বাংলাদেশের ইন্ডি রক ব্যান্ড সোনার বাংলা সার্কাস দীর্ঘ বিরতির পর গত মাসে নতুন দ্বৈত স্টুডিও অ্যালবাম নিয়ে ফিরেছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত “হায়েনা এক্সপ্রেস” এর পর ব্যান্ডটি প্রায় তিন বছর ধরে নতুন সঙ্গীত তৈরি করছিল। নতুন অ্যালবাম দুটি হলো “মহাশোশান ১” এবং “মহাশোশান ২”, যেখানে মোট ১৭টি গান অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি গান শোনার পর গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করে, যা ব্যান্ডের স্বতন্ত্র শৈলীর পরিচয় বহন করে—উদ্বুদ্ধ, চিন্তাজাগানো এবং কখনও কখনও অস্বস্তিকর লিরিক্সের মাধ্যমে।
অ্যালবামের সঙ্গীতের মূল কনসেপ্ট ব্যাখ্যা করে সোনার বাংলা সার্কাসের প্রোবার রিপন বলেন, “এই অ্যালবামের জন্য প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে কারণ ১৭টি গান এবং জটিল আরেঞ্জমেন্ট আমাদের সময় নিল।” আগের অ্যালবাম “হায়েনা এক্সপ্রেস” মূলত গিটার, কিবোর্ড, বেস এবং ড্রামসের ওপর ভিত্তি করলেও, “মহাশোশান” অ্যালবামে ব্যবহার হয়েছে ডহল, বেহালা, ভায়োলিন সহ বহু বাদ্যযন্ত্রের স্তরসমূহ।
গিটারিস্ট সেথ প্যান্ডুরাঙ্গা ব্লামবার্গ (পান্ডু), যিনি বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকছেন, বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গীতের গভীরতা নদীর মতো। এর ফিলোসফি, পারফর্মার এবং সুর আমাদেরকে প্রভাবিত করে। আমাদের ব্যান্ডে এটি প্রতিফলিত হয়।”
ব্যান্ডের কনসার্ট এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অ্যালবামের কাজকে ধীর করে। মাসে প্রায় ১২টি লাইভ শো এবং অন্যান্য ফ্যাক্টরগুলোর কারণে অ্যালবামটি ধীরে সম্পূর্ণ হয়েছে।
সোনার বাংলা সার্কাসকে অন্যান্য ব্যান্ড থেকে আলাদা করে তাদের ‘নন-ট্র্যাডিশনাল’ শৈলী। রিপন ব্যাখ্যা করেন, “আমাদের সাইকেডেলিক অ্যাপ্রোচ আমাদের অন্যদের থেকে ভিন্ন করে। এটি যেন লিরিক্যাল মিউজিক থিয়েটার বা অপেরা।”
কিবোর্ডিস্ট সাআদ চৌধুরী, যিনি বাংলা মাতৃভাষা না হলেও ব্যান্ডের সঙ্গে গভীর সঙ্গীতিক সংযোগ অনুভব করেন, বলেন, “সঙ্গীত আমাদের সংযোগের মূল শক্তি। লিরিক্সের অর্থ পুরোপুরি না বুঝলেও, সঙ্গীতিক অনুভূতি সবসময় উপস্থিত থাকে।”
বেসিস্ট শাকিল হক যোগ করেন, “পান্ডু, রিপন ও সাআদের সম্পর্ক ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের, যা ব্যান্ডের কেমিস্ট্রিতে স্বাভাবিকভাবে প্রতিফলিত হয়।”
অ্যালবামের সঙ্গীত দর্শন তুলে ধরতে শাকিল বলেন, “জন্ম এবং মৃত্যু জীবনের অবশ্যম্ভাবী ঘটনা। আমরা যা করছি তা হলো এই অভিজ্ঞতার সর্বজনীনতা বোঝানো।”
নিচের টেবিলে নতুন অ্যালবামের সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| অ্যালবাম | ট্র্যাক সংখ্যা | প্রকাশকাল | মূল বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| মহাশোশান ১ | ৮ | ২০২৬ | বহু-স্তরযুক্ত বাদ্যযন্ত্র, গভীর লিরিক্স |
| মহাশোশান ২ | ৯ | ২০২৬ | সাইকেডেলিক ফাংক, সামাজিক ও দার্শনিক থিম |
ব্যান্ডের দর্শন হলো বাস্তবতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা—সত্য, অস্বস্তিকর এবং কখনও কখনও চিন্তাজাগানো। তারা বিশ্বাস করেন, প্রযুক্তি বা AI কোনোভাবেই মানুষের সংবেদন এবং লাইভ পারফরম্যান্স প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
সোনার বাংলা সার্কাসের এই দ্বৈত অ্যালবাম শুধু সঙ্গীত নয়, এটি চিন্তাশীল, সাইকেডেলিক এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন একটি অভিজ্ঞতা, যা বাংলাদেশি সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে।
