স্পেনের কর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আইনি বিরোধে অবশেষে বড় ধরনের স্বস্তি পেলেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান সংগীতশিল্পী শাকিরা। দেশটির জাতীয় উচ্চ আদালত তার বিরুদ্ধে আরোপিত প্রায় পাঁচ কোটি পঞ্চান্ন লক্ষ ইউরো জরিমানা অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ২০১১ করবর্ষে শাকিরাকে স্পেনের কর আবাসিক হিসেবে গণ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত প্রমাণে কর কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কোনো ব্যক্তিকে স্পেনে করদাতা বা কর আবাসিক হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে বছরে নির্দিষ্ট সময়, অর্থাৎ অন্তত একশত তিরাশি দিন অবস্থান করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। কিন্তু বিচারিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১১ সালে শাকিরা স্পেনে মোট একশত তেষট্টি দিন অবস্থান করেছেন, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় কুড়ি দিন কম। এই কারণে আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, ওই বছর তাকে স্পেনের কর আবাসিক হিসেবে গণ্য করা আইনগতভাবে সঠিক নয়।
শাকিরার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে, ওই সময়ে তিনি বিশ্বজুড়ে সংগীত সফরে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। বিভিন্ন দেশে একাধিক কনসার্ট আয়োজনের কারণে বছরের বড় অংশ স্পেনে অবস্থান করা তার জন্য বাস্তবসম্মত ছিল না। আদালত তার এই যুক্তিকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে রায় প্রদান করে।
রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় শাকিরা জানান, দীর্ঘ আট বছর ধরে তিনি মানসিক চাপ, জনসমালোচনা এবং নানা ধরনের অপপ্রচারের মধ্য দিয়ে গেছেন। তার ভাষায়, এই রায়ের মাধ্যমে অবশেষে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শুধু জরিমানাই নয়, সংশ্লিষ্ট সুদও ফেরত দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত রয়েছে।
তবে স্পেনের কর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করবে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না বলেও তারা উল্লেখ করেছে। উল্লেখ্য, শাকিরার দীর্ঘদিনের প্রধান আবাস ছিল বাহামায়, যা তার কর আবাসিকতা নিয়ে বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
ব্যক্তিগত জীবনে শাকিরা ২০১০ সালে স্পেনের ফুটবল তারকা জেরার্দ পিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। পরবর্তীতে তাদের দুটি সন্তান জন্ম নেয় ২০১৩ এবং ২০১৫ সালে। দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২০২২ সালে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। এই সময়েই তার কর সংক্রান্ত আইনি জটিলতা আরও জোরালোভাবে সামনে আসে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে তিনি ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে কর সংক্রান্ত ছয়টি অভিযোগ স্বীকার করে নেন এবং কারাদণ্ড এড়াতে প্রায় সাত কোটি ত্রিশ লক্ষ ইউরো জরিমানা দিতে সম্মত হন। সে সময় তিনি জানান, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং সংগীত ক্যারিয়ার রক্ষার স্বার্থেই তিনি সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো—
| সময়কাল | ঘটনা | ফলাফল |
|---|---|---|
| ২০১১ | কর আবাসন নিয়ে প্রাথমিক বিতর্ক শুরু | কর কর্তৃপক্ষ কর দাবি করে |
| ২০১২–২০১৪ | অভিযোগের পরিধি বৃদ্ধি | একাধিক কর অভিযোগ উত্থাপিত হয় |
| ২০২৩ | সমঝোতা চুক্তি সম্পাদন | বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে অভিযোগ স্বীকার |
| সাম্প্রতিক রায় | জাতীয় উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত | প্রায় পাঁচ কোটি পঞ্চান্ন লক্ষ ইউরো জরিমানা বাতিল |
এই রায় আন্তর্জাতিক সংগীত ও বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এটি শাকিরার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কর আইনি বিতর্কেও নজির হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
