বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র কিছুদিন ধরে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল সকালে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা পুরো বলিউডসহ অনুরাগীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। তবে তাঁর মেয়ে এষা দেওল এবং স্ত্রী হেমা মালিনী এক পোস্টে জানিয়ে দেন, ধর্মেন্দ্র শারীরিকভাবে স্থিতিশীল আছেন এবং তাঁর মৃত্যু গুজব। আজ সকালে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখন তাঁর জুহুর বাংলোয় ফিরে এসেছেন।
হেমা মালিনী এবং এষা দেওল পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রদান করে জানানো হয়েছে, “ধর্মেন্দ্রজি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং এখন বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আমরা সকলের কাছে অনুরোধ করছি, যেন এ সময়ে কোনো গুজব বা অনুমান ছড়ানো না হয় এবং আমাদের গোপনীয়তাকে সম্মান জানানো হয়।”
এছাড়া, পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়েছে, “ধর্মেন্দ্রজির প্রতি আপনাদের ভালোবাসা ও প্রার্থনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর, একাধিক গণমাধ্যম তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। এসময় একাধিক বলিউড তারকা—রাজনাথ সিং, জাভেদ আখতার, কে কে মেনন, চিরঞ্জীবী, শ্বেতা তিওয়ারি, ইত্যাদি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তবে, এষা দেওল গুজবের বিরুদ্ধে একটি পোস্ট দিলে অনেকেই তাদের পূর্বের শ্রদ্ধা জানানো পোস্ট মুছে ফেলেন।
এদিকে, ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী হেমা মালিনী গুজবের তীব্র নিন্দা করে এক পোস্টে বলেন, “এটি অপ্রত্যাশিত এবং দায়িত্বহীন আচরণ। একজন মানুষ ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন, তাঁকে নিয়ে এমন ভুল খবর ছড়ানো অত্যন্ত অসম্মানজনক।”
ধর্মেন্দ্রর জীবন ও ক্যারিয়ার বাংলা সিনেমার ইতিহাসে এক চিরকালীন অধ্যায়। ১৯৬০ সালে মুম্বাইয়ে পা রাখার পর তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এক অপরাজেয় অ্যাকশন হিরো হিসেবে। ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘জাদুগর’, ‘ধর্ম বীর’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, সহ অনেক জনপ্রিয় ছবির মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। ১৯৮০ সালে বলিউডের প্রখ্যাত জুটি, হেমা মালিনী ও ধর্মেন্দ্র একসঙ্গে চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন, যার মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
ধর্মেন্দ্র এবং হেমা মালিনীর এই জুটি আজও বলিউডের সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলির মধ্যে একটি।
