হিউস্টনের এক ছোট কিশোরী মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান গাইত যে মেয়েটি, আজ তার নাম বিশ্বসংগীত ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। বিয়ন্সে নোলস কেবল একটি বিশ্বখ্যাত পপ তারকা নন; তিনি একজন বিলিয়নিয়ার শিল্পী, উদ্যোক্তা এবং সংগীত ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারীদের একজন। ছোট স্বপ্নগুলো থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে তাঁর পথচলা রূপ নিল একটি বৈশ্বিক বিনোদন সাম্রাজ্যে, যা এখন কোটি কোটি মানুষের জীবনকে স্পর্শ করছে।
২০০৮ সালে বিয়ন্সে নিজের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করতে ‘পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিকভাবে এটি অনেকের কাছে কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল তাঁর ব্যবসায়িক ও সৃজনশীল সাম্রাজ্যের ভিত্তি। পার্কউডের মাধ্যমে বিয়ন্সে সংগীত, কনসার্ট, ভিজ্যুয়াল অ্যালবাম এবং তথ্যচিত্রের মালিকানা নিজের হাতে নিয়েছেন। ঝুঁকি বড় হলেও, লাভের বড় অংশ সরাসরি তাঁর ঝুলিতে আসে—এটাই ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মূল কৌশল।
গত কয়েক বছরে বিয়ন্সের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ সমৃদ্ধিতে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালে তাঁর ‘রেনেসাস ওয়ার্ল্ড টুর’ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা প্রমাণ করে তাঁর লাইভ পারফরম্যান্সের ক্ষমতা। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া অ্যালবাম ‘কাউবয় কার্টার’ নতুন ঘরানার সাহসিকতার পরিচায়ক। ২০২৫ সালে এই অ্যালবামকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত ট্যুর বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী কনসার্ট ট্যুরের মধ্যে স্থান পায়।
নিচের টেবিলে বিয়ন্সের সাম্প্রতিক মূল আয় উৎস ও আনুমানিক অর্থ দেখানো হলো:
| বছর | প্রকল্প/টুর নাম | আয় (মিলিয়ন ডলার) | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ২০১৯ | হোমকামিং: নেটফ্লিক্স | ৬০ | তথ্যচিত্রের স্ট্রিমিং পারিশ্রমিক |
| ২০২৩ | রেনেসাস ওয়ার্ল্ড টুর | ৬০০ | বিশ্বজুড়ে কনসার্ট ও বিক্রয় পণ্য থেকে আয় |
| ২০২৪ | ক্রিসমাস ডে এনএফএল হাফটাইম শো | ৫০ | লাইভ পারফরম্যান্স ও ব্র্যান্ড পার্টনারশিপ |
| ২০২৫ | কাউবয় কার্টার টুর | ৪৫০ | টিকিট ও কনসার্ট পণ্য বিক্রি |
| ২০২৫ | মোট বার্ষিক আয় | ১৪৮ | কনসার্ট, ক্যাটালগ, ব্র্যান্ড চুক্তি মিলিয়ে |
ফোর্বসের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পার্কউড প্রায় সব প্রজেক্টের প্রযোজনার খরচ নিজেই বহন করে, ফলে লাভের বড় অংশ সরাসরি বিয়ন্সের ঝুলিতে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা এবং সৃজনশীল দূরদর্শিতা তাঁকে অন্যান্য শিল্পীর তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে রেখেছে।
তবে বিয়ন্সের প্রভাব কেবল অর্থে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষ্ণাঙ্গ সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল স্বাধীনতার এক শক্তিশালী প্রতীক। তাঁর বিলিয়নিয়ার হওয়া প্রমাণ করে যে একজন শিল্পী নিজেই হতে পারেন ব্যবসায়ী, প্রযোজক এবং কৌশলবিদ। আজ বিয়ন্সে কেবল একটি পপ তারকা নয়; তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান, এবং আধুনিক বিনোদন শিল্পের এক শক্তিশালী অধ্যায়।
