দেশীয় সংগীত জগতের কিংবদন্তি লাকী আখান্দকে কেন্দ্র করে লেখা একটি অপ্রকাশিত গান অবশেষে প্রকাশিত হলো নতুন কণ্ঠে। ১৯৯৮ সালের দিকে ধানমন্ডিতে গীতিকার গোলাম মোর্শেদের অফিসে গানটি সৃষ্টি ও সুরারোপের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই সময় লাকী আখান্দ নিয়মিতভাবে সন্ধ্যার পর ওই অফিসে গানের আড্ডায় অংশ নিতেন এবং বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতেন। ওই পরিবেশেই তার জন্য লেখা একটি গান তিনি নিজেই সুর করেছিলেন, যার শিরোনাম ‘যার কাছে মন রেখে’।
তবে নানা কারণে গানটি তখন তার কণ্ঠে রেকর্ড করা হয়ে ওঠেনি। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে গানটি অপ্রকাশিত অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। প্রায় ৩৪ বছর আগে লেখা ও সুর করা এই গানটি অবশেষে ১৫ এপ্রিল জনপ্রিয় শিল্পী তরুণ মুন্সীর কণ্ঠে প্রকাশিত হয়।
গীতিকার গোলাম মোর্শেদের বক্তব্য অনুযায়ী, লাকী আখান্দ তার জীবনের বড় একটি অংশ জুড়ে ছিলেন এবং তাকে ঘিরেই বহু গান তিনি রচনা করেছেন। ‘যার কাছে মন রেখে’ গানটি লাকী আখান্দ নিজেই সুর করেছিলেন, তবে সেটি তার কণ্ঠে গাওয়া সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যুর পর গানটি দীর্ঘ সময় অপ্রকাশিত অবস্থায় ছিল। পরে তিনি মনে করেন, লাকী আখান্দের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গানটি প্রকাশ করলে তরুণ মুন্সীর কণ্ঠই সবচেয়ে উপযুক্ত হবে। তাঁর মতে, তরুণ মুন্সী গানটি অত্যন্ত সফলভাবে উপস্থাপন করেছেন।
অন্যদিকে, শিল্পী তরুণ মুন্সী জানান, এই গান গাওয়া তার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, লাকী আখান্দের জন্য লেখা গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জন্য অবিশ্বাস্য অনুভূতি। ছোটবেলা থেকে যাঁর গান শুনে তিনি বড় হয়েছেন, সেই শিল্পীর সুরে গাওয়া গান পরিবেশন করা তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। তিনি আরও জানান, মূল সুর অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক সময়ের উপযোগী করে তিনি গানটি গেয়েছেন।
গানটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গান জানালা’র ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। এর মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেন রুমকী রুসা ও মাশরুর হোসাইন।
নিচে গানটির মূল তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গান | যার কাছে মন রেখে |
| গীতিকার | গোলাম মোর্শেদ |
| সুরকার | লাকী আখান্দ |
| শিল্পী | তরুণ মুন্সী |
| প্রকাশের তারিখ | ১৫ এপ্রিল |
| প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান | গান জানালা |
| ভিডিও পরিচালক | রুমকী রুসা ও মাশরুর হোসাইন |
দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত এই গানটি নতুন কণ্ঠে প্রকাশের মাধ্যমে লাকী আখান্দের সৃজনশীল অবদানকে আবারও শ্রোতাদের সামনে নিয়ে এসেছে।