জনপ্রিয় মার্কিন পপ গায়িকা সাব্রিনা কার্পেন্টার এবং শিশুতোষ চরিত্র ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টলের প্রকাশক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। কারণ, প্রশাসন তাদের সংগীত ও চিত্র ব্যবহার করেছে এমনভাবে, যা সংশ্লিষ্ট শিল্পী ও মালিকপক্ষের সম্মতি ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কার্পেন্টারের ২০২৪ সালের অ্যালবাম শর্ট এন সুইট থেকে নেওয়া গান জুনো ব্যবহার করা হয় একটি ভিডিও মনটাজে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইস–এর অভিযান দেখানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি সামনে এলে সাব্রিনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ভিডিও অমানবিক ও ঘৃণ্য। তার মন্তব্য ছিল, এই ভিডিও ভয়ংকর এবং অত্যন্ত জঘন্য। আমার সংগীত বা আমাকে কখনও মানবতাবিরোধী নীতির প্রচারের জন্য ব্যবহার করবেন না।
হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ক্লিপটির ক্যাপশনে কার্পেন্টারের গানের লাইন উদ্ধৃত করা হয়, যেখানে লেখা থাকে: হ্যাভ ইউ এভার ট্রায়েড দিস ওয়ান? বাই-বাই। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়তেই হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন পাল্টা মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গায়িকা সাব্রিনা কার্পেন্টারের জন্য শর্ট এন সুইট বার্তা হলো—আমরা আমাদের দেশ থেকে বিপজ্জনক অপরাধী অবৈধ হত্যাকারী, ধর্ষণকারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের বহিষ্কার করার জন্য কখনও দুঃখ প্রকাশ করব না। আর যে কেউ এমন অপরাধীদের পক্ষ নেবে, তাদের হয় বোকা না হয় ধীর বলে বিবেচনা করা হবে।
এদিকে ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টলের প্রকাশক কিডস ক্যান প্রেস সোমবার একটি বিবৃতি দিয়ে নিন্দা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ–এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের। ওই পোস্টে ফ্র্যাঙ্কলিনের একটি বিকৃত ছবি ব্যবহার করা হয়, যেখানে দেখা যায় চরিত্রটি একটি রকেট লঞ্চার তাক করে আছে নৌকার দিকে। হেগসেথ পোস্টটির ক্যাপশন দেন: ফ্র্যাঙ্কলিন টার্গেটস নারকো টেররিস্টস।
প্রকাশক প্রতিষ্ঠান জানায়, ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টল একটি প্রিয় কানাডিয়ান প্রতীক, যা শিশুদের সদয়তা, সহমর্মিতা ও অন্তর্ভুক্তির বার্তা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা ফ্র্যাঙ্কলিনের নাম বা ছবি কোনোভাবেই অবমাননাকর, সহিংস বা অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের নিন্দা জানাই। এতে তাদের মূল মূল্যবোধ হুমকির মুখে পড়ে। হেগসেথ বর্তমানে নজরদারির মুখে রয়েছেন অভিযোগের কারণে যে, সেপ্টেম্বর মাসে ক্যারিবীয় সাগরে একটি মাদক চোরাচালানকারী নৌকার বিরুদ্ধে করা আগের হামলায় দু’জন জীবিত থাকলেও তাদের উপর দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন। এই ঘটনা সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের তদন্তের দাবি তুলেছে।
শিল্পীদের সৃষ্টিকর্ম রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহারের বিষয়ে এটি নতুন নয়। আমেরিকান গায়ক ও গিটারিস্ট কেনি লোগিন্স সম্প্রতি দাবি করেন ট্রাম্পের একটি ভিডিও থেকে তার জনপ্রিয় গান ডেঞ্জার জোন সরিয়ে নিতে। ভিডিওটিতে এআই–নির্মিত একটি দৃশ্যে ট্রাম্পকে যুদ্ধবিমান চালিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।
২০২৪ সালে সেলিন ডিওন তার গান মাই হার্ট উইল গো অন ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ জানান। একই বছর বিয়ন্সে তার গান ফ্রিডমের অননুমোদিত ব্যবহারের বিরোধিতা করেন। তবে ট্রাম্পের সমর্থকও আছেন সংগীতজগতে। ভিলেজ পিপল ব্যান্ডের সদস্য ভিক্টর উইলিস দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন এবং তারাইয়ে ট্রাম্প প্রচারসভায় ওয়াইএমসিএ গানটি বাজানোকে সমর্থন করেন। যদিও ব্যান্ডের কয়েকজন অন্য সদস্য এর বিরোধিতা করে আসছেন।
নিচে সংক্ষেপে মূল ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গান ব্যবহার | সাব্রিনা কার্পেন্টারের জুনো |
| ভিডিওর বিষয় | আইস অভিযান |
| হোয়াইট হাউসের মন্তব্য | অবৈধ অপরাধীদের বহিষ্কারে ক্ষমাপ্রার্থনা নয় |
| বিতর্কিত চিত্র | ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টলকে অস্ত্রধারী রূপে দেখানো |
| অন্যান্য শিল্পীর অভিযোগ | কেনি লোগিন্স, সেলিন ডিওন, বিয়ন্সে |
