গাজার আল রাজি স্কুলে ইসরায়েলি বর্বরোচিত হামলায় বাবাকে হারানো ১২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কিমোর আবদুর রহমান আল-নাশাশ। হামলায় সে নিজেও গুরুতর আহত হয় এবং একটি পা হারায়। চিকিৎসার পর আবদুর রহমান মধ্য গাজার ঘনবসতিপূর্ণ বুরেইজ শরণার্থীশিবিরে ফিরে আসে। এখানে তার একমাত্র সঙ্গী একটি ওদ, মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র, যা এখন তার জীবনের কষ্ট ও আশা উভয়কেই প্রতিফলিত করে।
ছোটবেলায় তার বাবা প্রথম ওদটি উপহার দিয়েছিলেন এবং আবদুর রহমান বাবার তত্ত্বাবধানে সংগীত শেখা শুরু করেছিল। তবে হামলা তার জীবনের সব শান্তি ভেঙে দেয়। বাবাকে হারানোর শোক এবং নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সে ওদে সান্ত্বনা খুঁজে পায়।
ইনস্টাগ্রামে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি আবদুর রহমানের কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে বন্ধুদের সঙ্গে ওদ বাজাতে দেখা যায়। তার চিকিৎসা হয় জর্ডানে, যেখানে কৃত্রিম পা প্রাপ্তির পরও তার সাথে বাবার কিনে দেওয়া প্রিয় ওদটি রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাজার বুরেইজ শরণার্থীশিবিরে ফেরার পর এক শিক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার সংগীতের প্রতিভা। শিক্ষক নতুন একটি ওদ উপহার দিয়ে তাকে পুনরায় সঙ্গীতে ফিরিয়ে আনে।
এ শরণার্থীশিবিরে প্রায় হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার বসবাস করে, যাদের বেশির ভাগই বাস্তুচ্যুত ও মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অবরোধ এবং ধারাবাহিক হামলার কারণে শিবিরের জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত।
নীচের টেবিলে সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব তুলে ধরা হলো:
| ঘটনা | সংখ্যা/পরিমাণ | টীকা |
|---|---|---|
| নিহত ফিলিস্তিনি | 71,400+ | অধিকাংশ নারী ও শিশু |
| আহত ফিলিস্তিনি | 171,300+ | গুরুতর আহতের সংখ্যা অজানা |
| যুদ্ধবিরতি সূচনাঃ | 10 অক্টোবর ২০২৩ | হামলা কিছু এলাকায় অব্যাহত |
| শরণার্থী পরিবার | হাজারো | বুরেইজ শিবিরে বসবাসরত |
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার অবস্থা ধ্বংসস্তূপের মতো। জীবনযাত্রা চরমভাবে বিপর্যস্ত, তবে আবদুর রহমানের মতো শিশুদের জন্য সংগীত হয়ে উঠেছে টিকে থাকার নীরব প্রতিরোধ। ওদের করুণ সুর শুধু ব্যথার গল্প নয়, বরং জীবনের প্রতি তাদের অদম্য আশার প্রতীক।
