সিনেমার সংগীতশিল্পীদের অধিকার কেন বঞ্চিত?

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি চলচ্চিত্রে যুক্ত সংগীতশিল্পী ও কলাকুশলীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, চলচ্চিত্র শিল্পে গান সংশ্লিষ্ট শিল্পীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এখনও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেদনে ন্যানসি তথ্য মন্ত্রণালয় ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলচ্চিত্রের গায়ক, গীতিকার, সুরকার এবং সংগীত পরিচালকরা বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-এর প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার বাইরে থাকছেন।

ন্যানসি বলেন, “আমরা চলচ্চিত্রের একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। তবুও বিএফডিসির প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নে আমাদের অবহেলা করা হয়। শিল্পী হিসেবে আমাদের সম্মানজনক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, বিএফডিসিতে সংগীত সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা, বিশ্রাম ও রিফ্রেশমেন্টের স্থান থাকা অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া ন্যানসি জানান, এই আবেদন তিনি এককভাবে নয়, বরং চলচ্চিত্র শিল্পে যুক্ত সকল সংগীতকলাকুশলীর পক্ষ থেকে করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সহযোগিতায় এই শিল্পীরা চলচ্চিত্র শিল্পের পূর্ণাঙ্গ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি এবং প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগীতশিল্পীদের মূল চাহিদাগুলো নিম্নরূপ সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

প্রাপ্য সুবিধাবর্তমান অবস্থাপ্রস্তাবিত ব্যবস্থা
বসার স্থানসীমিত ও অস্বাচ্ছন্দ্যবিএফডিসিতে আলাদা বসার ব্যবস্থা
বিশ্রাম ও রিফ্রেশমেন্টনেইপর্যাপ্ত বিশ্রাম ও খাবারের সুবিধা
স্বীকৃতি ও সম্মানসীমিতপ্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও সম্মানজনক সুযোগ
আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তাআংশিকসমন্বিত সহায়তা প্যাকেজ প্রদান

ন্যানসি বলেন, “আমরা চাই আমাদের কাজের স্বীকৃতি এবং প্রাপ্য সুবিধা উপযুক্তভাবে প্রদান করা হোক। এটি শুধু আমাদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংগীতকলাকুশলীদের সম্পৃক্ততা এবং স্বার্থ সুরক্ষায় ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে চলচ্চিত্র শিল্পে সমন্বয়, উৎপাদনশীলতা এবং সৃজনশীল মানও বৃদ্ধি পাবে।