রিপন নাথ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের একজন খ্যাতিমান ও সফল শব্দ প্রকৌশলী। শব্দগ্রহণ ও শব্দ পরিকল্পনায় তার সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নিখুঁততার জন্য তিনি দেশ-বিদেশে প্রশংসিত। তিনি তিনবার শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক বিভাগে বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে নিজের দক্ষতার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
রিপন নাথ । শব্দ প্রকৌশলী । বাংলাদেশ
কর্মজীবনের শুরুর দিকে রিপন নাথ প্রায় এক দশক ধরে এশিয়াটিক ধ্বনিচিত্রে কাজ করেন। এই সময়েই তিনি শব্দ প্রকৌশলের নানা দিক নিয়ে গভীরভাবে কাজ করার সুযোগ পান। তার পেশাগত জীবনের প্রথম কাজ ছিল খ্যাতিমান নির্মাতা অমিতাভ রেজার নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে। পরবর্তীতে বিজ্ঞাপনচিত্রে তার যাত্রাও শুরু হয় অমিতাভ রেজার হাত ধরেই। বিজ্ঞাপন জগতে রিপন নাথের অভিষেক ঘটে সানসিল্কের একটি জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনচিত্রের মাধ্যমে, যা তাকে দ্রুত পরিচিতি এনে দেয়।
বড়পর্দায় রিপন নাথের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর তিনি একের পর এক আলোচিত ও সফল চলচ্চিত্রে শব্দ প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘সিতারা’-তেও কাজ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের দক্ষতার প্রমাণ রাখেন।
পুরস্কার প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও রিপন নাথের অর্জন উল্লেখযোগ্য। তিনি
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১২-এ চোরাবালি চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহকের পুরস্কার অর্জন করেন।
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৬-এ বহুল প্রশংসিত আয়নাবাজি চলচ্চিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক নির্বাচিত হন।
- পরবর্তীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৭-এ ঢাকা অ্যাটাক চলচ্চিত্রের জন্য আবারও শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহকের পুরস্কারে ভূষিত হন।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার সাফল্য চোখে পড়ার মতো। সার্ক চলচ্চিত্র উৎসব ২০১৯-এ ফাগুন হাওয়ায় চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সেরা শব্দ পরিকল্পনা বিভাগে পুরস্কার লাভ করেন।
সব মিলিয়ে, রিপন নাথ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে শব্দ প্রকৌশলের মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, যার কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শব্দ প্রকৌশলীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
