সামিনা চৌধুরী । বাংলাদেশী সঙ্গীত শিল্পী

সামিনা চৌধুরী একজন বাংলাদেশী জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী। তিনি বেশিরভাগই আধুনিক ও শাস্ত্রীয় গান গেয়েছেন।

তার উল্লেখযোগ্য গানগুলির মধ্যে রয়েছে – জন্ম থেকেই জ্বলছি মাগো, আমার বুকের মধ্যখানে, আমার দুই চোখে দুই নদী, একবার যদি কেউ, কবিতা পড়ার প্রহর, ফুল পথে ফুল ঝরে ।

 

 

সামিনা চৌধুরী । বাংলাদেশী সঙ্গীত শিল্পী

প্রাথমিক জীবন

সামিনা চৌধুরী ১৯৬৬ সালের ২৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন । তার বাবা প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মাহমুদুন্নবী, ফাহমিদা নবী তার বড় বোন। ছোটবেলায় তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় ঢাকার অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজে। তিনি পড়াশোনা করেছেন ইডেন কলেজে, ইংরেজিতে বিএ অনার্স।

কর্ম জীবন

নন্দিত ও অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গানের শিল্পী সামিনা চৌধুরীর সংগীত জীবনের শুরুটা খুব ছােট বেলায়। মূলত বাংলাদেশ টেলিভিশনের নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে তার সংগীত জীবনের পথ চলা শুরু। ১৯৭৭ সালে, ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ুয়া ছােট্ট একটি মেয়ে সামিনা চৌধুরী। সেই বয়সেই নতুন কুঁড়ির সংগীত প্রতিযােগীতায় দেশাত্ববােধক গানে তিনি প্রথম স্থান অধিকার করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ছােট বেলার সেই অর্জন এখনাে তার প্রেরণার উৎস বলে মনে করেন।

 

 

১৯৮১ সালে প্রথম প্লেব্যাকের মাধ্যমে সামিনা চৌধুরীর সংগীত জীবনের গল্পটা শুরু। ১৯৮১ সালে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার প্রথম গান জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো যা “জন্ম থেকে জ্বলছি” চলচ্চিত্রের জন্য গেয়েছিলেন। সেই থেকে একের পর এক সফলতা তার মুঠোবন্দি হয়েছে, তার গাওয়া গানগুলাে পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তার সংগীতে অবদান বাংলা গানকে সমৃদ্ধ এবং যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা।

এর পরে তিনি অডিও জগতে আরও কিছু গান গেয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি “সাত ভাই চম্পা” চলচ্চিত্রের জন্য সাত ভাই চম্পা জাগো রে শিরোনামে গান গেয়েছেন।

তারপর তিনি প্লেব্যাক গায়ক থেকে একটি বিচ্ছেদ গ্রহণ করেন এবং স্টুডিও অ্যালবামের উপর মনোনিবেশ করেন এবং কিছু বিখ্যাত গান সংগীত জগতে যুক্ত করেছেন, যেমনঃ কবিতা পোড়ার প্রহর এসেছে, একবার যদি কেউ ভালোবাসতো, ঐ ঝিনুক ফোঁটা সাগর বেলায় ইত্যাদি।

 

YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 সামিনা চৌধুরী । বাংলাদেশী সঙ্গীত শিল্পী
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

পরবর্তীতে এন্ড্রু কিশোর এর সাথে জুগল হিসাবে “তোমার গরুর গাড়িতে আমি যাবো না” গানের মাধ্যমে আবার প্লেব্যাকে ফিরে আসেন। আমার বুকের মধ্যখানে, দূর দ্বীপবাসিনী, হও যদি ঐ নীলাকাশ, হৃদয়ে লিখেছি তোমারি নাম, আমার মাঝে নেই এখন আমি তার অন্যতম দর্শক প্রিয় গান। ২০০৯ সালে তিনি রবীন্দ্র সংগীতের অ্যালবাম বের করেন। তিনি নিঃস্বার্থ ভালবাসা চলচ্চিত্রে দুইটি গান গেয়েছেন, “যমুনার জল” এবং “স্বপ্ন স্বপ্ন”।

তিনি ২০০৫ সালে এনটিভিতে প্রচারিত ক্লোজআপ ওয়ান সঙ্গীত প্রতিভা প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।এছাড়াও তিনি চ্যানেল আই এর “ক্ষুদে গান রাজ” , এনটিভির “ক্লোজআপ ওয়ান”, মাছরাঙ্গা টেলিভিশন এর “ভালবাসি বাংলাদেশ” এর বিচারক সহ আরও অন্যান্য কিছু আপাতবাস্তব টেলিভিশন অনুষ্ঠানের বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

 

পুরস্কার

সামিনা চৌধুরী বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন। তার অনবদ্য অবদানের জন্য তিনি, সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসাবে জন্য বাংলাদেশ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২০০৬), শ্রেষ্ঠ মহিলা কণ্ঠশিল্পী হিসাবে বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৪) এবং শ্রেষ্ঠ গায়িকা (২০০৫) এর জন্য মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

জনপ্রিয় শিল্পী সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক নকীব খানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সামিনা চৌধুরী। কিন্তু মতের অমিল হওয়ায় তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সামিনা বিয়ে করেন অনুষ্ঠান নির্মাতা এজাজ খান স্বপনকে। সামিনা চৌধুরী অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ’র পরিচালক।

Leave a Comment