লিলুয়া বাতাসে প্রাণ [ Liluwa Batashe Pran ]

” লিলুয়া বাতাসে প্রাণ “ গানটি গেয়েছেন বারী সিদ্দিকী এবং লিখেছেন উকিল মুন্সী । উকিল মুন্সী একজন বাঙালি বাউল সাধক। তার গুরু ছিলেন আরেক বাউল সাধক রশিদ উদ্দিন।

লিলুয়া বাতাসে প্রাণ [ Liluwa Batashe Pran ]

গীতিকারঃ উকিল মুন্সী

সুরকারঃ উকিল মুন্সী

প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ বারী সিদ্দিকী 

লিলুয়া বাতাসে প্রাণ [ Liluwa Batashe Pran ]

লিলুয়া বাতাসে প্রাণ

না জুড়ায় না জুড়ায় রে
লিলুয়া বাতাসে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে
একা ঘরে ঘুম আসে না
একা ঘরে ঘুম আসে না
শুইলে বিছানায়-রে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে
লিলুয়া বাতাসে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে

নিষেধ করি ওরে হাওয়া
লাগিস না মোর গায় রে হাওয়া
লাগিস না মোর গায়
যার পিরীতে পোড়া অঙ্গ
যার পিরীতে পোড়া অঙ্গ
তারে মনে চায়- রে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে
লিলুয়া বাতাসে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে

ঘরে আর বাইরে আমি

ঘুরি সর্বদায়- রে হাওয়া
ঘুরি সর্বদায়
এমন বান্ধব নাই রে আমার
এমন বান্ধব নাই রে আমার
বন্ধুরে দেখায়- রে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে
লিলুয়া বাতাসে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে
একা ঘরে ঘুম আসে না
একা ঘরে ঘুম আসে না
শুইলে বিছানায়-রে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে
লিলুয়া বাতাসে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে
লিলুয়া বাতাসে প্রাণ
না জুড়ায় না জুড়ায় রে

বারী সিদ্দিকীঃ

বারী সিদ্দিকী বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশী বাদক। তিনি মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করে থাকেন। তিনি তার গাওয়া ‘শুয়া চান পাখি, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘পুবালি বাতাসে’ প্রভৃতি গানের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলায় এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোণার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষ সহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন।

তিনি গোপাল দত্ত এবং ওস্তাদ আমিনুর রহমান থেকে লোক এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে পাঠ নিয়েছেন। মূলত বংশী বাদক বারী সিদ্দিকী কথাসাহিত্যিক ও চিত্রনির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের প্রেরণায় নব্বইয়ের দশকে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন এবং অল্পদিনেই বিরহ-বিচ্ছেদের মর্মভেদী গানের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন।

২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

উকিল মুন্সীঃ

নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ির নূরপুর বোয়ালীগ্রামে ১৮৮৫ সালের ১১ জুন একটি ধনাঢ্য মুসলিম পরিবারে উকিল মুন্সী জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম আব্দুল হক আকন্দ। তার পিতার নাম গোলাম রসুল আকন্দ ও মাতা উকিলেন্নেসা।শৈশবে তিনি ঘেটুগানে যোগ দেন। পরে গজল ও পরিণত বয়স থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বাউল সাধনায় লিপ্ত থাকেন। তার গজল গানের সূত্রপাত হয় তরুণ বয়সে । তার অনেক গান বাংলা চলচ্চিত্রে সংযোজন হয়েছে। ১৯৯৯ সালে কথাসাহিত্যিক ও চিত্রনির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রে বারী সিদ্দীকীর কণ্ঠে ব্যবহার করেন উকিলের গান। বিংশ শতাব্দীর গ্রামীণ বাংলার জীবনকে নিয়ে রচিত হুমায়ুন আহমেদের বহুকেন্দ্রিকা উপন্যাস মধ্যাহ্ন-এর অন্যতম চরিত্র উকিল মুন্সী।

উকিল মুন্সী ১৯৭৮ সালের ১২ ডিসেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন ।

Leave a Comment