সাধারণত শিশুরা রূপকথা, খেলা, বা আনন্দমুখর গল্পের মাধ্যমে গান শোনে। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গান সেই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙেছে। শিশুশিল্পী মৃন্ময়ী মেঘার কণ্ঠে গাওয়া তৃতীয় মৌলিক গান ‘অবিশ্বাসের দেশে’ বড়দের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ও পরামর্শ তুলে ধরেছে। প্রথম শুনতে কিছুটা খটকা লাগলেও গানের মর্ম শেষ পর্যন্ত মনকে ভাবায়।
গানের কথা ও সুর করেছেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর, সংগীতায়োজন করেছেন অটমনাল মুন। গানটি প্রকাশিত হয়েছে গানশালা ইকেএনসি ইউটিউব চ্যানেলে, ভিডিও নির্মাণ করেছেন মুজাহিদ মিজাব, যেখানে মৃন্ময়ী মেঘা কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন।
গানের কিছু লাইন যেমন—
“ফাঁকা কলস বাজছে যখন এলোমেলো সুরে, আবোলতাবোল যা ইচ্ছা তাই শুনছি ঘুরে ঘুরে / ইতিহাসের নাকের ডগায় পাহারাদার বসে, ঘুমের ঘোরে সারাটা দিন কপালটাকে ঘষে / অবিশ্বাসের দেশে, একটা কিছু করে দেখাও খানিক ভালোবেসে…”—
শিশুমনের চোখে বড়দের সমাজ ও আচরণের প্রতিফলন ঘটায়। যদিও রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত রয়েছে, প্রকাশভঙ্গি পুরোপুরি অরাজনৈতিক।
এনামুল করিম নির্ঝর গানের পটভূমি ব্যাখ্যা করে বলেন, “সময়টা এমন, কার কথা কে শুনবে বোঝা কঠিন। আমাদের অন্যায়-অনিয়মগুলো বাচ্চারা অনেকটাই বোঝে; কিন্তু তারা তো আর সেগুলো ধরিয়ে দিতে পারে না। সেখান থেকেই মনে হলো, বড়দের নিয়ে যদি বাচ্চারা গান করে, তাহলে হয়তো সবার কানে পৌঁছাতে পারে। তাতে যদি আমাদের একটু হুঁশ ফেরে।”
মৃন্ময়ী মেঘা তার অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “নির্ঝর আংকেলের কথা-সুরে এবং মুন আংকেলের সংগীতে এটি আমার দ্বিতীয় গান। এবারের গানটিও গেয়ে আমি খুব ভালো লাগছে। ভিডিওটাও অনেক সুন্দর হয়েছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আরও সুন্দর গান গাইতে পারি।”
নিচের টেবিলে মৃন্ময়ী মেঘার তিনটি মৌলিক গানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| গান সংখ্যা | গান শিরোনাম | প্রকাশের সাল | গানের কথা ও সুর | সংগীতায়োজন |
|---|---|---|---|---|
| ১ | ভূতের রাজা দিলো বর | ২০২৪ | অটমনাল মুন | অটমনাল মুন |
| ২ | হাউ মাউ খাউ | ২০২৫ | এনামুল করিম নির্ঝর | অটমনাল মুন |
| ৩ | অবিশ্বাসের দেশে | ২০২৬ | এনামুল করিম নির্ঝর | অটমনাল মুন |
এই ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত তৃতীয় গান ‘অবিশ্বাসের দেশে’ শিশুদের দৃষ্টিকোণ থেকে বড়দের আচরণ ও সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। গানের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে—ছোটদের কণ্ঠও শোনা প্রয়োজন, কারণ তাদের সরল দৃষ্টিকোণ প্রাপ্তবয়স্কদের আচরণকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে।
