সঙ্গীতের ইতিহাস – পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগ [বিংশ শতাব্দী]

সঙ্গীতের ইতিহাস – পাক- ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগ [বিংশ শতাব্দী], Muslim Era in Indian Music [Twentieth Century] নিয়ে আজকের আলোচনা। ঊনবিংশ শতাব্দী হ’তে বর্তমান কাল পর্যন্ত বিভিন্ন সঙ্গীত গুণীদের আলোচনায় অন্যান্য দেশ অপেক্ষা সঙ্গীত চর্চ্চা, সমারোহ ও বিভিন্ন বিখ্যাত গুণীদের অবদানে রামপুর ও লক্ষ্মেীই আজ উন্নত শিখরে পৌঁচেছে। মধ্যযুগীয় বিভিন্ন বাদশাহ, সম্রাট ও রাজাদের তুলনায় পরবর্তী কালের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রদেশের নবাবদের সঙ্গীতানুরাগের কথাও পাক-ভারতীয় সঙ্গীতের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর অন্তর্ভুক্ত। যেমন,

সঙ্গীতের ইতিহাস – ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগ – রামপুর [Muslim Era in Indian Music [Rampur] :-

পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগ : বিগত শতাব্দী হতে বর্তমান কাল পর্যন্ত রামপুরের নবাব কালবে আলি খাঁন, শাহজাদা সাদাত আলি খাঁন, নবাব হামিদ আলি খাঁন এবং নবাব রাজা আলি খাঁন প্রমুখ নবাবদের মধ্যে নবাব রাজা আলি খাঁন অভিজ্ঞ সঙ্গীতবিদ ছিলেন। নবাব রাজা আলি খাঁন পাক-ভারতীয় আভিজাতিক সঙ্গীতের একখানা গ্রন্থও লিখেছিলেন। ইহা ছাড়া নৃত্য সঙ্গীতে তাঁর বিচক্ষণতার পরিচয়ও পাওয়া যায়।

বিগত ও বর্তমান কালের সঙ্গীতবিদদের মধ্যে উজীর খাঁন (বীণকার) [ Wazir Khan, Binakar], পিয়ারী সাহেব (ধ্রুপদী), মুস্তা খাঁন (খেয়ালী), কাওয়ালী ও কালুবানা গায়ক রাজা আলি খাঁন, সরোদী ফিদা হোসেন খাঁন [ Fida Hussain Khan ] এবং বিন্দাদীন ছিলেন দরবারের প্রধান ঘরানা নৃত্যবিদ ও রচয়িতা। দরবারের পরবর্তী সঙ্গীতবিদগণের মধ্যে ওস্তাদ মুশতাক হোসেন খাঁন (খেয়ালী), সাদিক আলি খাঁন (বীণকার), জন্মগত অধিকারীর তবলা বিশারদ আহম্মদজান্ থিরকাওয়া এবং বিন্দাদীন ঘরানার নৃত্যবিদ অচ্ছান মহারাজ গুণীবৃন্দের নামই উল্লেখযোগ্য।

অতীত ও বর্তমানের সঙ্গীতবিদ্‌গণের মধ্যে জয়পুরের মহম্মদ আলি খাঁন (হররঙ্গ)। বর্তমানে প্রচলিত বহু গানের কথার মধ্যে ‘হররঙ্গ’ নামটি পাওয়া যায়। তাঁর শিষ্য লক্ষ্মৌয়ের রাজা নওয়াব আলি খাঁন ছিলেন তৎকালীন সঙ্গীত পণ্ডিতগণের মধ্যে বিশেষ একজন শ্রেষ্ঠ শুণী ও পণ্ডিত। তিনি “মারীফুন্নাগমাত” নামে উত্তর-ভারতীয় সঙ্গীতের বিশেষ তথ্যপূর্ণ একখানি গ্রন্থ লিখে গেছেন। গ্রন্থখানি উর্দু ভাষায় তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

বর্তমানে হাথরাস সঙ্গীত কার্যালয় হতে হিন্দীভাষায় অনুবাদও প্রকাশ করা হয়েছে। মহম্মদ আলি খাঁন এবং বিভিন্ন ওস্তাদ ও শুণী-পণ্ডিতদের রচনার সমাবেশ দেখা যায় এই গ্রন্থখানায়। এই গ্রন্থে পাওয়া যায় প্রচলিত ও অর্দ্ধ-প্রচলিত বিভিন্ন রাগের শাস্ত্র পরিচয়, বিভিন্ন রাগের ধ্রুপদ, খেয়াল, সাদরা, সার্গামগীত ও লক্ষণ-গীত।

প্রচলিত ও অপ্রচলিত তালাদির পরিচয় প্রাচীন শাস্ত্রের ও ঐতিহাসিক সমালোচনা এবং সাঙ্গীতিক পরিভাষা শব্দগুলোর ব্যাখ্যা। বর্তমান প্রচলিত পাক-ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে এই গ্রন্থটি বিভিন্ন সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত গ্রন্থ। এই প্রসঙ্গে বোম্বাইয়ের পণ্ডিত বিষ্ণু নারায়ন ভাতখণ্ডের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

পাক-ভারতীয় সঙ্গীতের অবদান ও যুগ প্রবর্ত্তক হিসেবে পণ্ডিত ভাতখণ্ডেজীর নাম চির অমর হয়ে থাকবে। তিনি তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ করে অবশিষ্ট দিনগুলি সঙ্গীতের উৎকর্ষ সাধন, পূর্ণজাগরণ ও বিভিন্ন ঘরানা পদ্ধতির কঠিন ও সীমাবদ্ধ শিক্ষাধারার আমূল পরিবর্তন করে সরল ও সহজ পদ্ধতির এক প্রকার শিক্ষাধারা প্রবর্তন করে যান। তাঁর শিক্ষাধারাই আজ সমগ্র পাক ভারতের সঙ্গীতানুরাগী, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণের কাছে এক অমূল্য সম্পদ।

 

 

YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 সঙ্গীতের ইতিহাস - পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগ [বিংশ শতাব্দী]
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

তৎকালীন নবাব, রাজা, ধনী ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের সাহায্যে এবং বিভিন্ন বড় বড় সঙ্গীতবিদগণের সমবেত চেষ্টায় ১৯১৬ খৃষ্টাব্দে প্রথম বরোদায়, পরে ১৯১৮ খৃষ্টাব্দে দিল্লীতে, সর্বশেষে ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে লক্ষ্মৌ-এ-“অল ইন্ডিয়া-মিউজিক কনফারেন্স” আহূত হয়। ঐ সময় হতে গুণীগণ রাগ রাগিণী এবং ক্রিয়াত্বক ও ঔপপত্তিক সঙ্গীতের বিভিন্ন মতবাদ যুক্তবিষয়াবলীর মোটামুটি একটি সমাধান তৈরী করেন। এই সমাধান ও স্থিরীকরণ অনুযায়ী পণ্ডিত ভাতখন্ডে বহু মুল্যবাস গ্রন্থাদি লেখেন। “হিন্দুস্থানী সঙ্গীত পদ্ধতি, ক্রমিক পুস্তক মালিকা” নামে চারখন্ডে ঔপপত্তিক ও ছয়খণ্ডে ক্রিয়াত্বক বিষয়াবলী সংযোগে এবং অন্যান্য বহু প্রামাণ্য গ্রন্থও লিখে গেছেন।

ফলে সমগ্র পাক-ভারতের সঙ্গীত শিক্ষার্থীরা সঙ্গীতের ও বিশুদ্ধভাবে ধারাবাহিক শিক্ষাধারার আলোকের সন্ধান পান। তাঁর প্রবর্তিত লক্ষণগীতগুলিকেই রাগের আধুনিক “গ্রামার ” বলা হয়। তাঁর গ্রন্থগুলি সংস্কৃত ও মারাঠী ভাষায় লেখা, কিন্তু বর্তমানে সেগুলি হাথুরাস সঙ্গীত কার্যালয় হতে হিন্দী ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তখনকার দিনে যাঁদের চেষ্টায় গোয়ালিয়র ও লক্ষ্মৌ-এ বহু সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, তন্মধ্যে পণ্ডিত ভাতখন্ডেই ছিলেন অগ্রণী। তাঁর প্রতিষ্ঠিত “মরীস মিউজিক কলেজ” আজ তারই স্মরণে লক্ষ্মৌ-এ “ভাতখন্ডে ইউনির্ভাসিটি” তে পরিণত হয়েছে। আল্লাহাবাদ (এলাহাবাদ) ইউনিভার্সিটিতে সঙ্গীত গবেষণাগার (ফ্যাকালুটি) সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানকালে ভাতখণ্ডে পদ্ধতির বহু সঙ্গীত বিদ্যালয় ও কলেজ উত্তর পশ্চিম ভারতের সর্বত্রই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপর হতেই পাক ভারতের বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সঙ্গীতকেও অন্যতম শিক্ষা হিসেবে পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

 

ওস্তাদ ফাইয়াজ খান, আগ্রা ঘরানা
ওস্তাদ ফাইয়াজ খান, আগ্রা ঘরানা

 

পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগ  নিয়ে আলোচনায় এর পরে আসে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের গুণী ও সঙ্গীতবিদগণের কথা। এরা মধ্যে সমগ্র পাক-ভারতের শ্রেষ্ঠ খেয়াল গায়ক হিসেবে কিরানা ঘরানাদার কোল্হাপুরের মরহুম সঙ্গীত সম্রাট আল্লাহদিয়া খাঁন, রঙ্গিলে ঘরানার শেষ উত্তরাধিকারী দরবার-গায়ক আতাব-ই-মুসিকী মরহুম ওস্তাদ ফৈয়াজ হোসেন খান এবং তার শিষ্যগণের মধ্যে বিশেষ খ্যাতিসম্পন্ন ওস্তাদ বিলায়েত হোসেন খাঁন, ওস্তাদ আসাদ আলী খাঁন, ওস্তাদ লতাফত হোসেন খাঁন এবং লক্ষ্মৌ মরীস কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ও (বর্ত্তমান উপাচার্য্য, ভাতখন্ডে ইউনিভার্সিটি) শ্রীকৃষ্ণণ রতনঝণকার, পণ্ডিত দিলীপ কুমার ভেদী ও কলকাতার জ্ঞানেন্দ্র প্রসাদ গোস্বামী, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়।

সঙ্গীত-সম্রাট খাঁন সাহেব আবদুল করীম খাঁন ও গোয়ালিয়রের শঙ্কর গন্ধর্ব মহাবিদ্যালয়ের শঙ্কর রাওয়ের পুত্র ও শিষ্য কৃষ্ণরাও। ইনি ছিলেন গোয়ালিয়রের বিখ্যাত (খেয়ালিষ্ট) হন্দু খাঁন ও হস্যু খাঁনের এবং তস্য পুত্র ও শিষ্য নিসার হোসেন খাঁনের শিষ্য। তাই সঙ্গীতে কৃষরাও ছিলেন হন্দু খাঁ-হস্যু খাঁনের গায়কী—পদ্ধতির অনুসারী।

আফতাব এ মৌসিকি উস্তাদ ফৈয়াজ খান এর রাগ দরবারী

পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগের মহিলা খেয়াল গায়িকাদের মধ্যে দিল্লীর শামসাদ বাঈ, ওস্তাদ আল্লাহদিয়া খাঁনের শিষ্যা কেশর বাঈ ও বোম্বাইয়ের রওশন আরা বাঈয়ের নাম সর্বাগ্রে। এঁদের প্রত্যেককেই এক-একটি ঘরানার অধিকারিণী বলা যায়।

পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগের ধ্রুপদীদের মধ্যেঃ- জয়পুরের ওস্তাদ কেরামত আলী খাঁন, আগ্রার ওস্তাদ তাসাদ্দুক হোসেন খাঁন, পাঞ্জাবের ওস্তাদ মুবারিক আলি খান, ইন্দোরের প্রসিদ্ধ ওস্তাদ ও ঘরানাদার আল্লাবন্দে খাঁন সাহেবের পুত্র ও নাসির উদ্দিন খাঁন সাহেবের ভ্রাতা ওস্তাদ রহীম উদ্দিন খান প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।

পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগের যন্ত্রীদের মধ্যে সেতারে :- আলিগড় নিবাসী প্রসিদ্ধ ওস্তাদ এনায়েত হোসেন খাঁন [ Ostad Enayet Hussain Khan ] সাহেবের ভ্রাতা ওয়াহিদ হোসেন খাঁন ও পুত্র বিলায়েত হোসেন খাঁন এবং জয়পুরের ওস্তাদ হায়দার হোসেন খাঁন, লক্ষ্মৌয়ের ওস্তাদ ইউসুফ আলি খাঁন এবং বর্তমানে কলকাতার ওস্তাদ মুস্তাক হোসেন খাঁন সাহেবদের নাম সর্বাগ্রে। পরে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর শিষ্য ও জামাতা পণ্ডিত রবিশঙ্করের নাম উল্লেখযোগ্য।

পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগের সরোদে : বিগত প্রসিদ্ধ ঘরানাদার রামপুরের উঞ্জীর খাঁন সাহেবের দুই শিষ্যের মধ্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী সরোদী হিসেবে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও ওস্তাদ হাফিজ আলি খাঁন সাহেব দ্বয়ের নাম সর্বাগ্রে। এরপরই ওস্তাদ আলি আকবর খাঁনকে তাঁর পিতা আলাউদ্দিন খাঁর একমাত্র উত্তরাধিকারী বলা যায়। কলকাতার শ্যাম গাঙ্গুলী ও রাধিকা মোহন মৈত্র এবং ওস্তাদ আমজাদ আলী খানের নামও সরোদী হিসেবে উল্লেখযোগ্য

প্রকাশ-ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, শুধু সরোদই নন। বেহালা যন্ত্রেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ইহা ছাড়াও তাঁর নতুন সৃষ্টি ও অবদান হিসেবে মাইহার এষ্টেটের ‘ব্যান্ড পার্টি’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। শোনা যায়। তিনি কয়েকটি নতুন রাগও সৃষ্টি করেন।

শানুহাই বা শানাই যন্ত্রে : সমগ্র পাক-ভারতে বেনারসের প্রসিদ্ধ বিসমিল্লাহ-বিলাতুস এন্ড পার্টির নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এদের বাজনার বিশেষত্ব এই যে, তার যন্ত্রের ঝালার কাজের মত এক ধরনের বিশেষ অলংকারিক ক্রিয়ার দ্বারা অনির্বচনীয় রঞ্জকতার সৃষ্টি করেন। পরে-বরোদার বাবু খাঁন সাহেবের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এঁরা উভয়েই বেনারসের তালিম হোসেনের শিষ্য।

বীণযন্ত্রে : সর্বাগ্রে রামপুরের ওস্তাদ সাদিক আলি খাঁন (বর্তমানে কলকাতা), পরে তানসেনের দৌহিত্র বংশীয় শেষ উত্তরাধিকারী ওস্তাদ দবীর খানকেই পাই আমরা প্রসিদ্ধ বীণকার হিসেবে। সারেঙ্গী যন্ত্রে :- দিল্লীর বাবু খাঁ ও কলকাতা থাকা কালীন ছোট্রে খাঁর নাম সর্বাগ্রে। পাকিস্তানস্থ করাচী বেতার কেন্দ্রের ওস্তাদ বান্ধু খাঁর নাম উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে তাঁর সুযোগ্য পুত্র ওস্তাদ ওমরাও বান্ধু খানের নামও উল্লেখযোগ্য।

তবলা যন্ত্রে : সর্বাগ্রে আতা হোসেন খাঁ, পরে পাঞ্জাবের আহম্মদ জান থিরাকাওয়া ও মাল্লাঙ্গ বীন, কলকাতার মরহুম মজিদ খাঁন ও কণ্ঠে মহারাজের নাম প্রসিদ্ধ তবলা বাদক হিসেবে উল্লেখযোগ্য। সব শেষে আতাহোসেন খাঁনের প্রধান শিষ্য কলকাতার “হীরু গাঙ্গুলী”। ইনি নিজ প্রতিভাবলে তবলায় বহু গুণীদের চাইতে বেশি খ্যাতি অর্জন করেছেন। সেই সাথে মরহুম ওস্তাদ মজিদ খানের পুত্র ও শিষ্য কলাকার কেরামত আলী খাঁন ও তাঁর শিষ্য জ্ঞান প্রকাশ ঘোষের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

 

পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগ - বিংশ শতাব্দী

 

সঙ্গীতের ইতিহাস – অবিভক্ত বাংলা ও সঙ্গীত [ Music & Undivided Bengal ]:

অবিভক্ত বাংলার মধ্যে সর্বাগ্রে বিষ্ণুপুরের নাম উপমহাদেশীয় সঙ্গীতের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী ও বর্ণনার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে যতটুকু জানি লিখুলাম। বহু যুগ যুগ ধরেই বিষ্ণুপুরের সঙ্গীত চর্চ্চার কথা শোনা যায়। বিষ্ণুপুরের সঙ্গীত-নায়ক গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় পাওয়া যায় যে, বিষ্ণুপুরের প্রথম মহারাজ আদিত্য সিংহ বাহাদুর হাতে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ বাহাদুর পর্য্যন্ত ৫৫ পুরুষেরা (Generation) স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেছেন এবং তাদের সময় হতে সঙ্গীতচর্চ্চা অব্যাহত ছিলো।

সঙ্গীতের চর্চ্চায় দিল্লী যেমন সমগ্র ভারতের কেন্দ্রস্থল ছিল, সমগ্র বাংলাতেও তেমনি ছিলো বিষ্ণুপুর। তাই নাকি বিষ্ণুপুরকে ‘ছোট-দিল্লী’ বলা হতো। বাংলার নবাব মীরজাফরের সময় দেশে নানা ধরনের বিপ্লব সৃষ্টি হয় এবং তখন থেকে সঙ্গীতের ক্ষেত্রেও প্রচুর অবনতি ঘটে। পরে মহারাজ দ্বিতীয় রঘুনাথ সিংহ বাহাদুরের সময় হতে অতীত বিদ্যার সম্যক আলোচনার শুরু হয়।

এই মহারাজ দিল্লী হতে তানসেন বংশীয় বাহাদুর সেনকে নিজ সভায় গায়ক নিযুক্ত করেন এবং রাজবাড়ী হতে ভরণ-পোষণ দিয়েও দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গীতোপযোগী সুকণ্ঠী বহু লোককে উক্ত গুণীর দ্বারা গায়ক হিসেবে পরিগণিত করিয়েছিলেন।

তৎকালে বাহাদুর সেনের প্রধান শিষ্যহিসেবে গদাধর চক্রবর্তীর নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। উক্ত চক্রবর্তী মহাশয়ের প্রধান শিষ্য রাম শঙ্কর ভট্টাচার্য্যও সঙ্গীতে বিশেষ স্থান অধিকার করেন এবং তাঁরই সংশিক্ষায় অনন্তকাল বন্দ্যোপাধ্যায়, যদু ভট্ট, ক্ষেত্র মোহন গোস্বামী প্রমুখ শুণীর সৃষ্টি হয়। তন্মধ্যে অনন্তলালই সভাগায়কের পদ প্রাপ্ত হন এবং তাঁরই শিক্ষাধীন রাধিকা প্রসাদ গোস্বামী, রাম প্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপিন চক্রবর্তী, গোপেশ্বর বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ গায়ক বাংলায় আভিজাতিক সঙ্গীতের পূর্ণ গৌরব রক্ষা করেন।

তখন থেকে বিষ্ণুপুরে একটি সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। অদ্যাবধি-বিদ্যালয়টি সুষ্ঠুভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। বিষ্ণুপুরের ওস্তাদ বাহাদুর সেন থাকা কালেই বিভিন্ন মুসলমান ওস্তাদদের সাহচর্যে যন্ত্র-সঙ্গীতেরও চর্চ্চা ও শিক্ষাদান শুরু হয়। তন্মধ্যে মৃদঙ্গ নেওয়াজ পীর বকুসের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তখন থেকেই বিষ্ণুপুরের ঢং দিল্লীর ঢংয়েই চলে আসছে। কলকাতায় তখন ক্ষেত্রমোহন গোস্বামীর শিষ্য রাজা স্যার সৌরীন্দ্র মোহন ঠাকুর কর্তৃক সঙ্গীত বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

অন্নপূর্ণা দেবী তার পিতা ও গুরু ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের কাছ থেকে সুরবাহারের তালিম নিচ্ছেন
অন্নপূর্ণা দেবী তার পিতা ও গুরু ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের কাছ থেকে সুরবাহারের তালিম নিচ্ছেন

 

রাজা স্যার সৌরীন্দ্র ঠাকুর [Raja Sir Surendranath Tagore ] তানসেনের দৌহিত্র বংশীয় ওস্তাদ দবীর খাঁন ও সগীর খানের [ Ustad Dabir Khan & Sagir Khan ] কাছে তানসেন ঘরানা-সঙ্গীত শিক্ষালাভ করেন। ত্রিপুরা, কাশীপুর, কুচিয়াকোল প্রভৃতি রাজধানীতে ও কলকাতা পাথুরিয়া ঘাটার জমিদার এবং নাটোর, গৌরীপুর (বাংলাদেশ) প্রভৃতি স্থানের রাজা ও জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু মুসলমান ওস্তাদণ্ড দেশে আশ্রয় পান বলে তৎকালীন ভদ্র সমাজ বিশুদ্ধ সঙ্গীতের উচ্চ শিখরে আরোহন করেন।

দুঃখের বিষয় সেকালে মুর্শীদাবাদের নবাব ছাড়া অন্যান্য যে সকল মুসলমান জমিদার বা ধনী ব্যক্তি যাঁরা ছিলেন, সঙ্গীতে তাঁদের বিশেষ কোন পৃষ্ঠপোষকতা ছিল না। মুর্শীদাবাদের দরবারী সঙ্গীতবিদ হিসেবে গায়ক ওস্তাদ কাদের বক্স ও তবলা নেওয়াজ ওস্তাদ আতা হোসেন খাঁনের নামই প্রসিদ্ধ। এরা ছাড়া বিভিন্ন দেশের বড় বড় ওস্তাদরাও মুর্শীদাবাদের নবাবের দরবারে থাকতেন। পরে বহরমপুরের মুর্শীদাবাদ) সঙ্গীত বিশারদ ওস্তাদ গিরিজা শঙ্কর চক্রবর্তীর নাম বাংলার শ্রেষ্ঠ গুণী হিসেবে উল্লেখ করা অত্যুক্তি হবে না।

আজ বাংলায় তথা পশ্চিম বাংলায় বিশেষ করে কলকাতায় ডঃ যামিনী নাথ গাঙ্গুলী [ Jamini Nath Ganguly ], শৈলেন ব্যানার্জী, রথীন চট্টোপাধ্যায়, তারাপদ চক্রবর্তী (নাকুবাবু), জান প্রকাশ ঘোষ (তবলায় মজিদ খাঁর শিষ্য), নুটু মুখার্জী, সুখেন্দু গোস্বামী, চিন্ময় লাহিড়ী, সুধীরলাল চক্রবর্ত্তী প্রমুখ গায়কগণ একমাত্র গিরিজা বাবুর তালিমেই শ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করতে সক্ষম হয়েছেন। উল্লেখ্য যে, আমি নিজেও শ্রদ্ধেয় গিরিজা গুরুজীর প্রিয় শিষ্য হিসেবে বহু বছর তাঁর পুত্র প্রতিম স্নেহের পরশে ছিলাম।

শুনেছি গিরিজা বাবু ভারতের বিভিন্ন ঘরানার ওস্তাগণের নিকট হতে শিক্ষা গ্রহণ করার পর, কলকাতা থাকাকালে মরহুম ওস্তাদ বাদল খাঁনের নিকট একাদিক্রমে ১৩ বৎসর তালিম নেন। ঠুমরীর তালিম নেন মরহুম ওস্তাদ মৈজুদ্দীন খান ও ভাইয়া সাহেব গণপত রাওয়ের নিকট হতে। বাংলার বুকে গিরিজা বাবুর দান অপরিমেয়। কলকাতায় মেয়েদের জন্যে “সঙ্গীত সম্মিলনী” নামে একটি বিরাট প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

তার সময় ৭/৮ শত মেয়ে ঐ প্রতিষ্ঠানে সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহণ করতো। তিনি ছিলেন তখন প্রধান অধ্যাপক ও পরিচালক (Principal and Director)। কণ্ঠ-সঙ্গীতে পারদর্শীদের “গীতশ্রী” ও যন্ত্রসঙ্গীতে “সুরশ্রী” ডিপ্লোমা দেওয়া হতো। কলকাতার বর্তমান অবস্থা সঙ্গীতের ক্ষেত্রে আরো অনেক উন্নত। বর্তমানে বিভিন্ন ওস্তাদ দ্বারা পরিচালিত সঙ্গীত বিদ্যালয় ছাড়াও ভাতখন্ডে পদ্ধতির স্কুল-কলেজ পরিচালিত হওয়ায় সঙ্গীতের বিশেষ জাগরণ দেখা দিয়েছে।

 

ওস্তাদ আল্লাদিয়া খান
ওস্তাদ আল্লাদিয়া খান

 

আগের দিনে এদেশের বলদার জমিদার ও মুড়াপাড়ার জমিদারদের কথা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ববঙ্গে বিশেষ করে ঢাকায় এক কালে সঙ্গীতের বিশেষ চর্চ্চা ছিল। পশ্চিম দেশীয় বড় বড় মুসলমান ওস্তাদগণ এখানে সফরে আসতেন এবং চেষ্টা করে ঐ সমস্ত ওস্তাদদের জমিদারগণের বাড়ীতে আশ্রয় দেওয়া হতো।

ওস্তাদদের দীর্ঘদিন অবস্থানের সময় বহু সঙ্গীত-জলসার আয়োজন হতো। স্থানীয় গায়ক বাদকগণও এই সব মহফিলের শোভা বর্দ্ধন করতেন। তখনকার দিনের স্থানীয় বিখ্যাত সেতারী ভগবান দাস ও বিখ্যাত তবলা বাদক প্রসন্ন বণিকের নাম উপমহাদেশের সঙ্গীতের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে আছে ও থাকবে। মুড়াপাড়ার জমিদার কেশব ব্যানার্জী নিজেও ছিলেন একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী তবলা বাদক।

দেশ বিভাগের পর তিনি ভারতে (পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন। স্থানীয় গায়কগণের মধ্যে ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন, ইমদাদ হোসেন ও ফকীর মহম্মদ গুণীদের নাম এইদেশে সকলের কাছেই পরিচিত। এরা প্রত্যেকেই উচ্চাঙ্গের সঙ্গীতবিদ ছিলেন। ঠুমরী-গীতাদি হালকা অঙ্গে “পঁচা”-এর (এই নামেই প্রসিদ্ধ) গানের সন্মোহনী শক্তি ছিল সর্বাধিক। কিন্তু তিনি ছিলেন অতাই” (বিনা শিক্ষায় গায়ক। তবলা বাদকদের মধ্যে সিদ্ধহস্তের কথা শোনা যায়, গোলাপ ও মাহাতাব ভ্রাতৃদ্বয়ের নাম। এঁরা উভয়েই গোলাপ ওস্তাদৃজী ও মাহাতাব ওস্তাদজী নামেই পরিচিত ছিলেন।

দুঃখের বিষয়, বিগত দিনের এইসব গুণীদের বর্ণনা ছাড়া এই বিরাট জনবহুল দেশে উল্লেখযোগ্য তেমন ব্যক্তির অভাবই দেখা যায়। তবে চল্লিশ পঞ্চাশ বছর আগে থেকে এদেশে আগত গুণী হিসেবে কণ্ঠ-সঙ্গীতে মরহুম ওস্তাদ গুলু মোহাম্মদ খাঁন এবং কুমিল্লার মরহুম ওস্তাদ মোহাম্মদ হোসেন খসরু* সাহেবদের নাম বর্তমানে উল্লেখযোগ্য। সুর-বাহার যন্ত্রী হিসেবে কুমিল্লার সঙ্গীত সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁনের সহোদর ভ্রাতা মরহুম ওস্তাদ আয়াত আলী খাঁনের নাম বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য। ইনিও একজন ঘরানাদার বিখ্যাত যন্ত্রী।

তৎকালীন রেডিও ও গ্রামোফোন রেকর্ড গায়কদের মধ্যে উত্তর বঙ্গের ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গানের সত্যিকারের স্বরূপ ও ভাব প্রকাশে এবং বাংলা ভাষায় লেখা ইসলামী গান ও নজরুল সঙ্গীতে সুকণ্ঠী ও দরদী গায়ক মরহুম আহ্বাস উদ্দিন আহম্মদ সাহেবের নাম সর্বাগ্রে এবং ভাটিয়ালী পল্লীগীতিতে বেদার উদ্দিন আহম্মদ ও মোহাম্মদ ওসমান খানের নামও উল্লেখযোগ্য।

রবীন্দ্রনাথের গানে কলিম শরাফী ও ডঃ সন্‌জিদা খাতুনের নাম উল্লেখযোগ্য। বাংলা আধুনিক গান ও হাম্দু-নাতে আবদুল হালিম চৌধুরী এবং লোক বা গণসঙ্গীতে আব্দুল লতিফ ও শেখ লুৎফর রহমানের নামই উল্লেখ করা যায়। এছাড়া পল্লীগীতি রচয়িতা হিসেবে মরহুম কবি জসীম উদ্দিন সাহেবের নাম বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য।

[ ইনি বাল্যকাল থেকেই সঙ্গীতে বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। ছাত্রজীবনেই তিনি সঙ্গীত শিক্ষালাভ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বি. এ. পাশ করার পর সরকারী চাকরী করেন ও বিভিন্ন দেশের ঘরানা ওস্তাদের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহণ করেন। শেষ জীবনে তিনি পক্ষাঘাত, রক্তচাপ ও বহুমুত্র রোগে আক্রান্ত হন। অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি বুলবুল একাডেমীর অধ্যক্ষ পদলাভ করেন। অনুমানিক ৫৪/৫৫ বছর বয়সে ১৯৫১ সালে ইন্তেকাল করেন।]

এই সমস্ত গুণী ছাড়া ধ্রুপদী হিসেবে বরিশালের মরহম বিপিন চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, খুলনার মরহুম তারা প্রসন্ন চট্টোপাধ্যায় গুণীদ্বয়ের নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। পাখোয়াজী হিসেবে খুলনার গোপাল ভট্টাচার্য্য, ইলু ঘোষাল, যশোহর জেলার মাগুরা মহকুমার নরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী, প্রতাপ চক্রবর্ত্তী, মতি বৈরাগী ও কন্ঠ সঙ্গীতে রাশ বিহারী মল্লিক (নাকোল), বিহারী বৈরাগী, রাখাল পাটনী, গোপাল রায়, বাদু বাবু প্রভৃতি গুণীগণ ছিলেন তখনকার দিনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী গায়ক। শানাই ও রৌশন চৌকী যন্ত্রী হিসেবে গিরিশ বাদ্যকর (দিল্লীর শিক্ষা) ও প্রতাপ বাদ্যকর ছিলেন খুবই বিখ্যাত। এঁদের অধিকাংশের সঙ্গেই আমার গুরু-শিষ্য সম্বন্ধ ছিলো।

ফরিদপুরের মধু কান (দিল্লীর শিক্ষা) ও রাখাল কর্মকার ছিলেন কন্ঠ-সঙ্গীতে বিশেষ গুণী। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের সাঙ্গীতিক ঐতিহাসিক উল্লেখযোগ্য বিষয়াবলীর মধ্যে নব প্রতিষ্ঠিত সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বুলবুল ললিতকলা একাডেমী (‘বাফার’) নামটিও উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সঙ্গীতানুরাগী ব্যক্তিগন ও শিল্পীদের দ্বারাই এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। সরকারের যথেষ্ট সাহায্য ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনুদান প্রাপ্তির জন্য প্রতিষ্ঠানটি (বাফা) আজ সমগ্র দেশের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য সঙ্গীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

পাকিস্তানী বিখ্যাত গুণীদের নাম পূর্বে উল্লেখিত হলেও বর্তমান সিন্ধুর বিখ্যাত ওস্তাদ হাসু খাঁনের ঘরানা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ওস্তাদ মোবারক আলি খাঁন ও ওস্তাদ উমিদ আলী খাঁন এবং লাহোরের মরহুম ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁন ও ছোট গোলাম আলী খাঁন গুণীদের নাম বর্তমানে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। শোষোক্ত গুনীদ্বয় দুই চাচাতো ভাই বলে শুনেছি।

ছোট গোলাম আলী খেয়ালে এবং বড় গোলাম আলী খান ঠুমরীতে শ্রেষ্ঠ। ওস্তাদ বড় গোলাম আলী খাঁন ঠুমরী গায়কী-কলা কৌশলে বর্তমানে সমগ্র উপমহাদেশের সর্বোচ্চস্থান অধিকার করে আছেন। আল্লাহর দেওয়া সুকন্ঠই তাঁর অমুল্য সম্পদ। তাঁর গায়কীতে সম্মোহনী শক্তি এতই বেশী যে উপমহাদেশীয় অধিকাংশ গায়ক-গায়িকারাই আজ পর্যন্ত মুগ্ধ ও আকৃষ্ট।

উপমহাদেশীয় সঙ্গীতের ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ অফুরন্ত। তবুও আমার সঙ্গীতানুরাগী ভাই-বোন ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞাতার্থে উপমহাদেশীয় সঙ্গীতের বিকাশমূলক ঐতিহাসিক ধারাবাহিক আলোচনা সংক্ষেপেই এখানে শেষ করতে বাধ্য হলাম।

 

পাক-ভারতীয় সঙ্গীতে মুসলিম যুগ : সূত্র : প্রবেশিকা সংগীত শিক্ষা পদ্ধতি – ওস্তাদ মুনশী রইসউদ্দিন

Leave a Comment