মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে বাংলাদেশের রাজনীতির এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৬টায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে সারাদেশে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি শোকাহত হয়ে পড়ে দেশের সাংস্কৃতিক ও বিনোদন জগতও। শোবিজ অঙ্গনের শিল্পীরা একে একে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এই প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়ককে।
অনেক শিল্পীর চোখে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু মানে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিদায় নয়, বরং একটি যুগের সমাপ্তি। তাঁদের পোস্টে ফুটে উঠেছে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, সংগ্রামমুখর পথচলা, বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক অবস্থান। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা সত্ত্বেও, একজন নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অবদান শিল্পীদের শ্রদ্ধায় বারবার উঠে এসেছে।
বরেণ্য অভিনেতা তারিক আনাম খান তাঁর ফেসবুক পোস্টে গভীর শোক প্রকাশ করে লেখেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মহান আল্লাহর কাছে এই শোক সহ্য করার শক্তি কামনা করেন।
জনপ্রিয় উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেত লেখেন, জাতি আজ একজন অভিভাবককে হারাল। তাঁর ভাষায়, দেশ ও জাতির কল্যাণে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জান্নাতুল ফিরদাউস কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
নগরবাউল জেমস তাঁর শোকবার্তায় বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, দেশের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন।
চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেতা আরিফিন শুভ লেখেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিদায় একটি দীর্ঘ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। আল্লাহ যেন তাঁকে উত্তম মর্যাদা দান করেন—এই প্রার্থনাও জানান তিনি।
চিত্রনায়িকা পরীমণি তাঁর পোস্টে আবেগঘন ও কাব্যিক ভাষায় লিখেছেন, “তিনি চলে গেলেন, তবু থেকে গেলেন—এই মানচিত্রে, এই ইতিহাসে।” তাঁর কথায় উঠে আসে এক ধরনের মানবিক শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণা।
এ ছাড়াও অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা, চিত্রনায়িকা পূজা চেরি, অপু বিশ্বাস, শবনম বুবলী, অভিনেতা আরশ খান, অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমকসহ শোবিজ অঙ্গনের অসংখ্য পরিচিত মুখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ও শোকবার্তা প্রকাশ করেন। অনেকেই তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানান।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে শোবিজ অঙ্গনের এই সম্মিলিত শোকবার্তা প্রমাণ করে—রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে চিরতরে বন্ধ করে দিল।
শোবিজ অঙ্গনের উল্লেখযোগ্য শোকবার্তা :
| তারকা | শোকবার্তার মূল বক্তব্য |
| তারিক আনাম খান | প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা ও দোয়া |
| হানিফ সংকেত | জাতি হারিয়েছে একজন অভিভাবক |
| নগরবাউল জেমস | বিনম্র শ্রদ্ধা ও মাগফিরাত কামনা |
| আরিফিন শুভ | দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি |
| পরীমণি | আবেগঘন ও কাব্যিক শ্রদ্ধা |
| জিয়াউল ফারুক অপূর্ব | গভীর শোক ও সমবেদনা |
| আশনা হাবিব ভাবনা | বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা |
| পূজা চেরি | শোক প্রকাশ |
| অপু বিশ্বাস | শ্রদ্ধা ও সহানুভূতি |
| শবনম বুবলী | শোক ও দোয়া |
| আরশ খান | গভীর দুঃখ প্রকাশ |
| রুকাইয়া জাহান চমক | শোকবার্তা ও সমবেদনা |
এই শোকাহত প্রতিক্রিয়াগুলোই জানান দেয়—বেগম খালেদা জিয়া শুধু রাজনীতির নন, বাংলাদেশের সামগ্রিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
