যৌবন বেলায় বন্ধু [ Jowbono Balay Bondhu ]

“যৌবন বেলার বন্ধু” গানটি লিখেছেন মরমী গীতিকবি, বাংলা লোক সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার, বাউলসাধক দুর্বিন শাহ ।

যৌবন বেলায় বন্ধু [ Jowbono Balay Bondhu ]

গীতিকারঃ দুর্বিন শাহ্‌

যৌবন বেলায় বন্ধু [ Jowbono Balay Bondhu ]

বন্ধু বিফলে গেল নব যৌবন।
যৌবন বেলায় না পেয়ে তোমায়
কাঁদিছে সদায় অবলার মন।।

আগে করেছিলে প্রেম দিয়া প্রতিশ্রুতি
ভুলবে না আমায় রবে চিরসাথী
থাকিবে সঙ্গে, দুজনে রঙ্গে, প্রেম তরঙ্গে হবে মিলন।।

আমার সর্বস্ব নিয়া সাজালে ভিখারী
তবু কেন দেখা পাই না তোমারী।
তুই বড় চতুর, ওরে মনচোর
নিশী করে ভোর, হইলে গোপন।।

পতিত পাবন তুই নাম তব দয়াল
তব আশায় উকিলে সেজেছি কাঙাল
পাই যেন দেখা হে জাল্লেজালাল
যেদিন দেহ মোর হবে পতন।।

দুর্বিন শাহ্‌ঃ

যৌবন বেলায় বন্ধু গানের গীতিকার দুর্বিন শাহ্‌ বাংলা লোক সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার, বাউলসাধক । তিনি ১৩২৭ বঙ্গাব্দের ১৫ কার্তিক (১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ এর ২ নভেম্বর) ছাতকের সুরমা নদীর উত্তর পারে নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় জন্মগ্রহণ করেন। এই তারামনি টিলা কালান্তরে দুরবীন টিলা নামে পরিচিত হয়। তার পিতা সফাত আলি শাহ ছিলেন একজন সুফি সাধক এবং মা হাসিনা বানু ছিলেন একজন পিরানী।ফলে সঙ্গীতচর্চার একটা পারিবারিক ঐতিহ্যেই তিনি বেড়ে উঠেছেন।

তার অধিকাংশ গানে সুফি ও মরমিবাদ যথেষ্টভাবে ফুটে উঠলেও এসবের বাইরে ভিন্ন মেজাজের অসংখ্য গান লিখেছেন। শ্রেণী বিভাজন করলে এসব গানগুলোকে বাউল, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক, গণসংগীত, মালজোড়া, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, গোষ্ঠ, মিলন, রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলী, হামদ-নাত, মারফতি, পির-মুর্শিদ স্মরণ আলা স্মরণ, নবি স্মরণ, ওলি স্মরণ, ভক্তিগীতি, মনঃশিক্ষা, সুফিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, কামতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, পারঘাটাতত্ত্ব, দেশের গানসহ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। এছাড়া বিবিধ শিরোনামে তার রচিত আরো বিভিন্ন পদাবলীকে চিহ্নিত করা যেতে পারে।

তিনি ৫৭ বছর বয়সে ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Comment