যার মন ভালো নয় [ Jar Mon Valo Noy ]
“যার মন ভালো নয়” এটি একটি বাংলার প্রচলিত লোকগীতি না যাকে ( ফোক সং ) ও বলা হয় । কোন একটি দেশ, জাতি বা অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতকে ফোক সঙ্গীত বলা হয়ে থাকে।
যার মন ভালো নয় [ Jar Mon Valo Noy ]
জনরাঃ লোকসঙ্গীত
যার মন ভালো নয় লিরিক্স :
যার মন ভালো নয় সে পিরিতের মর্ম কি
পিরিতের কর্ম কি জানে, ধর্ম কি জানে?
পিরিতি আলেক লতা হৃদে গাঁথা
দিনে দিনে বাড়ে পিরিতি নয়নে নয়নে,
যার মন ভালো নয় …
পিরিত পিরিত মুখে বল পিরিত চেননা
পিরিতি করেছিল বৃন্দাবনের শ্যাম কেলে শোনা
আরেক পিরিত করে শিব রইলে মহা শ্মশানে
যার মন ভালো নয় …
পিরিত করে মাকড়াই ঠাকুর বীর চন্দ্রপুরী
স্বকীয়া আর পরকীয়া দুইটি ভাব ধরে
আরে কি আনন্দ করেন প্রভু মিলে তিন জনে,
যার মন ভালো নয় …
গোঁসাই হরি বলছে শ্রীদাম শুন
হৃদ মাজারে দেখতে পাবি ভুবনও মোহন।
আগে গুরুর চরন করগা স্মরণ এক মনে প্রানে
যার মন ভালো নয়…
লোকসঙ্গীতঃ
লোক সঙ্গীত বাংলাদেশের সঙ্গীতের একটি অন্যতম ধারা। এটি মূলত বাংলার নিজস্ব সঙ্গীত। গ্রাম বাংলার মানুষের জীবনের কথা, সুখ দুঃখের কথা ফুটে ওঠে এই সঙ্গীতে। এর আবার অনেক ভাগ রয়েছে। এটি একটি দেশের বা দেশের যেকোনো অঞ্চলের কালচার সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। অনেকে ফোক বা লোকগীতি গানকে ওয়ার্ল্ড মিউজিকও বলে থাকেন।
সাধারণত কোন একটি অঞ্চলের নিজস্ব ঢঙে, সুর ও সঙ্গীত ব্যবহার করে, সে অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে এবং গানের কথায় সে অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে ফোক গানের সৃষ্টি করা হয়।
আমাদের দেশে জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, মুর্শিদী, গম্ভীরাসহ আরও নানা ধরণের ফোক গানের সম্ভার রয়েছে। লালন সাই, হাসন রাজা, শাহ আব্দুল করিম, আব্বাসউদ্দিন আহমদ, আব্দুল আলীম, মমতাজ এরা নানা সময়ে নানা ধরণের ফোক সঙ্গীত সৃষ্টি করে এবং গেয়ে জনপ্রিয় হয়েছেন। বর্তমান সময়ে লালন ব্যান্ড, জলের গান, অর্ণবসহ অনেক শিল্পী রয়েছেন যারা ফোক ফিউশন গান করে থাকেন। এছাড়াও আমেরিকাতে বব ডিলান, বব গিবসন, জন ডেনভারের মত শিল্পীরা ফোক গানের জন্য বিখ্যাত।
অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলায় বাউল নামে এক অধ্যাত্মবাদী চারণকবি সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটে। মনে করা হয়, তান্ত্রিক কর্তাভজা সম্প্রদায় ও ইসলামি সুফি দর্শনের ব্যাপক প্রভাব পড়েছিল এঁদের গানে। বাউলরা তাদের চিরন্তন অন্তর্যামী সত্ত্বা মনের মানুষ-এর ঘুরে ঘুরে গান গাইতেন এবং ধর্মে ধর্মে অযৌক্তিক ভেদাভেদ ও আনুষ্ঠানিকতার কথা তুলে ধরতেন। কুষ্টিয়ার লালন ফকিরকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাউল মনে করা হয়। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
![যার মন ভালো নয় [ Jar Mon Valo Noy ] 1 YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 যার মন ভালো নয় [ Jar Mon Valo Noy ]](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/1965/12/YaifwwriN4BzRFCyqbslL4-300x225.png)
বাউল সঙ্গীতের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট নাম হলেন মধ্যযুগের হাসন রাজা এবং আধুনিক যুগের বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম ও বাউল-সম্রাট পূর্ণদাস বাউল৷
বিষ্ণুপুর ঘরানা হল ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের হিন্দুস্তানি ধারার ধ্রুপদ সঙ্গীতের একটি ঘরানা এবং এটি সমগ্র বাংলার একমাত্র শাস্ত্রীয় (ধ্রুপদ) ঘরানা৷ বিষ্ণুপুর ঘরানা মল্ল রাজাদের রাজত্বকালে অধুনা পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর শহরে উৎপত্তিলাভ করে। দিল্লির বাহাদুর খান, যিনি তানসেন বাহাদুর খানের (আসল নাম রামতনু পাণ্ডে) একজন উত্তরসূরী ছিলেন, তিনি এই বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রবক্তা বলে অনেকে মনে করেন।
ঔরঙ্গজেবের আমলে অত্যাচার বৃদ্ধি পেলে বাহাদুর খান বিষ্ণুপুরের মল্লরাজা দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহদেব মল্লের আমলে তাঁর রাজদরবারে পালিয়ে আসেন। অনেকের মতে বাহাদুর খানের শিষ্য পণ্ডিত রামশরণ ভট্টাচার্যই হলেন এই ঘরানার প্রকৃত প্রবর্তক৷অনেকে মনে করেন আসলে ১৩৭০ খ্রিষ্টাব্দে মল্ল রাজদরবারে বিষ্ণুপুর ঘরানার সূত্রপাত ঘটেছিল।কিন্তু ১৮শ শতাব্দীতেই প্রথম এই ঘরানা বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। মল্ল রাজারা ছিলেন বিষ্ণুপুর ঘরানার পৃষ্ঠপোষক।
বিষ্ণুপুর ঘরানার বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞরা হলেন: উস্তাদ বাহাদুর খান, পণ্ডিত গদাধর চক্রবর্তী (কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীত), পণ্ডিত রামশরণ ভট্টাচার্য, পণ্ডিত যদুভট্ট, পণ্ডিত অনন্তলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, পণ্ডিত রামপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, পণ্ডিত গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, কৃষ্ণচন্দ্র দে, মান্না দে, পণ্ডিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, পণ্ডিত রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামী, সঙ্গীতাচার্য রাজেন্দ্রনাথ কর্মকার, পণ্ডিত গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তী, আচার্য যোগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, আচার্য সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গীতাচার্য রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গীতাচার্য অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়,পণ্ডিত নীহাররঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ,পণ্ডিত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়, পণ্ডিত ক্ষেত্রমোহন গোস্বামী, পণ্ডিত জ্ঞানেন্দ্রপ্রসাদ গোস্বামী, পণ্ডিত গোকুল নাগ, পণ্ডিত মণিলাল নাগ, বিদূষী মিতা নাগ, শ্রী পূর্বাচল বেরা প্রমুখ।