রথীন্দ্রনাথ রায় বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের একজন প্রখ্যাত শিল্পী। তিনি মূলতঃ বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে প্রচলিত লোকসঙ্গীত ভাওয়াইয়া গানের একজন শিল্পী। তিনি অনেক দেশাত্মবোধক গান গেয়ে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন এবং সিনেমাতেও প্রচুর গান গেয়েছেন। তিনি ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতারের নিয়মিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করে অনন্য ভূমিকা পালন করেন এবং কণ্ঠযুদ্ধশিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
রথীন্দ্রনাথ রায় । বাংলাদেশী লোকসঙ্গীতশিল্পী
জীবনী
রথীন্দ্রনাথ রায় ১৯৪৯ সালের ২৩ জানুয়ারি রংপুরের তারাগঞ্জের বগুলাগাড়ী গ্রামে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তবে তাঁর বেড়ে ওঠা নীলফামারী জেলার সূবর্ণখুলী গ্রামের পৈত্রিক বাড়িতে ।তার পিতা অন্যতম লোকসঙ্গীত শিল্পী, গীতিকার ও সুরকার হরলাল রায় এবং মা বীণাপাণি রায়।

তিনি ছোটবেলা থেকে সঙ্গীতের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন এবং বাবার কাছেই সঙ্গীতের প্রাথমিক তালিম গ্রহণ করেন। এরপর তিনি ওস্তাদ পি. সি গমেজের কাছে সঙ্গীতে তালিম নেন। আট বছর বয়সে তিনি বেতারে ও তের বছর বয়সে টেলিভিশনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ১৯৫৪ সাল থেকে তিনি ঢাকায় বসবাস শুরু করেন এবং তৎকালীন ‘রেডিও পাকিস্তান, ঢাকা’ কেন্দ্রে ভাওয়াইয়া গানের শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। রথীন্দ্রনাথ রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম এ ডিগ্রী অর্জন করেন।
সিনেমায় তাঁর প্রথম প্লেব্যাক ১৯৬৬ সালে খান আতাউর রহমানের সাত ভাই চম্পা ছবিতে। তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি দুবার ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে ফিল্ম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন পুরস্কারে ভূষিত হন এবং ১৯৯৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।
২০০০ সালে সর্বশেষ “হৃদয়ের বন্ধন” সিনেমার পর দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০১৯ সালে সরকারি অনুদানে নির্মিত নিশীথ সূর্য পরিচালিত ‘পায়রার চিঠি’ সিনেমায় প্লেব্যাক করেন লোকগানের জীবন্ত কিংবদন্তি রথীন্দ্রনাথ রায়।সম্প্রতি ২০২০ সালে তিনি ‘আগুনের জুতো পায়ে হাঁটছি’ শিরোনামের একটি নতুন গান গেয়েছেন।
পুরস্কার
- বাচসাস পুরস্কার (১৯৭৯, ১৯৮১)
- একুশে পদক (১৯৯৫)
- ওয়ার্ল্ড ইউথ ফেস্টিভালে জনপ্রিয় লোক গান পুরস্কার (পূর্ব জার্মানি, ১৯৭৩)
- ঐক্য-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস (২০২১, নিউইয়র্ক)
- ডাবল প্লাটিনাম ডিস্ক (এইচএমভি’ থেকে ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’ চলচ্চিত্রের জন্য)
