সংগীতের ভুবনেই হৃদয় খানের বেড়ে ওঠা। তাই গায়ক ও সংগীত পরিচালক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ কাউকে বিস্মিত না করলেও, তাঁর সৃষ্টিশীলতা বারবার শ্রোতাদের চমকে দিয়েছে। কৈশোরের গণ্ডি পেরোতে না পেরোতেই তিনি সংগীতে এনেছিলেন নতুন শব্দ-ভাবনা, অভিনব সুরসংযোজন ও সময়োপযোগী আয়োজন। একুশ শতকের শুরুর দিকেই যাঁরা বাংলা সংগীতে নতুন দিনের হাওয়া বইয়ে দিয়েছিলেন, হৃদয় খান ছিলেন তাঁদের মধ্যমণি। তাঁর জনপ্রিয় গান, কণ্ঠ কিংবা সংগীতায়োজনের তালিকা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না—সেগুলো শ্রোতার মনে বহু আগেই স্থায়ী আসন গেড়েছে।
তবে যে অধ্যায়টি অনেকের কাছে অজানা বা আড়ালে রয়ে গেছে, সেটি হলো নির্মাতা হৃদয় খানের গল্প। সংগীতের বাইরে তাঁর ভেতরে যে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা বাস করেন, তা প্রকাশ্যে আসার কথা ছিল প্রায় ছয় বছর আগেই। তখন শোনা গিয়েছিল, তিনি ‘ট্র্যাপড’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণ করছেন। কিন্তু সিনেমাটির বিষয়বস্তু, অভিনয়শিল্পী কিংবা মুক্তির সময়—এসব নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
অন্তর্মুখী স্বভাবের হৃদয় খান এ নিয়ে খুব বেশি কথা বলেননি। নীরবে নিজের মতো করে কাজ চালিয়ে গেছেন। এই সময়টাতে একের পর এক গান প্রকাশ পেয়েছে, বিভিন্ন শিল্পীর গানে তিনি সংগীতায়োজন করেছেন, প্লেব্যাক ও চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনায় ব্যস্ত থেকেছেন। পাশাপাশি রিয়েলিটি শো ‘অনন্য প্রতিভা’-তে বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন। এসব ব্যস্ততার আড়ালে ‘ট্র্যাপড’ যেন ধীরে ধীরে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়।
ছয় বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে আবার আলোচনায় ফিরে আসে ‘ট্র্যাপড’। এবার আর গুঞ্জন নয়, হৃদয় খান স্পষ্ট করেই জানান—দীর্ঘ পরিশ্রমের এই কাজ শিগগিরই দর্শকের সামনে আসছে। স্বল্পদৈর্ঘ্য হলেও এতে থাকবে বাণিজ্যিক পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার আমেজ। কারণ গল্পই এই সিনেমার মূল শক্তি। কাহিনিতে দেখা যাবে, হৃদয় নামের এক তরুণ কীভাবে অজান্তেই মাদকচক্রের ফাঁদে পড়ে যায়। হতাশা ও দিশাহীনতার মধ্যে তার জীবনে আসে মোনা নামের এক তরুণী, যে তাকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায়। কিন্তু স্বপ্নের শুরুতেই ঘটে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি—মোনার আকস্মিক মৃত্যু। এরপর হৃদয়ের জীবন আবারও এলোমেলো হয়ে যায় এবং সে প্রতিশোধের পথে হাঁটে। এখান থেকেই গল্প নেয় নাটকীয় মোড়।
‘ট্র্যাপড’-এর মাধ্যমে হৃদয় খানের ক্যারিয়ারে শুরু হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। এই সিনেমায় তিনি একাধারে চিত্রনাট্যকার, নির্মাতা, অভিনেতা ও সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বাসঘাতকতা, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের গল্পে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা এবং প্রবাসী কয়েকজন শিল্পী।
হৃদয় খান বলেন, ফটোগ্রাফির প্রতি আগ্রহ থেকেই তাঁর নির্মাণের দিকে ঝোঁক। কাজটি কঠিন জেনেও তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে পিছপা হননি। তাঁর ভাষায়, সংগীতের মধ্য দিয়ে শিল্পীসত্তার ক্ষুধা পুরোপুরি মেটেনি বলেই গল্প বলার নতুন মাধ্যম খুঁজেছেন। দর্শকের সঙ্গে হৃদয়ের গল্পের সংযোগ তৈরি করাই তাঁর মূল চাওয়া। তাই নির্মাতা হিসেবে সাফল্য বা ব্যর্থতার হিসাব কষার চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন নিজের বিশ্বাস আর সৃষ্টির সততাকে।