স্পটিফাইয়ের নতুন অ্যালগরিদম ও শ্রোতাদের বয়সের বিভ্রান্তি: আনন্দের পাশাপাশি নৈতিক বিতর্ক

সঙ্গীত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই তাদের বার্ষিক র‍্যাপড ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শ্রোতাদের গানের রুচি অনুযায়ী একটি ‘লিসেনিং এজ’ বা শোনার বয়স নির্ধারণ করে দিচ্ছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনন্দের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। এই ফিচারটি মূলত শ্রোতাদের সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের তাদের গানের পছন্দের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট বয়সের কোঠায় ফেলে দেয়। স্পটিফাইয়ের মতে, এটি একটি কৌতুকপূর্ণ অনুমান যা ‘রেমিনিসেন্স বাম্প’ বা অতীতের স্মৃতি রোমন্থন করার প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। অ্যালগরিদমটি ব্যবহারকারীর শোনার ইতিহাস পরীক্ষা করে এবং একই প্রজন্মের অন্যান্য শ্রোতাদের সঙ্গে তুলনা করে এই বয়সটি নির্ধারণ করে।

তবে এই ফিচারটি অনেক ব্যবহারকারীর জন্য বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ৩৭ বছর বয়সী মার্ক মর্গান দেখেছেন তার গানের রুচি ৭২ বছর বয়সীদের মতো। তিনি ধারণা করেছেন, ১৯৭০ সালের লিন্ডা রনস্ট্যাডের গান শোনার ফলেই এমনটি হয়েছে। তিনি বলেন, এটি হয়তো মানুষকে কিছুটা কম আধুনিক বা ‘কুল’ অনুভব করায়, তবে তিনি গানটি শুনেছিলেন একটি জনপ্রিয় টিভি সিরিজের কারণে। অন্যদিকে, মালভার্ন থেকে ৬৭ বছর বয়সী জন হাউসের শোনার বয়স এসেছে মাত্র ১৭, কারণ তিনি নিয়মিত নতুন গান শোনেন। বার্কশায়ারের জন পোর্টার এবং তার মেয়ে বেথানের ক্ষেত্রে ঘটনাটি ছিল আরও চমকপ্রদ। ৬০ বছর বয়সী বাবার গানের বয়স এসেছে ২১, আর ২১ বছর বয়সী মেয়ের বয়স দেখানো হয়েছে ৫৯। এসব উদাহরণ প্রমাণ করে যে স্পটিফাইয়ের ডেটা সায়েন্স বা বিজ্ঞানের ভিত্তি খুব একটা গভীর নয়, বরং এটি মানুষকে তাদের ফলাফল শেয়ার করতে উৎসাহিত করার একটি কৌশল। ডিজিটাল মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ ট্রয় ওসিনফ মনে করেন, মানুষ নিজেদের নিয়ে আলোচনা করতে পছন্দ করে বলেই এই ক্যাম্পেইন গত এক দশকের সেরা মার্কেটিং কৌশলে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের শ্রোতাদের পছন্দের শীর্ষে থাকা শিল্পীদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

র‍্যাঙ্কিংশিল্পী / গানবিবরণ
শীর্ষ শিল্পী ১টেইলর সুইফটটানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষে
শীর্ষ শিল্পী ২ড্রেকজনপ্রিয়তায় দ্বিতীয়
শীর্ষ শিল্পী ৩সাবরিনা কার্পেন্টারজনপ্রিয়তায় তৃতীয়
শীর্ষ শিল্পী ৪দ্য উইকেন্ডজনপ্রিয়তায় চতুর্থ
শীর্ষ গানঅর্ডিনারিশিল্পী: অ্যালেক্স ওয়ারেন

স্পটিফাইয়ের এই মার্কেটিং সাফল্যের পাশাপাশি একটি বিতর্কিত দিকও সামনে এসেছে। ‘আনর‍্যাপড’ নামে একটি পাল্টা ক্যাম্পেইন চলছে, যা স্পটিফাইয়ের কিছু নৈতিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে প্ল্যাটফর্মটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি গানের আধিক্য এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর বিজ্ঞাপন প্রচারের সমালোচনা করা হচ্ছে। আইসিই অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বিতাড়িত করার কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকার কারণে অনেক প্রতিবাদ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। স্পটিফাই দাবি করেছে যে এই বিজ্ঞাপনগুলো তাদের নীতিমালার বিরোধী নয় এবং এগুলো মার্কিন সরকারের একটি বিশাল প্রচারণার অংশ। তারা আরও জানিয়েছে যে ব্যবহারকারীরা থাম্বস আপ বা ডাউনের মাধ্যমে এই বিজ্ঞাপনগুলো নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান। তবে এই বিতর্ক স্পটিফাইয়ের আনন্দদায়ক ফিচারের ওপর কিছুটা হলেও ছায়া ফেলেছে।