লোকমান হোসেন ফকির একজন বাংলাদেশী সঙ্গীতজ্ঞ। তিনি একজন গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে প্রসিদ্ধ। একুশের গানের অন্যতম একজন সুরকার তিনি। সঙ্গীতে অবদানের জন্য মরণোত্তর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক-এ ভূষিত হন। চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য দেবু ভট্টাচার্য-এর সাথে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
Table of Contents
লোকমান হোসেন ফকির । বাংলাদেশী সঙ্গীতজ্ঞ
প্রাথমিক জীবন
লোকমান হোসেন ফকির ১৯৩৪ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) টাঙ্গাইল জেলার ভুয়াপুরের নিকরাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
কর্মজীবন
লোকমান হোসেন ফকির ১৯৬০ সালে বেতার কণ্ঠশিল্পী হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে তিনি বেতার ও টেলিভিশনে গীতিকার ও সুরকার হিসেবে কাজ করেন। তিনি মূলত লোক সঙ্গীত-এ পারদর্শিতা অর্জন করেন। চরিত্রহীন চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনার জন্য দেবু ভট্টাচার্যের সাথে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে অর্জন করেন। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে আমি শুনছি কবিতার বই ও লোকমান ফকিরের গান গীতি কবিতা উল্লেখযোগ্য।
লোকমান হোসেন একজন সমাজহিতৈষী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন। নিজ গ্রাম নিকরাইলে ১৯৮৬ সালে শমসের ফকির বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। তার রচিত ও সুরারোপিত কয়েকটি গান হলো আবার জমবে মেলা বটতলা হাটখোলা, পতাকায় বাঁধা লাল সূর্যটা চিরদিন অম্লান থাকবে এবং আমায় একজন সাদা মানুষ দাও যার রক্ত সাদা, আমায় একজন কালো মানুষ দাও যার রক্ত কালো। তার এই গানটিতে সুর দিয়েছেন সঙ্গীতজ্ঞ ভূপেন হাজারিকা।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর, গোপালপুর ও ধনবাড়ী অঞ্চলে তার একক উদ্যোগে এবং আর্থিক সহায়তায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় শিক্ষালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ‘মহুয়া’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ এবং ‘চরিত্রহীন’ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিবেশন করে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হোন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
একুশে পদক
- ২০০৩: সঙ্গীত (মরণোত্তর)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
- ১৯৭৫: শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক – চরিত্রহীন
মৃত্যু
লোকমান হোসেন ফকির ১৯৯১ সালের ২৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন।
