সাবিনা ইয়াসমীনের সন্তানদের জীবনের গল্প: গান না হলেও সফলতায় ভরা জীবন!

বাংলা গানের আকাশে এক অমূল্য রত্ন, সাবিনা ইয়াসমীন। অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর কণ্ঠে বাঙালির অনুভূতির মূর্ছনা বেজেছে—ভালবাসা, বেদনা, আনন্দ, এবং দেশপ্রেমের সুরে। তাঁর গান আজও বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে আছে। তবে আজকের আলোচনার বিষয়, কিংবদন্তি শিল্পীর দুই সন্তান—মেয়ে ইয়াসমীন ফাইরুজ বাঁধন এবং ছেলে রাফি হোসেন শ্রাবণ। সংগীতের পথ অনুসরণ না করলেও, তাঁরা নিজের নিজস্ব ক্ষেত্রে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন।

মেয়ে বাঁধন: ব্যাংকিং সেক্টরে সফল পথচলা

সাবিনা ইয়াসমীনের মেয়ে, ইয়াসমীন ফাইরুজ বাঁধন সংগীতের ছোঁয়া পেয়ে বড় হলেও, নিজের পথ নিজেই বেছে নিয়েছেন। পড়াশোনার শুরু ঢাকায় হলেও, পরবর্তীতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ব্যাংকিং সেক্টরে পদার্পণ করার পর, তিনি বর্তমানে এক বেসরকারি ব্যাংকে ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। বাঁধন বলেন, “আমার জীবনে প্রতিদিনের শুরুটা সুরের মধ্যে দিয়ে হলেও, আমি নিজের মতো করে জীবন যাপন করেছি।” তবে সাবিনা ইয়াসমীন কখনো তাঁকে সংগীত পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চাপ দেননি, বরং সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন।

ছেলে শ্রাবণ: লন্ডনের বাস্তবতায় সাফল্য

সাবিনা ইয়াসমীনের ছেলে, রাফি হোসেন শ্রাবণ, যদিও সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ছিল, পেশাগত জীবনে তিনি গানকে নির্বাচন করেননি। ঢাকার র‍্যাডিয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে শিক্ষা শেষে, তিনি ১৫ বছর আগে লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানে সংগীত বিষয়ে পড়াশোনা করলেও, অবশেষে ব্যবসায়ী জীবনে প্রবেশ করেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে ‘হল্যান্ড অ্যান্ড ব্যারেট’ নামক একটি কোম্পানিতে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে কাজ করছেন। মায়ের মতোই শ্রাবণও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা হারাননি, বরং তাঁর জীবনেও গান এখনো একটি বিশেষ জায়গা করে আছে।

মায়ের অনুভূতি: সন্তানের সুখেই শান্তি

তবে, দুই সন্তান সংগীতকে পেশা হিসেবে না বেছে নিলেও সাবিনা ইয়াসমীনের কণ্ঠে গর্বের সুর: “এটা তাঁদের পছন্দ, আমি কখনো কিছু চাপিয়ে দিইনি। বাঁধন ব্যাংকে সফল, শ্রাবণ লন্ডনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছে—এটাই আমার সুখের বিষয়।” তিনি বিশ্বাস করেন, জীবনের সাফল্য পেশায় নয়, বরং আনন্দে পাওয়া উচিত। সাবিনা ইয়াসমীন, যিনি সুরে সুরে বাঙালি জীবনকে সজীব করে রেখেছেন, আজও তাঁর সন্তানদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও গর্ব অনুভব করেন।

সাবিনা ইয়াসমীনের মতো মা, যিনি গানের সুরে বেড়ে ওঠার পরেও সন্তানদের নিজের পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা দিয়েছেন, তাঁর জীবনের গল্প প্রতিটি মা-বাবার জন্য অনুপ্রেরণা। গান তাঁর জীবনে, তবে সন্তানের সুখে সবচেয়ে বড় সুর!