তিন দশকেরও বেশি সময় পর নতুন সংগীতায়োজনে আবারও শ্রোতাদের সামনে ফিরে এসেছে ব্যান্ড রেনেসাঁর জনপ্রিয় গান ‘আজ যে শিশু’। সময় পেরিয়ে গেলেও গানটির আবেগ, বার্তা এবং সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা আজও অটুট। এবার নতুন প্রজন্মের কাছে গানটি আরও প্রাণবন্তভাবে পৌঁছে দিতে একে নতুন করে সাজানো হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে।
নতুন এই সংস্করণে অংশ নিয়েছেন দেশের সংগীতাঙ্গনের চার প্রজন্মের চারজন জনপ্রিয় শিল্পী—পিলু খান, নকীব খান, পার্থ বড়ুয়া এবং বাপ্পা মজুমদার। তাদের কণ্ঠ ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গানটি পেয়েছে এক নতুন মাত্রা, যেখানে পুরোনো আবেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক সংগীতধারার ছোঁয়া।
গানটির নতুন সংগীতায়োজন করেছেন পার্থ বড়ুয়া। তার ভাষায়, মূল গানের আবেগ ও বার্তাকে অক্ষুণ্ন রেখেই নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও সুরের বিন্যাসে গানটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে এটি পুরোনো শ্রোতাদের পাশাপাশি তরুণদের কাছেও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে একটি ভিডিও প্ল্যাটফর্মে গানটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে জানাচ্ছেন, গানটি শুনে তারা আবারও পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফিরে গেছেন। একই সঙ্গে নতুন শ্রোতারাও গানটির গভীর মানবিক বার্তার সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন।
‘আজ যে শিশু’ গানটির কথা লিখেছেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী এবং সুর করেছেন পিলু খান। গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় উনিশশো তিরানব্বই সালে রেনেসাঁর দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘তৃতীয় বিশ্ব’-এ। প্রকাশের আগেই গানটি তৈরি হয়েছিল এবং প্রকাশের পর খুব দ্রুতই এটি শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বাংলা ব্যান্ড সংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় সৃষ্টি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।
নকীব খান জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কোনো ধরনের বাণিজ্যিক লাভ নয়, বরং শিশুদের অধিকার, তাদের নিরাপত্তা এবং সামাজিক সচেতনতা আরও বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া। তার মতে, সময় বদলালেও শিশুদের নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব কখনো কমে না। সমাজে তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, পুরোনো গান নতুনভাবে উপস্থাপন করা নতুন কিছু নয়, তবে এই গানটির ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। কারণ এখানে শুধুমাত্র সংগীত নয়, একটি সামাজিক দায়িত্বের কথাও উঠে এসেছে। শিশুদের প্রতি আচরণ, তাদের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার বিষয়গুলোই এই গানের মূল শক্তি।
বাপ্পা মজুমদার বলেন, কিছু গান সময়ের সীমা পেরিয়ে যায়। ‘আজ যে শিশু’ সেই ধরনেরই একটি গান। এর সুর সহজ হলেও তা শ্রোতার মনকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, আর কথাগুলো মানবিক বার্তা বহন করে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গানের নতুন সংস্করণে যুক্ত হতে পারা তার জন্য আনন্দের বিষয়।
নতুন সংগীতায়োজনে পার্থ বড়ুয়া চেষ্টা করেছেন গানের মূল আত্মাকে অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে। ফলে পুরোনো দিনের আবেগ এবং নতুন সময়ের সংগীতভাষা একসঙ্গে মিলেমিশে গেছে, যা গানটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
রেনেসাঁ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাদের অনেক গান শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং সমাজ, বাস্তবতা এবং মানবিক মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরেছে। ‘আজ যে শিশু’ সেই ধারারই একটি শক্তিশালী উদাহরণ, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব ও সচেতনতার বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিন দশক পর নতুন রূপে ফিরে আসা এই গান আবারও মনে করিয়ে দিল, ভালো সৃষ্টি কখনো পুরোনো হয় না—সময় বদলালেও তার আবেদন থেকে যায় অটুট।
