সুবল দাস ছিলেন একজন বাংলাদেশী সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার। চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তিনি বেতার ও টেলিভিশনের সাথেও যুক্ত ছিলেন। তার সুরকৃত অসংখ্য গান বেতার ও টেলিভিশনের সঙ্গীতশিল্পীরা পরিবেশন করেন। তার সুরকৃত গান গেয়ে অনেক শিল্পী জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি লাভ করেন।
Table of Contents
সুবল দাস । বাংলাদেশী সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার
প্রাথমিক জীবন
সুবল দাসের জন্ম ১৯২৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর। কুমিল্লার ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে তিতাস নদীর পাড়ে কাটে তার শৈশব-কৈশর। তার বাবার নাম রসিক লাল দাস আর মায়ের নাম কামিনী দাস। তার আসল নাম ছিল সুকুমার চন্দ্র দাস। পরবর্তীতে সুবল দাস নামে তিনি সর্বত্র জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
কর্মজীবন
সঙ্গীতের তার হাতে খড়ি ছিল একেবারে শৈশবে। পরিবারের সবাই গানবাজনা ভালোবাসতেন বলেই গানের সাথে তার যোগসূত্র তৈরি হতে সময় লাগেনি। তবে জীবনের শুরুতে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন মূলত যন্ত্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবে। সেতার বাদক হিসেবে ওস্তাদ ইসরাইল খাঁর সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ ইসরাইল খাঁ ছিলেন প্রখ্যাত ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ভাগ্নে। পরবর্তীতে ওস্তাদ খাদেম হোসেন খান, ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁর কাছ থেকে যন্ত্রসঙ্গীতের ওপর তালিম নেন তিনি।
সঙ্গীতের পাশাপাশি এই একই সময়ে ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবেও তিনি আত্মপ্রকাশ করেন। সঙ্গীত এবং ক্রীড়াঙ্গনে যুগপৎ নিজেকে মেলে ধরতেই একসময় তিনি কুমিল্লা থেকে রাজধানী ঢাকাতে চলে আসেন। আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের গোলরক্ষক হিসেবে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে খেলা শুরু করেন।
কিন্তু সঙ্গীতের প্রতি বড় বেশি আগ্রহ থাকায় একসময় ফুটবল খেলা ছেড়ে দেন। ফুটবল খেলা ছেড়ে দিয়ে আত্মনিয়োগ করেন শুধু সঙ্গীতেই। পাকিস্তান আমলে রেডিওতে চাকরি নেন। টেলিভিশনেও সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।
কিন্তু পরবর্তীতে চলচ্চিত্রেই তিনি ঝুঁকে পড়েন বেশি। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিরলসভাবে চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। ড. নচিকেতা ঘোষ, শ্যামল মিত্র, রবিন চট্টপাধ্যয়, হেমন্ত মুখোপাধ্যয়-এর মতো সঙ্গীত ব্যক্তিত্বদের সংস্পর্শে বেড়ে ওঠেন তিনি।
পরিপূর্ণ একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তিনি আত্মপ্রকাশ করেন মূলত ১৯৫৯ সালে। এ বছরে তার সঙ্গীত পরিচালনায় প্রথম মুক্তি লাভ করে ফতেহ লোহানী পরিচালিত চলচ্চিত্র, আকাশ আর মাটি। এফডিসির তত্ত্বাবধানে নির্মিত এটিই ছিল এদেশের প্রথম ছবি।
এজে কারদার পরিচালিত জাগো হুয়া সাবেরা ছবিতে কামাল লোহানীর সাথে তিনি প্রথম কাজ শুরু করেন ১৯৫৭ সালে। এই ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করতে গিইে তার সাথে প্রথম সাক্ষাত ঘটেছিল ভারতের বিখ্যাত গীতিকার গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের।
৬৩ সালে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা করেন মসউদ চৌধুরী পরিচালিত: প্রীত না জানে রীত। এ ছবিটিও সে সময় দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এরপর ৬৫ সালে সঙ্গীত পরিচালনা করেন নজরুল ইসলাম পরিচালিত কাজল চলচ্চিত্রের। ৬৭ সালে সঙ্গীত পরিচালনা করেন ভানুমতি এবং আলীবাবা ছবির। এ ভাবেই নিজের প্রতিভা বিকশিত করে আস্তে আস্তে এগুতে থাকেন তিনি।
’৭০ সালে তার সঙ্গীত পরিচালনায় মুক্তি পায় রফিকুল বারি চৌধুরী পরিচালিত: তানসেন, নজরুল ইসলাম পরিচালিত দর্পচূর্ণ এবং স্বরলিপি এবং রহিম নেওয়াজ পরিচালিত- যোগবিয়োগ সিনোমা। এ সময়ে দারুণ এক উত্থান ঘটে ্রতা। সুরকার সুবল দাস-ই স্বরলিপি ছবিতে রুনা লায়লাকে দিয়ে- গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে…এই গানটিতে প্লেব্যাক করান। স্বরলিপি ছবির সবকটি গানই এখনও সেই আগের মতোই জনপ্রিয় হয়ে আছে।

সুবল দাস ছিলেন সত্যিকার অর্থে মিষ্টি সুরের এক স্রষ্টা। মেলোডিয়াস গানের প্রতি দারুণ রকম দুর্বল ছিলেন তিনি। কেউ মেলোডিয়াস সমৃদ্ধ গান করলে তার অকুন্ঠ প্রশংসা তিনি সবসময়ই করেছেন। তিনি মনে করতেন বাঙালি ঘরানায় মেলোডিয়াস গানের অগ্রদূত হলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
মৃত্যু
সুবল দাস ২০০৫ সালের ১৬ই আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।
