগ্যতার হার | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মাইকেল | চৌত্রিশ শতাংশ | বিতর্কিত ও সমালোচিত |
| ওপেনহাইমার | তিরানব্বই শতাংশ | ব্যাপক প্রশংসিত |
| বেটার ম্যান | ঊনআশি শতাংশ | ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া |
| প্রিসিলা | চুরাশি শতাংশ | সমালোচকদের প্রশংসা |
| এক কমপ্লিট অ্যাননোন | বিয়াশি শতাংশ | শক্তিশালী গ্রহণযোগ্যতা |
| দ্য অ্যাপ্রেন্টিস | বিয়াশি শতাংশ | তুলনামূলক সফল |
| ফেরারি | তিয়াত্তর শতাংশ | মাঝারি সাফল্য |
| আই ওয়ানা ড্যান্স উইথ সামবডি | তেতাল্লিশ শতাংশ | দুর্বল প্রতিক্রিয়া |
| ব্যাক টু ব্ল্যাক | পঁয়ত্রিশ শতাংশ | নিম্নমানের মূল্যায়ন |
| রিগ্যান | আঠারো শতাংশ | সবচেয়ে দুর্বল |
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টনি ফুকুয়া। এতে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব থেকে শুরু করে সংগীতজগতে তার উত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাস্তব জীবনের ভাতিজা জাফার জ্যাকসন, যা ছবিটিকে বাড়তি কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
তবে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে। সমালোচকদের অভিযোগ, মাইকেল জ্যাকসনের বিরুদ্ধে ওঠা শিশু নির্যাতনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি বাস্তবতার একপেশে উপস্থাপনা, যা জীবনীচিত্রের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে।
প্রাথমিকভাবে নির্মিত সংস্করণে নেভারল্যান্ড র্যাঞ্চ সম্পর্কিত তদন্ত ও অভিযোগ-পরবর্তী ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে চুক্তিগত জটিলতার কারণে এসব অংশ বাদ দিয়ে নতুন সমাপ্তি তৈরি করা হয়। এই পরিবর্তনের ফলে চলচ্চিত্রটির মুক্তি প্রায় এক বছর বিলম্বিত হয়।
বিতর্ক সত্ত্বেও বাণিজ্যিক বিশ্লেষণে ধারণা করা হচ্ছে, চলচ্চিত্রটি প্রথম সপ্তাহেই প্রায় পনেরো কোটি মার্কিন ডলার আয় করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বোধনী আয় ছয় কোটি পঞ্চাশ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা সংগীতভিত্তিক জীবনীচিত্রের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
পারিবারিক প্রতিক্রিয়াও বিভক্ত। জ্যাকসনের পরিবারের একাংশ চলচ্চিত্রটির প্রতি সমর্থন জানালেও অন্য অংশ প্রকাশ্যে এর সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে তার কন্যা এটিকে বাস্তবতা বিকৃত ও অসম্পূর্ণ উপস্থাপনা বলে মন্তব্য করেছেন।
সব মিলিয়ে ‘মাইকেল’ এখন শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং সমালোচনা, বিতর্ক এবং ভিন্নমতের এক জটিল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। বাণিজ্যিক সাফল্যের সম্ভাবনা থাকলেও এটি দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে গভীর বিভাজন তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
