সনু নিগম ২০০৪ সালের করাচির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা স্মরণ করলেন

দীর্ঘ দুই দশক পরও ভারতের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী সনু নিগম ২০০৪ সালের করাচির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা স্মরণ করলেন। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরনো ভিডিওতে তিনি জানান, সেইদিন সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়লেও স্থানীয় দর্শকরা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছিলেন।

২০০৪ সালের ১০ মার্চ পাকিস্তানের করাচি শহরে আয়োজিত কনসার্টে অংশ নেন সনু নিগম। অনুষ্ঠানস্থলে হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে জমজমাট পরিবেশ বিরাজ করছিল। হঠাৎ কাছাকাছি এলাকায় শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, যা হতাহতের ঘটনা সৃষ্টি করে এবং চারপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতেও মঞ্চ ছাড়েননি সনু। দর্শকদের আশ্বস্ত করে তিনি গান চালিয়ে যান। ‘কাল হো না হো’, ‘ম্যায় হুঁ না’ এবং ‘বীর জারা’সহ তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

তারিখস্থানঘটনাদর্শকদের প্রতিক্রিয়া
১০ মার্চ ২০০৪করাচি, পাকিস্তানকনসার্ট চলাকালীন কাছাকাছি বিস্ফোরণসাহসী সমর্থন, শিল্পীকে রক্ষা
উপস্থিতি~৫,০০০ জনভয়াবহ আতঙ্ক সত্ত্বেও অনুষ্ঠান চালানোউচ্ছ্বাস ও নিরাপত্তা সহযোগিতা

স্মৃতিচারণে সনু জানান, বিস্ফোরণের পর তিনি কিছুটা শঙ্কিত হলেও দর্শকদের সাহস ও সমর্থন তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি মঞ্চ থেকে দর্শকদের জিজ্ঞেস করেন, অনুষ্ঠান চালিয়ে যেতে চান কিনা—যার উত্তরে তারা সমস্বরে ইতিবাচক সাড়া দেন। এর ফলে সঙ্কটের মধ্যেও কনসার্ট সম্পন্ন হয়।

সনু আরও জানিয়েছেন, সেই দিনের পর থেকে প্রতি বছর ১০ মার্চ তিনি আয়োজকদের কাছে বার্তা পাঠান। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে সাধারণ পাকিস্তানি দর্শকরা তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সামনে এসেছিলেন।

বর্তমানে ভারত-পাকিস্তানের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অনেকটাই স্থবির থাকলেও, ওই ঘটনার ভিডিও দুই দেশের সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় যে, সেদিনের পরিবেশিত গানগুলো আজও দুই দেশের শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়তা বজায় রেখেছে।

সনু নিগমের এই স্মৃতিচারণ শুধু এক শিল্পীর সাহসিকতা নয়, বরং দুই দেশের মানুষের আন্তরিক সমর্থন ও মানবিক বন্ধুত্বের চমৎকার উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, সঙ্গীতের মাধ্যমেই ভয়, বিভ্রান্তি এবং রাজনৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষ একত্র হতে পারে।

কনসার্টের সেই রাতটি এখনও করাচি ও ভারতের সংগীতভক্তদের মধ্যে স্মৃতির পাতায় সযত্নে সংরক্ষিত।