ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানট ভবনে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে দুইটার দিকে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শাহবাগে চলমান আন্দোলনের একাংশ হঠাৎ করে ধানমন্ডির দিকে অগ্রসর হয়ে ভবনে প্রবেশ করে এবং পরিকল্পনাহীনভাবে ভাঙচুর শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করে।
এই হামলা কেবল একটি স্থাপনায় আঘাত নয়—এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছেন শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। ছায়ানট ভবন দীর্ঘদিন ধরে নাটক, সঙ্গীত, নৃত্য ও সাহিত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের মিলনমেলা, রবীন্দ্র-নজরুল চর্চা, মৌসুমি উৎসব এবং নানা সৃজনশীল আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জাতির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে ধারাবাহিকভাবে লালন করে আসছে। ফলে এই ধ্বংসাত্মক হামলা শিল্পী সমাজের মধ্যে মানসিক আঘাত ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়িয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হামলাকারীদের ভবন থেকে বের করে দেওয়া হলেও আশপাশের এলাকায় কিছু সময় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভবনের অভ্যন্তরীণ আসবাবপত্র, আলোক ও শব্দ প্রযুক্তি, মঞ্চসজ্জা, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং আর্কাইভের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের ধোঁয়ায় দেয়াল ও ছাদেরও ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক আন্দোলনের উত্তেজনা যখন চরমে ওঠে, তখন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে এমন সহিংসতা দেশের দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা। এতে একদিকে যেমন সৃজনশীল কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে মতপ্রকাশের নিরাপদ পরিসরও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।
সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, ভবন পুনর্নির্মাণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংস্কৃতি সংশ্লিষ্টরা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্থায়ী নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি ও করণীয় (সংক্ষেপে):
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| ভাঙচুর | অভ্যন্তরীণ আসবাব ও মঞ্চসজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত |
| অগ্নিকাণ্ড | আলোক-শব্দ প্রযুক্তি ও নথিপত্রে ক্ষতি |
| নিরাপত্তা | পুলিশ-সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তা জোরদারে আলোচনা |
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংস্কৃতি অঙ্গনে একটাই দাবি—সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন সব সময় নিরাপদ থাকে, আর সৃজনশীল চর্চা কোনোভাবেই সহিংসতার শিকার না হয়।