বিশ্বসঙ্গীতের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, যেটির সঙ্গে যুক্ত ছিল লাতিন সালসার অসাধারণ গায়ক ও ট্রম্বোনবাদক উইলি কোলন। ৭৫ বছর বয়সে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে কোলন শুধু সালসা গেয়েছেন না, বরং এই жан্রকে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করেছেন এবং শিল্প ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
দীর্ঘদিনের ম্যানেজার পিয়েত্রো কার্লোস ফেসবুকে লিখেছেন, “উইলি কোলন শুধু সালসার সীমানা প্রসারিত করেননি, তিনি এটি এমন মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন যেখানে আগে এটি কখনো পৌঁছায়নি। তাঁর সঙ্গীত শহুরে জীবনের গল্প, সামাজিক বার্তা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত ছিল।”
শৈশব ও সংগীত যাত্রা
উইলিয়াম অ্যান্থনি কোলন ১৯৪৯ সালে নিউইয়র্কের দক্ষিণ ব্রঙ্কসে পুয়ের্তো রিকান অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রঙ্কসের কঠিন পরিবেশে বেড়ে ওঠার মধ্যেও মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ফানিয়া রেকর্ডস-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। প্রতিষ্ঠাতা জনি পাচেকো ও জেরি মাসুচি দ্রুতই তার অসাধারণ প্রতিভা সনাক্ত করেন।
চার দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোলন ৪০টির বেশি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়মিত মঞ্চে পারফর্ম করে গেছেন। তাঁর সৃষ্ট সঙ্গীত শুধুমাত্র বিনোদন ছিল না; এটি একটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক বার্তা বহন করত।
সম্মাননা ও অর্জন
উইলি কোলনকে লাতিন সঙ্গীতের বিশ্বে এক কিংবদন্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলো নিম্নরূপ:
| বছর | অর্জন | প্রতিষ্ঠান / অনুষ্ঠান |
|---|---|---|
| ২০০০ | ইন্টারন্যাশনাল ল্যাটিন মিউজিক হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্তি | ইন্টারন্যাশনাল ল্যাটিন মিউজিক হল অব ফেম |
| ২০০৪ | আজীবন সম্মাননা | দ্য ল্যাটিন রেকর্ডিং একাডেমি |
| ২০১৫ | সর্বকালের ৩০ জন প্রভাবশালী লাতিন শিল্পীর মধ্যে স্বীকৃতি | বিলবোর্ড |
| ২০১৯ | ল্যাটিন সংরাইটার্স হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্তি | ল্যাটিন সংরাইটার্স হল অব ফেম |
উইলি কোলনের ঝুলিতে ৩০ মিলিয়নের বেশি অ্যালবাম বিক্রি, একাধিক প্লাটিনাম রেকর্ড এবং ১১টি গ্র্যামি ও ল্যাটিন গ্র্যামি মনোনয়ন ছিল।
দক্ষিণ ব্রঙ্কসের সংগ্রামময় জীবন থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন পর্যন্ত কোলনের যাত্রা ছিল অনুপ্রেরণামূলক। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের জীবনকে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করেছিলেন, “আমি শুধু সংগীত নিয়েই ভাবতাম।” তার অবদান সালসা শিল্পকে একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত করেছে।
উইলি কোলনের প্রয়াণ শুধু লাতিন সঙ্গীতের জন্য নয়, সারা বিশ্বে সংগীতপ্রেমীদের জন্যও একটি বড় ক্ষতি। তাঁর সুর, তাঁর বার্তা এবং তাঁর শিল্পসম্ভার চিরকাল জীবন্ত থাকবে।
