অদ্ভুত সেই ছেলেটি লিরিক্স : অর্থহীন বাংলাদেশের অন্যতম একটি ব্যান্ড। এই ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা এবং দলনেতা সুমন। ১৯৯৯ সালে শুরু হওয়া এই ব্যান্ডের এখন পর্যন্ত ৭টি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। তাদের প্রথম অ্যালবাম ত্রিমাত্রিক প্রকাশিত হয় ২০০০ সালের এপ্রিল মাসে। শুরু থেকেই অত্যন্ত জনপ্রিয় এই ব্যান্ডের সবগুলো অ্যালবামই বেস্ট সেলিং হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের শেষ অ্যালবাম ক্যানসারের নিশিকাব্য প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে।মূলত রক ব্যান্ড হলেও তারা এখন হেভি মেটাল গানও করছে।
Table of Contents
অদ্ভুত সেই ছেলেটি লিরিক্স | Odvut Shei Cheleti lyrics | অর্থহীন | orthohin
শিরোনামঃ অদ্ভুত সেই ছেলেটি
কথাঃ সজীব/সুমন
কন্ঠঃ সুমন/শোভন
সুরঃ সুমন
ব্যান্ডঃ অর্থহীন
অ্যালবামঃ ত্রিমাত্রিক
অদ্ভুত সেই ছেলেটি লিরিক্স
অদ্ভুত সেই ছেলেটি আবার শুরু করল হাঁটা
কালো লম্বা এলোমেলো চুলে চোখ দুটো তার ঢাকা
হাতে তার অ্যাকস্টিক পকেটে হারমোনিকা
কষ্টে ভরা এ জীবনের বহু গান যে তার শোনা
আমাদের এই বাংলাদেশে ছিল তার বাড়ি
কাউকে কিছু না বলে অভিমানে দূর দেশে দিল পারি
পকেটের টাকা শেষ খাওয়া হয়নি কিছু
খিদে কেন ছুটছে শুধু তার পিছু পিছু
অদ্ভুত ছেলেটি শুরু করল গাওয়া
হাতে তার অ্যাকস্টিক পকেটে হারমোনিকা
জোছনায় অজানা পথে চলা
এখানে আছে যে মোর ভালোবাসা
জোছনায় অজানা পথে চলা
এখানে আছে যে মোর ভালোবাসা
একটি বনে ঢুকল সে গাছগাছালিতে ঢাকা
আনমনা হয়ে প্রকৃতি দেখে বিশাল বনে একা
খিদের জালায় অস্থির মন যাবে কী বাড়ি ফিরে
তার চেয়ে জীবন ভালো বন্য প্রাণীর ভিড়ে
অদ্ভুত ছেলেটি শুরু করল গাওয়া
হাতে তার অ্যাকস্টিক পকেটে হারমোনিকা
জোছনায় অজানা পথে চলা
এখানে আছে যে মোর ভালোবাসা
জোছনায় অজানা পথে চলা
এখানে আছে যে মোর ভালোবাসা
পাহাড়ী ঝর্ণা রংধনু বাড়ির কথা ভোলায়
প্রকৃতি বলে গান গেয়ে যাও শুনছি আমি তোমায়
তুলে নিল সে হাতে গিটার অন্য এক সুরে
প্রতিভার কথা জানিয়ে দিল শান্ত প্রকৃতিকে
অদ্ভুত ছেলেটি শেষ হয়না গানটা
ক্ষুধার্ত দেহ থেকে জীবনটা চলে যায়
রয়ে যায় সে সুরটা
জোছনায় অজানা পথে চলা
এখানে আছে যে মোর ভালোবাসা
জোছনায় অজানা পথে চলা
এখানে আছে যে মোর ভালোবাসা
বলছে এ প্রকৃতি যে সুরের রঙে আকা
সেই ছেলেটির সবগুলো গান
হলোনাতো মোর শোনা
বনের একটি শুকনো ফুল নাম না জানা
পাশে ঘুনে ধরা অ্যাকস্টিক ভাঙা হারমোনিকা
হারমনিকা হারমোনিকা হারমোনিকা
Odvut Shei Cheleti lyrics in english
Adbhut shei cheleti abar shuru korlo haata
Kalo lomba elomelo chule chokh duto tar dhaka
Hate taar accoastic pocket e harmonica
Koshte bhora e jiboner bohu gan je taar shuna
La la a…..
Amader ei bangladeshe chilo tar bari
Kauke she na bole obhimane bhindeshe dilo paari
Pocketer taka shesh khawa hoyni kichu
Khide keno chutche shudhu tar pichu pichu
Adbhut cheleti shuru korlo gawa
Haat e tar accoastic pocket e harmonica
Jochonae ojana pothe chola
Ekhane ache je mor bhalobasha (2) ||

Ekti bone dhuklo she gachgachalite Dhaka
Anmona hoye prokiti dakhe bishal bone aka
Khider jalae osthir mon jabe ki bari fire
Tar cheye jibon bhalo onno pranir bhire
Adbhut cheleti ……..||
Pahari jhorna rongbhon pahari kotha bolae
Prokiti bole gaan geye jao shunchi ami tomae
Tule nilo she haat e guitar onno ak shure
Protibhar kotha janiye dilo shanto prokritike
Adbhut cheleti shesh hoyna gaanta
Khudartho deho theke jibonta chole jae
Roye jae she shurta
Jochonae …..||
Bolche e prokriti je shure ronge aka
Shei cheletir shobgulo gaan
Holonato mor shuna
Boner ekti shukno ful naam na jana
Pashe ghune dhora accoastic bhanga harmonica
Harmonica harmonica harmonica ||
ইতিহাস[সম্পাদনা]
- ১৯৯৩: এই বছর সুমন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ফিলিংস ত্যাগ করেন। তিনি একক এলবাম করার পরিকল্পনা করেন। তার ইচ্ছা ছিল ভিন্ন ধারার গান করার। তিনি এমনভাবে একক গান করা শুরু করেন যাতে ব্যান্ডের পরিবেশটা একক গানেও বজায় থাকে। তিনি ফায়সাল এবং রাসেলের সাথে তার প্রথম গান করেন। তার গানে ড্রাম বাজিয়েছিল রুমি।
- ১৯৯৪: সুমন বিভিন্ন ব্যান্ড থেকে আটজন শিল্পী নিয়ে অভিশ্রুতি রেকর্ডিং স্টুডিওতে তার একক এলবাম ‘সুমন ও অর্থহীন’-এর কাজ শেষ করেন। এই এলবামের সবচেয়ে আকর্ষনীয় বিষয় ছিল ‘অর্থহীন’ নামক গানটি। এই গানে বাংলাদেশের আটজন প্রথমশ্রেণীর গীটারবাদক একসাথে গীটার বাজান। গানটিতে আটাশটি গীটারের একক ছিল।
- ১৯৯৭: দীর্ঘ তিন বছর পর এই বছর ‘সুমন ও অর্থহীন’ এলবামটি প্রকাশিত হয়। এলবামটি ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পায়। সমালোচকরাও নতুন ধারার এই গানটির প্রশংসা করেন।
- ১৯৯৮: সুমন নতুন একটি দল গঠন করার পরিকল্পনা করেন। ‘ফেইথ’ ব্যান্ডের টিটি ও সেন্টু তার পরিকল্পনায় সহায়তা করে। আরো কয়েকজন সঙ্গীতশিল্পীকে নিয়ে সুমন ‘সুমন ও অর্থহীন’ নাম দিয়ে ব্যান্ডের কার্যক্রম শুরু করেন।
- ১৯৯৯: টিটি এবং সেন্টু এই বছরের অক্টোবর মাসে নিজেদের ব্যান্ড ফেইথের কাজে সময় দেয়ার জন্য এই ব্যান্ড ত্যাগ করেন। রুমি তার দল ‘দ্য ট্র্যাপ’ ত্যাগ করে সুমনের দলে যোগ দেন। এই বছরই ব্যান্ডের নাম ঠিক হয় ‘অর্থহীন’। কয়েকমাস পর যুবায়ের এবং আদনান দলত্যাগ করেন। এরপরই শোভন গীটারবাদক এবং গায়ক হিসেবে অর্থহীনে যোগ দেন।
- ২০০০: এই বছরই ‘মাকসুদ ও ঢাকা’ ও ব্যান্ডের গীটারিস্ট পিকলু অর্থহীনে যোগ দেন। অর্থহীন এই বছরের এপ্রিলে তাদের প্রথম এলবামের কাজ শুরু করে। শোভন পড়ালেখা জনিত কারণে ব্যান্ড থেকে কিছুসময়ের জন্য অবসর নেয়। তন্ময়ও ব্যান্ড ত্যাগ করে। নিলয় দাসের দল ‘দ্য জিনমস’-এর গীটারিস্ট পনির অর্থহীনে যোগ দেন। এই বছরই পনির দলত্যাগ করেন। ‘উইনিং’-এর গায়ক এবং গীটারবাদক দলে যোগ দেন। এই বছরের শেষের দিকে অর্থহীনে প্রথম এলবাম ‘ত্রিমাত্রিক’ প্রকাশিত হয়। এই এলবামটির জনপ্রিয়তা ছিল ব্যাপক। সুমনের নাম ওয়ারউইকের ‘ফেমাস ইউসার লিস্ট’-এ লিপিবদ্ধ হয়। তিনি প্রথম এশিয়ান সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
- ২০০১: রুমি ও রাসেল দলত্যাগ করে। জলি রজার, সাইকো ডেথ এবং ডেথ রো ব্যান্ডের প্রাক্তন ড্রামবাদক শুভ অর্থহীনে যোগদান করে। অর্থহীন জি-সিরিজের পৃষ্ঠপোষকতায় এই বছরের ১৭ নভেম্বর তাদের দ্বিতীয় এলবামের কাজ শুরু করে। ডিসেম্বরের ১০ তারিখে এলবামটি প্রকাশিত হয়। এই এলবামের নাম ছিল ‘বিবর্তন’। ‘ত্রিলয়ের’ কীবোর্ড-বাদক অপু অতিথি সদস্য হিসেবে অর্থহীনে কাজ শুরু করেন। উল্লেখ্য যে, বিবর্তন বাংলাদেশের ব্যান্ডসঙ্গীতের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল এলবাম।
- ২০০২: ‘ক্রনিক’-এর ইমতিয়াজ অতিথি গায়ক এবং রিদম গীটারবাদক হিসেবে অর্থহীনে যোগ দেন। এই বছরের ২৯ নভেম্বর অর্থহীন তাদের তৃতীয় এলবাম ‘নতুন দিনের মিছিলে’ প্রকাশ করে। এই এলবামে রয়েছে ‘সাতদিন’ নামের ২৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ড এর একটি প্রগ্রেসিভ মেটাল গান। এটি বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের ইতিহাসে দীর্ঘতম গান। প্রকাশিত ক্যাসেট এর বি পিঠে এই একটি গানই ছিল।
- ২০০৩: ইমতিয়াজ এবং অপু দলত্যাগ করে। অর্থহীন অতিথি সদস্য না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ‘ডি.এন.এ’-এর শিশির অর্থহীনে কীবোর্ড এবং গীটারবাদক হিসেবে যোগদান করে। এই বছরই ব্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। সুমন অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুমন আগের মত আর গান করতে পারবেন না বলেও শঙ্কা দেখা দেয়। সুমন মেটালসঙ্গীত গাওয়া কমিয়ে দেন। অর্থহীন তাদের নতুন গায়ক হিসেবে ‘ক্রাল’ ব্যান্ডের রাফাকে দলে নেয়। এই বছরই অর্থহীনের নতুন এলবাম ‘ধ্রুবক’ প্রকাশিত হয়
- ২০০৪: সুমনের অসুস্থতার কারণে ব্যান্ডের প্রায় সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এই বছরই সুমন এম.টি.ডির (মাইকেল টবিয়াস ডিজাইন) অধিভুক্ত হন।
- ২০০৫: সুমনের চোয়ালের হাড়ে মারাত্নক সমস্যা দেয়। চিকিৎসক বলেন যে, সুমনের আগের মত গান করতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম। অর্থহীনের সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সুমন এবং বাকী সদস্যরা অর্থহীন ভেঙ্গে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সুমন সুস্থ হয়ে উঠতে থাকেন।
- জুন: সুমন আবার গান গাওয়া শুরু করেন এবং ওয়ারফেইজের গীটারবাদক কমলকে অর্থহীনে অতিথি সদস্য হিসেবে বাজানোর জন্য প্রস্তাব করেন। কমল এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন। কয়েকমাস পরেই কমল অর্থহীনে স্থায়ী সদস্য হিসেবে যোগ দেন। অর্থহীনে সকল কার্যক্রম আবার শুরু হয়। অর্থহীন তাদের পঞ্চম এলবামের কাজ শুরু করে।
- ২০০৮: ২০০৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অর্থহীনের ৫ম অ্যালবাম অসমাপ্ত-১ প্রকাশিত হয়। ৫ বছর পর এটি ব্যান্ডের নতুন অ্যালবাম।
- ২০১৫: ৬ অক্টোবর অর্থহীন ছেড়েছেন রাফা এবং অর্থহীনে যোগ দিয়েছেন মার্ক ডন।
- ২০১৮: এ বছর বাংলাদেশ ব্যান্ড মিউজিক ফ্যানস কমিউনিটির গেট টুগেদারে মহান ফাহিম কে অর্থহীনের নতুন সদস্য হিসেবে ঘোষণা করেন ব্যান্ডের কর্ণধার বেজবাবা সুমন।