বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ বয় ব্যান্ড ‘ওয়ান ডিরেকশন’-এর সোনালী দিনের স্মৃতি এবং বর্তমান সংগীত বিশ্বে দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড ‘বিটিএস’-এর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন লুই টমলিনসন। সম্প্রতি বিলবোর্ড ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্ণনা করেছেন, কীভাবে ওয়ান ডিরেকশনের দীর্ঘদিনের রেকর্ডগুলো একে একে বিটিএস নিজেদের করে নিয়েছে। লুইয়ের মতে, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির এই পরিবর্তনশীল রূপ যেমন বিস্ময়কর, তেমনি ওয়ান ডিরেকশনের গড়া মাইলফলকগুলো হাতছাড়া হওয়া ছিল কিছুটা আবেগপূর্ণ।
বিটিএস বনাম ওয়ান ডিরেকশন: লুইয়ের পর্যবেক্ষণ
জেসন লিপশুটজের সাথে আলাপকালে লুই জানান, বিটিএস যখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল, তখন তিনি লক্ষ্য করতেন যে প্রায় প্রতিদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়ান ডিরেকশনের কোনো না কোনো রেকর্ড ভাঙার খবর আসত। লুই কৌতুকপূর্ণ স্বরে বলেন, “একটা সময় ছিল যখনই আমি টুইটারে (বর্তমানে এক্স) লগ-ইন করতাম, দেখতাম বিটিএস আমাদের কোনো একটা রেকর্ড নিয়ে গেছে—হয়তো দ্রুততম সময়ে কোনো কিছু বিক্রির রেকর্ড! এটা দেখে কিছুটা আক্ষেপ হতো ঠিকই, কিন্তু তাদের প্রতি আমার কোনো বিদ্বেষ নেই। ইন্ডাস্ট্রি এভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে যায়।”
সংগীত জগতের দুই প্রভাবশালী ব্যান্ডের তুলনামূলক চিত্র নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
বয় ব্যান্ডের বিবর্তন ও রেকর্ডের হাতবদল
| বিষয়ের ক্ষেত্র | ওয়ান ডিরেকশন (One Direction) | বিটিএস (BTS) |
| মূল আকর্ষণ | গতানুগতিক ছাঁচ ভেঙে ক্যাজুয়াল ইমেজ তৈরি করা। | নিখুঁত নাচ, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং কে-পপ সংস্কৃতি। |
| রেকর্ড ভাঙার উদাহরণ | দ্রুততম সময়ে অ্যালবাম ও কনসার্ট টিকিট বিক্রি। | ডিজিটাল স্ট্রিমিং ও ইউটিউবে দ্রুততম ভিউয়ের বিশ্বরেকর্ড। |
| লুইয়ের মন্তব্য | ওয়ান ডিরেকশন ছিল বয় ব্যান্ডের সংজ্ঞায় বৈপ্লবিক। | ওয়ান ডিরেকশনের প্রায় সব রেকর্ডই এখন বিটিএস-এর দখলে। |
| সাফল্যের মাইলফলক | ২০১০-এর দশকে বিশ্বজুড়ে একক আধিপত্য। | বর্তমান বৈশ্বিক মিউজিক চার্টে নিরঙ্কুশ প্রাধান্য। |
| আগামী পদক্ষেপ | সদস্যরা বর্তমানে একক ক্যারিয়ারে ব্যস্ত। | বিরতি কাটিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ফেরার প্রস্তুতি। |
ওয়ান ডিরেকশনের অনন্য বৈশিষ্ট্য ও বর্তমান সম্পর্ক
লুই মনে করেন, ওয়ান ডিরেকশন আগের সব বয় ব্যান্ডের প্রথাগত নিয়ম ভেঙে দিয়েছিল। তারা একই রকম পোশাক পরা বা সুনির্ধারিত নাচের মুদ্রা অনুসরণ করত না। এই স্বকীয়তাই তাদের অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছিল। বর্তমানে একক ক্যারিয়ারে লুই তাঁর নতুন অ্যালবাম ‘হাউ ডিড আই গেট হেয়ার?’ (How Did I Get Here?) নিয়ে ব্যস্ত, যা আগামী ২৩ জানুয়ারি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনে সতীর্থদের সাথে তাঁর সম্পর্ক এখন আগের চেয়েও গভীর।
লিয়াম পেইনের মৃত্যু ও শোকাতুর বন্ধুরা
২০২৪ সালের অক্টোবরে লিয়াম পেইনের আকস্মিক মৃত্যু ওয়ান ডিরেকশনের প্রাক্তন সদস্যদের মধ্যে এক নতুন সংহতি তৈরি করেছে। লুই জানান, লিয়ামের মৃত্যু হ্যারি স্টাইলস, নিয়াল হোরান এবং জায়ন মালিককে মানসিকভাবে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। লুইয়ের মতে, নিয়ালের সাথে তাঁর সম্পর্ক এমন যে, এক বছর কথা না হলেও দেখা হওয়ার সাথে সাথেই তারা আগের মতোই গভীর আড্ডায় মেতে উঠতে পারেন।
সংগীতের জগতে রেকর্ড আজ আছে কাল নেই, কিন্তু ওয়ান ডিরেকশন যে নতুন ঘরানার সূচনা করেছিল, লুই টমলিনসন আজও সেই গর্ব বয়ে চলেন। নতুন অ্যালবামের মাধ্যমে তিনি নিজের সংগীত প্রতিভাকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে যাবেন বলে ভক্তদের প্রত্যাশা।
