রাহুল আনন্দ বাংলাদেশের একজন সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। তিনি তার গাওয়া গানের মধ্যে- রঙের গান, ও ঝরা পাতা, পাখির গান, বৃষ্টির গান, বকুল ফুল, বাউলা বাতাস ও দূরে থাকা মেঘ ব্যাপক জনপ্রিয়।
Table of Contents
রাহুল আনন্দ । বাংলাদেশী সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বাদ্যযন্ত্রী
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
রাহুল আনন্দের জন্ম বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলায়। তিনি ১৯৭৬ সালের ৩০ জুন তার নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার স্কুল জীবন কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। এরপর আবার কলেজ জীবন সিলেটে। সেখানেই তার থিয়েটারে যুক্ত হওয়া। কলেজ জীবন শেষ করে রাহুল আনন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলায় ভর্তি হন।রাহুল আনন্দের বেড়ে ওঠা হাওড় অঞ্চলে। এর ফলে তার মধ্যে মাটি ও মানুষের চিরচেনা অনুভব জায়গা করে আছে। আর তাই গানের মধ্যেও তিনি সেটা ফুটিয়ে তোলেন।
কর্মজীবন
১৯৯১ সালে বাবুল ভট্টাচার্যের কাছে বাঁশি শিখেছিলেন রাহুল। এরপর ধীরে ধীরে দেশীয় বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে নিজের দক্ষতা অর্জন করেন। তিনি নিজেও বেশ কিছু বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেছেন।
যেগুলো ‘জলের গান’-এ এনেছে ভিন্নতা।বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর রাহুল আরণ্যক নাট্যদলে যুক্ত হন। এরপর সহশিল্পীদের সঙ্গে গড়ে তোলেন নিজেদের নাট্যদল ‘প্রাচ্যনাট’। এই থিয়েটারে কাজের সময়েই অনেক গানের মানুষের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। আস্তে আস্তে গানের দিকে ঝুঁকতে থাকেন তিনি।
এরপর ২০০৬ সালে ‘জলের গান’ নাম নিয়ে নতুন গানের গানের দলের যাত্রা শুরু করেন রাহুল আনন্দ ও তার সহশিল্পীরা। তিনি আনন্দ মূলত একাধিক বাদ্যযন্ত্র যেমন- বাঁশি, ঢোল, দোতারা, হারমোনিয়াম ইত্যাদি বাঁজাতে পারদর্শী। এছাড়াও তিনি ও তার গানের দল জলের গান নিজেদের বানানো বাদ্যযন্ত্র দিয়েই সঙ্গীত পরিবেশন করে থাকেন।

দেশের বাইরে প্রথম শো করে ইউকেতে। সেটি ২০০৬ সাল। সব মিলিয়ে আটটি শো করেছে। এরপর ইন্ডিয়ায় মুম্বাইতে একটি উৎসবে শো করতে গিয়েছিল।
সংগীত প্রেমীদের উপহার দিয়েছেন এমন যদি হত, বকুল ফুল, পাতার গানসহ বেশ কিছু গান। তার গানে ফুটে উঠে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। হিংসা বিদ্বেষ দূরে রেখে ভালোবাসার গান করেন এই শিল্পী।
পারিবারিক জীবন
রাহুল আনন্দ তার স্ত্রী ঊর্মিলা শুক্লা ও একমাত্র ছেলে তোতাকে নিয়ে ধানমণ্ডি বত্রিশ নাম্বারের একটি বাড়িতে বসবাস করছেন।
