সোনার খাঁচা ছেড়ে পাখি [ Shonar khacha chere pakhi ]

সোনার খাঁচা ছেড়ে পাখি –  গানটি একটি বাউল গান। । সাধারণত বাউলেরা যে সংগীত পরিবেশন করে তাকে বাউল গান বলে।বাউল গান বাউল সম্প্রদায়ের সাধনসঙ্গীত। এটি লোকসঙ্গীতের অন্তর্গত। বাউলসংগীত আমাদের লোকজ ঐতিহ্যের একটি অন্যতম উপাদান।

 

 

সোনার খাঁচা ছেড়ে পাখি [ Shonar khacha chere pakhi ]

পাখি যাবে উড়িয়া, আজ বাদে কাল উড়বে পাখি,
কেউ জানেনা কয় দিন বাকি. পাখিরে………
সোনার খাচা ছেড়ে, পাখি যাবে কোন দেশে।।
আদর করলাম সারা জনম,
তবু নাহি চিনতে পারলাম রে,
নিঠুর পাখি দেয়না তার পরিচয়।।
তবু আমি সারা জনম ঘুরি তার মায়ায়।।
পাখির সোকে ঝরে আখি,
তবু দেখা দেয়না পাখি রে,
নিঠুর পাখির মনে ছলনা।।
তবু পাখির জন্য আমার অন্তরে যন্ত্রনা।।

বাউলসঙ্গীতঃ

সোনার খাঁচা ছেড়ে পাখি একটি বাউল সংগীত সাধারণত বাউলেরা যে সংগীত পরিবেশন করে তাকে বাউল গান বলে। সোনার খাঁচা ছেড়ে পাখি একটি বাউল গান।  বাউল শিল্পী বা বাউল সাধক বা বাউল একটি বিশেষ ধরণের গোষ্ঠী ও লোকাচার সঙ্গীত পরিবেশক, যারা গানের সাথে সাথে সুফিবাদ, দেহতত্ত্ব প্রভৃতি মতাদর্শ প্রচার করে থাকে। বাউল সাধক বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করে থাকে। বাউল গান পঞ্চবিংশ শতাব্দীতে লক্ষ্য করা গেলেও মূলত কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের গানের মধ্য দিয়ে বাউল মত পরিচিতি লাভ করে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের নিকট। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া-পাবনা এলাকা থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম-বোলপুর-জয়দেবকেন্দুলি পর্যন্ত বাউলদের বিস্তৃতি। বাউলদের মধ্যে গৃহী ও সন্ন্যাসী দুই প্রকারই রয়েছে। বাউলরা তাদের গুরুর আখড়ায় সাধনা করে।

বাউলরা তাদের দর্শন ও মতামত বাউল গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে। বাউল সাধকদের সাধনার মাধ্যম হচ্ছে গান। সাধকের কাছে সাধন ভজনের গূঢ়তত্ত্ব প্রকাশ পায় গানের মাধ্যমে। প্রত্যেক মানুষের অন্তরে যে পরম সুন্দর ঈশ্বরের উপস্থিতি, সেই অদেখাকে দেখা আর অধরাকে ধরাই বাউল সাধন-ভজনের উদ্দেশ্য। বাউলের ভূখণ্ড তার দেহ, পথপ্রদর্শক তার গুরু, জীবনসঙ্গী নারী, সাধনপথ বলতে সুর, আর মন্ত্র বলতে একতারা। ভিক্ষা করেই তার জীবনযাপন।

Leave a Comment