বাংলাদেশি রক ব্যান্ড শিরোনামহীন টরন্টো প্যাভিলিয়নে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত লাইভ পারফরম্যান্স দিয়ে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করলো।
কানাডার বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এই কনসার্ট ছিল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুহূর্ত, যা পরিণত হলো এক সঙ্গীত, স্মৃতি ও মিলনের রাত। রক, ক্লাসিকাল ও ফোকের মিশ্রণে শিরোনামহীন তাদের স্বতন্ত্র সুরে সবার হৃদয় ছুঁয়েছে, এবং রাতভর তারা দর্শকদের মন জয় করেছে।
ইভেন্ট আয়োজক মিক্সটেপের শাইফুল আজিম মহিম তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রবাসীরা সত্যিই খুশি, যখন এমন জনপ্রিয় একটি ব্যান্ড শিরোনামহীন আমাদের দেশে এসে পারফর্ম করে। এটি খুব একটা হয় না, এবং আমাদের জন্য এটি অনেক বড় একটি বিষয়। সেই কয়েক ঘণ্টা আমরা সারাজীবন মনে রাখবো।”
ব্যান্ড তাদের পরিবেশনা শুরু করে “যাহাজী” দিয়ে, যা তাদের ডেব্যু অ্যালবামের শিরোনাম গান, এবং সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। এক বিশেষ মুহূর্তে ড্রামার এবং কম্পোজার কাজী আহমেদ শাফিন সরােদ বাজান, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সৌন্দর্য দর্শকদের সামনে তুলে ধরলো।
এছাড়াও, শিরোনামহীন টরন্টোর বাংলাদেশি কমিউনিটির এক তরুণ ড্রামার নিশরগোকে তাদের সঙ্গে পারফর্ম করার আমন্ত্রণ জানায়। এটি ছিল একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদের তাদের সঙ্গীতের শেকড়ের সঙ্গে পুনঃসংযোগ করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। সরােদের গভীর সুর ভেন্যুতে একটি বিশেষ আবহ সৃষ্টি করেছিল, যা টরন্টোর লাইভ মিউজিক দৃশ্যে সচরাচর দেখা যায় না।
সারাদিনের পারফরম্যান্সে শিরোনামহীন মোট ১৬টি গান পরিবেশন করে, প্রতিটি গানেই দর্শকদের সমর্থন ও আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাদের সেটলিস্টটি ছিল এক অনবদ্য সমন্বয়—যেখানে অনুভূতি এবং শক্তি একে অপরকে পরিপূরক করেছে, আর ব্যান্ডের সুর ও গীতির গভীরতা দর্শকদের হৃদয়ে প্রভাব ফেলেছে।
৪ নভেম্বর শিরোনামহীন বাংলাদেশে ফেরার জন্য কানাডা ত্যাগ করেছে, কারণ তাদের আগেই সেখানে কিছু প্রতিশ্রুতি ছিল। যদিও তাদের কাছে আরও শো করার প্রস্তাব ছিল, তবে সময়সীমার কারণে তারা তাদের অবস্থান আরও বাড়াতে পারেনি।
এছাড়া শিরোনামহীন ঘোষণা করেছে যে তারা ডিসেম্বর মাসে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের সিক্যুয়েল “এই অবেলায় ২” মুক্তি দিতে যাচ্ছে। ব্যান্ডটি তাদের ভক্তদের সমাজ সচেতন সঙ্গীত এবং সেই সঙ্গীতশিল্পীদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করেছে।
টরন্টোয় তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোনামহীন আবারো প্রমাণ করেছে যে তারা বাংলাদেশের এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন ব্যান্ড, যারা সঙ্গীত এবং সঞ্চিত আবেগের মাধ্যমে মহাদেশের পরিভ্রমণ করে শ্রোতাদের একত্রিত করছে।
