বলিউডের কালজয়ী সুরকার এ আর রহমান সম্প্রতি হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর কাজ কমে যাওয়ার পেছনে ‘সাম্প্রদায়িক অনুষঙ্গ’ থাকার যে ক্ষীণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রখ্যাত গীতিকার জাভেদ আখতার। রহমানের এই আক্ষেপের প্রেক্ষিতে জাভেদ আখতার সাফ জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ের চলচ্চিত্র জগতে ধর্মের চেয়ে মেধার মূল্যায়নই প্রধান এবং রহমানের প্রতি সবার মনে অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁর মতে, কোনো প্রকার বৈষম্য নয় বরং রহমানের আকাশচুম্বী মর্যাদাই অনেক সময় নির্মাতাদের তাঁর কাছে পৌঁছাতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
Table of Contents
রহমানের আক্ষেপ ও পরোক্ষ অভিযোগ
বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান বলেছিলেন, হিন্দি সিনেমায় বর্তমানে এমন কিছু মানুষ ক্ষমতার কেন্দ্রে আছেন যাদের সৃজনশীলতা নেই। তিনি আক্ষেপ করে জানান, তাঁকে কোনো প্রজেক্টে নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে মিউজিক কোম্পানিগুলো অন্য কাউকে বেছে নেয়। রহমান একে ‘চাইনিজ হুইস্পার্স’ বা কানকথার ফল হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, এর পেছনে হয়তো সাম্প্রদায়িক কোনো কারণ থাকলেও থাকতে পারে। যদিও সরাসরি কেউ তাঁর মুখে এমন কথা বলেনি, তবে পরোক্ষভাবে তিনি এমন আভাষ পাচ্ছেন বলে দাবি করেন।
জাভেদ আখতারের যুক্তি ও বিশ্লেষণ
বার্তা সংস্থা আইএএনএস-এর সঙ্গে আলাপকালে জাভেদ আখতার এই সাম্প্রদায়িক তত্ত্বের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, রহমানের মতো অস্কারজয়ী শিল্পীর ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক চিন্তা করা অমূলক। তাঁর মতে, রহমানের কাজ কমার পেছনে মূলত তিনটি কারণ থাকতে পারে যা নিচে তুলে ধরা হলো:
জাভেদ আখতারের বক্তব্যের মূল নির্যাস:
| আলোচনার বিষয় | বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও ব্যাখ্যা |
| ব্যস্ততার ভুল ধারণা | রহমানের বড় বড় কনসার্ট ও আন্তর্জাতিক ট্যুর দেখে নির্মাতারা ভাবেন তিনি হয়তো হিন্দি সিনেমার জন্য সময় দিতে পারবেন না। |
| প্রযোজকদের জড়তা | রহমানের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা এতই বেশি যে, ছোট বা মাঝারি বাজেটের প্রযোজকরা তাঁর কাছে প্রস্তাব নিয়ে যেতে দ্বিধাবোধ করেন। |
| সাম্প্রদায়িকতা প্রসঙ্গ | জাভেদ আখতারের মতে, মুম্বাইয়ের শিল্প সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক কোনো উপাদান নেই এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে তা কখনো দেখেননি। |
| সহজলভ্যতা | অনেকে মনে করেন রহমান সাধারণ প্রোজেক্ট করবেন না, যা একটি বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝি। |
ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতা কাঠামো ও সৃজনশীলতা
রহমান তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, সৃজনশীলতাহীন মানুষের ক্ষমতা দখলের ফলে কাজের মান ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে জাভেদ আখতার বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্নভাবে। তিনি মনে করেন, রহমান আজও মুম্বাইয়ের সবার কাছে সমান শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি বলেন, “আমি মুম্বাইয়ের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মিশি, তাঁরা রহমানকে অত্যন্ত সম্মান করেন। সাম্প্রদায়িকতার কোনো বিষয় এখানে নেই। আপনারা সরাসরি তাঁর কাছে কেন যান না? প্রস্তাব দিলে তিনি নিশ্চয়ই কাজ করবেন।”
রহমান অবশ্য হালকা চালে বলেছিলেন যে, কাজ না থাকলে তিনি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। কিন্তু হিন্দি সিনেমার বর্তমান ধারায় তাঁর মতো বড় শিল্পীর অনুপস্থিতি যে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি করছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। জাভেদ আখতারের এই মন্তব্য মূলত রহমানকে আবার মূলধারায় ফেরার এবং নির্মাতাদের তাঁর প্রতি সাহস দেখানোর একটি আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার
বলিউডের দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের এই পাল্টাপাল্টি পর্যবেক্ষণ মূলত ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান জটিল মানসিকতাকেই ফুটিয়ে তোলে। রহমান যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বৈষম্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন, জাভেদ আখতার সেখানে ‘মর্যাদাগত দূরত্ব’ ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’কে বড় করে দেখছেন। তবে সাম্প্রদায়িকতা থাকুক বা না থাকুক, দর্শক চায় এ আর রহমানের কালজয়ী সুর যেন আবারও নিয়মিতভাবে বড় পর্দায় ফিরে আসে।
