স্প্যানিশ পপ গায়ক এনরিকে ইগলেসিয়াস প্রায় এক দশক পর ভারত সফরে ফিরে আসেন। ২০১২ সালের পর এই প্রথম তিনি ভারতীয় মাটিতে একটি লাইভ কনসার্ট আয়োজন করলেন, যেখানে মুম্বাইয়ের এমএমআরডিএ গ্রাউন্ডসে ২৯ ও ৩০ অক্টোবর বিক্রি হওয়া টিকিটের মাধ্যমে ভক্তদের সমাগম ঘটে। এই কনসার্ট ছিল তার দীর্ঘ বিরতির পর এক যুগের পুরনো এক স্মৃতির পুনর্জাগরণ।
এনরিকে তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন, যার মধ্যে ছিল “বেইলামোস”, “এস্কেপ”, “হিরো” এবং “বিই উইথ ইউ”। এই গানগুলো শোনার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত দর্শকরা রুদ্ধশ্বাসে একসঙ্গে গান গাইতে শুরু করেন। বিশেষভাবে, “হিরো” গানটি পরিবেশন করতে গিয়ে তিনি গানের মাঝখানে থেমে যান এবং পুরো গানটি দর্শকদের হাতে ছেড়ে দেন, যার ফলে হাজার হাজার কণ্ঠ একসাথে ভেসে ওঠে। এই সময় তিনি “নমস্তে” বলে ভক্তদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক অনন্য মুহূর্ত সৃষ্টি করেন।
এছাড়াও, তিনি তার পরবর্তী গানের মধ্যে পাঞ্জাবি এমসির “মুন্ডিয়ান তু Bach কে রাহী” গানটির বিট ব্যবহার করে একটি চমকপ্রদ মুহূর্ত তৈরি করেন, যা দর্শকদের মধ্যে উল্লাস সৃষ্টি করে।
এনরিকে ইগলেসিয়াসের ৪৯ বছর বয়সী কণ্ঠ কখনো কখনো দুর্বল মনে হলেও, তার মঞ্চে উপস্থিতি এবং উষ্ণতার কারণে তা কোনোভাবে অনুভূত হয়নি। কনসার্টটি যেন এক হৃদয়স্পর্শী পুনর্মিলনী ছিল, যেখানে শিল্পী এবং তার ভক্তদের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
কনসার্টের মাঝখানে তিনি ২০০৪ সালে ভারত সফরের স্মৃতিচারণ করেন এবং বলেন, “এতদিন পর ফিরতে পারা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” তার এই বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে তার গান শোনা ভক্তরা হর্ষধ্বনিতে সাড়া দেন।
এনরিকে ইগলেসিয়াসের কনসার্টে শুধু সাধারণ ভক্তরাই নয়, বলিউডের তারকাদেরও উপস্থিতি ছিল। মালাইকা অরোরা, রাকুল প্রীত সিং, জ্যাকি ভাগনানি, সোনাল চৌহান ও প্রজ্ঞা জৈশওয়ালসহ আরো অনেকে তাকে দেখার জন্য কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন, এবং তারা একসাথে গানের সঙ্গে নাচছিলেন ও গাইছিলেন।
আরও উল্লেখযোগ্য ছিল কনসার্টের আয়োজনের একটি মানবিক দিক। শারীরিক প্রতিবন্ধী (PWD) ব্যক্তিদের জন্য একটি বিশেষ জায়গা সংরক্ষণ করা হয়েছিল, যাতে তারা আরামদায়কভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারে। এই উদ্যোগটি ভারতীয় লাইভ ইভেন্টে একটি বিরল এবং প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হয়েছে। সেই জায়গা থেকে অনেকে একইভাবে গানের সঙ্গে মিলিয়ে নাচছিলেন ও গাইছিলেন, যা প্রমাণ করে যে ভালো সংগীত সকল সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে।
এনরিকে ইগলেসিয়াসের এই কনসার্ট শুধু তার ভক্তদের জন্য নয়, বরং ভারতীয় সংগীতপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
