লালনসংগীতের অমর কণ্ঠস্বর ফরিদা পারভীনের স্মৃতিতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আগামীকাল বিশেষ আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের গানপ্রেমীদের কাছে “লালনের কণ্ঠস্বরের ধারক” হিসেবে পরিচিত ফরিদা পারভীন তাঁর জীবনকালের শেষদিন পর্যন্ত চেয়েছিলেন শিষ্যদের মধ্যে বেঁচে থাকতে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি গড়ে তুলেছিলেন অচিন পাখি সংগীত একাডেমি, যেখানে লালনের গান শেখানো হয় নতুন প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের।
ফরিদা পারভীন নিজ জীবনের অনুভূতি ব্যক্ত করে একবার বলেছেন,
“সাঁইজি যেমন তাঁর শিষ্যদের মাঝে বেঁচে আছেন, আমার মাঝে আমার গুরু বেঁচে আছেন, তেমনি আমি চাই আমার অচিন পাখির ছাত্রছাত্রীদের মাঝে বেঁচে থাকতে।”
আগামীকাল, ৩১ ডিসেম্বর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ জন্মদিন অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শিষ্য ও সমসাময়িক শিল্পীরা শিল্পীর জীবন ও কর্মের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করবেন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করা হবে।
প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথির তালিকা:
| দায়িত্ব | অতিথি |
|---|---|
| প্রধান অতিথি | ফরিদা আখতার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা |
| বিশেষ অতিথি | মাহবুবা ফারজানা, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব |
| বিশেষ অতিথি | রেজাউদ্দিন স্টালিন, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক |
| উদ্বোধক | ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান |
| সভাপতিত্ব | গাজী আবদুল হাকিম, জীবনসঙ্গী ও বংশীবাদক |
ফরিদা পারভীন ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মাগুরার কমল চক্রবর্তীর কাছে গানের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৪ বছর বয়সে তিনি পেশাদার সংগীত জীবনের সূচনা করেন। তাঁর শিল্পজীবনে নজরুলগীতি, দেশাত্মবোধক গানসহ নানা রকমের গানের অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি মূলত লালনসংগীতে বিশেষভাবে খ্যাতি অর্জন করেন।
ফরিদা পারভীনের মূল পুরস্কারসমূহ:
| পুরস্কার | বছর |
|---|---|
| একুশে পদক | ১৯৮৭ |
| জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার | ১৯৯৩ |
| জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কার | ২০০৮ |
দীর্ঘ অসুস্থতার পর ফরিদা পারভীন এ বছর ১৩ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তিনি কিডনি সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর অসামান্য অবদান বাংলা সংগীতজগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।